রাজশাহী মেডিকেলে অসুস্থ শিশুদের ভিড়

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২১; সময়: ২:৩০ pm |

তারেক মাহমুদ : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে চিকিৎসকদের কাছে ভিড় করছে অভিভাবকরা। রোববার ও সোমবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি অভিভাবক তাদের অসুস্থ শিশুদের নিয়ে সেবা নিতে এসেছেন এই হাসপাতালটিতে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, শীতে হাসপাতালের বহির্বিভাগে শিশু রোগির সংখ্যা বেড়েছে। অসুস্থ শিশুদের বেশির ভাগই ঠান্ডা, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে আসছেন। মোট আক্রান্তের অর্ধেক নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায়।চাঁপাইনবাগঞ্জের থেকে ৬ মাসের শিশু তাসনিমকে নিয়ে এসেছেন, আরিফা নামের এক নারী। সে শিশুর খালা। তিনি জানান, কয়েকদিন থেকেই তাসনিমের জ্বর-ঠান্ডা, কোনোভাবেই থামছে না। উপজেলাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেখানো হয়েছে। ওষুধ খেয়েও তার সমস্যা কমছে না। রামেক হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসক জানালেন বাচ্চার নিউমোনিয়ার লক্ষণ রয়েছে।

নওগাঁ থেকে দুই বছরের শিশু শিফাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন তার বাবা-মা। তারা জানান, বেশ কয়েকদিন থেকেই তাদের বাচ্চার এই সমস্যা। স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে দেখানোর পরে ওষুধ খাচ্ছিলো শিশুটি। কিন্তু সমস্যা বেশি হওয়ায় তারা রামেক হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। চিকিৎসক দেখে জানালেন শিফার নিউমোনিয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। শিফাকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়েছে।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে শিশু ইউনিটে গত ডিসেম্বর মাসে শিশুরোগি চিকিৎসা নিয়েছে ৪ হাজার ৩৪৯ জন। প্রতিদিন দুই শতাধিক রোগি চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ১০০ থেকে ১১০ জন রোগি ছিলো নিউমোনিয়া আক্রান্ত। শূন্য থেকে চার বছরের শিশুদের সংখ্যা বেশি। হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসক আরপি (শিশু) ডা. মু. সুসাররাত সুলতানা জানান, প্রতিদিন দুই শতাধিক শিশু বহির্বিভাগের সেবা নিতে আসছে। এই শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগ শিশু নিউমোনিয়ায় ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত।

রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বহির্বিভাগে যে সব রোগি আসে তাদের সমস্যা বেশি হলে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। প্রতিদিন ৯০ থেকে ১শো শিশু নতুন করে ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। কিন্তু কিছু দিন আগে ভর্তিরত শিশু ছিলো ৬০ থেকে ৭০ জন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. বেলাল হোসেন জানান, এখন করোনার সময় চলছে। তবে করোনা আক্রান্ত রোগি তেমন নেই। শীত বাড়ার সাথে সাথে আমাদের বহির্বিভাগ থেকে ভর্তিরত শিশু রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এখন প্রতিদিন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ৮০ জনের উপরে শিশুরোগি ভর্তি হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই আমাদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। যথেষ্ট ওষুধ রয়েছে- আমরা প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছি। বেডের কিছু সমস্যা আছে। তবে হাসপাতালে আরেকটি শিশু বিভাগ হচ্ছে তা হলেই এই সমস্যা কেটে যাবে। তিনি আরো জানান, এখন ঠান্ডায় ছোট বাচ্চাকে বাইরে নিয়ে বের হওয়া যাবে না।

হালকা কুসুম পানি নিয়ে গোসল ও স্বাস্থসম্মত খাবার খাওয়াতে হবে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, শীত বাড়ার সাথে সাথে হাসপাতালের শিশু বিভাগে যথেষ্ট রুম হিটার দেয়া হয়েছে। বারান্দায় যেন বাতাস প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য পর্দা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। সার্বিকভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।

  • 126
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে