বাঘায় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১; সময়: ৯:০১ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাঘা : মায়ের ভাষার মান রাখতে সেদিন যারা রাজপথে ছিলেন, সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বার, তাদের অনেকে জীবনের চিরন্তন পরিণতি মেনে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেছেন। অন্যরা বয়সের ভারে নুব্জ্য। কিন্তুু তাদের সেই আত্মত্যাগ, সেই বীরত্বের কথা ভুলেনি কৃতজ্ঞ নতুন প্রজন্ম। করোনা মহামারি উপেক্ষা করে বাংলা মায়ের শ্রেষ্ঠ সেই সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে ফুল হাতে শহীদ মিনারে ছুটে যায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজারও মানুষ।

রোববার রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা ফিরে গেছেন আপন গন্তব্যে। সকালে শাহদৌলা কলেজ ও কয়েকটি স্থানে প্রভাতফেরীসহ ব্যক্তি উদ্যোগেও দিবসটি পালন করা হয়েছে। এতে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সীরা অংশ নিয়েছেন। লাল-সাদা-হলুদ-বেগুনি কত বাহারি রঙের থোকা থোকা ফুলের স্তবকে ছেয়ে যায় শহীদ মিনার।

উপজেলা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, উপজেলা প্রশাসন. উপজেলা পরিষদ, রাজনৈতিকদল, পৌরসভা, পুলিশ প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বাঘা প্রেস ক্লাব।

যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন লাভলুসহ ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহি অফিসার শাহিন রেজাসহ দপ্তর প্রধান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুলসহ অধ্যক্ষ নছিম উদ্দীন, সিরাজুল ইসলাম মন্টু, ওয়াহিদ সাদিক কবীর, মাসুদ রানা তিলু, পৌর আ’লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস, মামুন হোসেন, সাবেক নেতা কামাল হোসেন ও আ’লীগের সহযোগী সংগঠন, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলামসহ পুলিশ ফোর্স, মুক্তিযোদ্ধা, বাঘা পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টুস কাউন্সিলর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠন, বাঘা প্রেসক্লাব। পুষ্পস্তবক অর্পণশেষে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়।

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে সকালেও ফুলে ফুলে ভরে যায় শাহদৌলা সরকারি কলেজ শহীদ মিনার। সেখানে ভাষা বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অনেকে। মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য সাবেক মেয়র ও জেলা আ’লীগের সদস্য আক্কাছ আলীর নের্তৃত্বে শহীদ মিনারে গিয়ে আত্মত্যাগকারীদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হাজারো জনতা। কৃতজ্ঞতায়, ফুল দিয়ে স্মরণ করেছেন ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের।

শহীদ মিনারে সরেজমিনে দেখা যায়, কেউবা ফুলের তোড়া, কেউবা একটি ফুল, আবার কারো হাতে একটি পতাকা শোভা পাচ্ছে। তবে সবার মুখেই ধ্বনিত হচ্ছিল বিষাদমাখা একুশের সেই চিরচেনা গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।

  • 26
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে