আড়ানীতে বেপরোয়া মেয়র প্রার্থী মুক্তার

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২১; সময়: ১:৩৮ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর আড়ানীর পৌর মেয়র ও আসন্ন নির্বাচনে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী মুক্তার আলীর কুখ্যাতি তুচ্ছ কারণে সাধারণ মানুষকে মারধর ও নির্যাতন করা।

করোনাকালে হতদরিদ্র দুই ত্রাণপ্রার্থীকে মারধর করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি। তখনও অজ্ঞাত খুঁটির জোরে তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ মুক্তারের বিরুদ্ধে নতুন কিছু নয়। ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। বেপরোয়া মুক্তারের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না তার ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে। আতঙ্কে থাকেন আড়ানীর মানুষ।

শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী থেকে পৌর নির্বাচনের খবর সংগ্রহ করতে গেলে আড়ানীতে মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন মাহফুজুর রহমান রুবেল ও দীপ্ত টিভির ইসলাম উদ্দিনের ওপর হামলা করে মুক্তার বাহিনীর ক্যাডাররা। পিটিয়ে তাদের আহত করা হয়। একই সময়ে জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক বিপাশা খাতুনসহ নারী কর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

এলাকাবাসী ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এত কিছুর পরও পুলিশ শনিবার পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। মুক্তার বাহিনীর ক্যাডার মিলন, সেলিম, বিদ্যুৎ, রাজন, রাজু ও ফারুকের বিরুদ্ধে বাঘা থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। যদিও বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলামের দাবি তিনি কোনো অভিযোগ পাননি।

তবে আড়ানী পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদ অভিযোগে বলেছেন, এত বড় ঘটনার পরও মুক্তার বাহিনীর ক্যাডারদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মুক্তারের ক্যাডাররা নৌকা প্রতীকের কর্মীদের ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলা করছে। তাদের নির্বাচনী মাঠে নামতে দেয়া হচ্ছে না। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। প্রচারে বাধা দিচ্ছে। তিনি লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রশাসন নির্বিকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মেয়র হওয়ার পর থেকে মুক্তার আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। একসময়ের গরুর হাটের টোল আদায়কারী মুক্তার এখন পৌরসভার টিয়াডাপাড়ায় বানিয়েছেন আলিশান বাড়ি। প্রশাসনের প্রশ্রয়ে তিনি ভয়ংকর অরাজক পরিস্থিতি ও একের পর এক অপকর্মে জড়িয়েছেন।

আর এ কারণে দল তাকে এবার মনোনয়ন দেয়নি। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা শহীদুজ্জামান শাহীদকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিলেও মুক্তারের ক্যাডার বাহিনীর কারণে তিনি আড়ানীতে ঠিকমতো প্রচার চালাতে পারছেন না। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহীদের অভিযোগ-মুক্তার বাহিনী আড়ানীতে নৈরাজ্য কায়েম করেছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৫ এপ্রিল পৌরসভার মাসিক সভায় ১২ জন কাউন্সিলর মুক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি সহায়তা কর্মসূচির বিপুল অর্থ লোপাটের অভিযোগ তোলেন। এ সময় মুক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে এক কাউন্সিলরকে মারধর করেন। কাউন্সিলররা একযোগে মুক্তারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করেন। অথচ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়র মুক্তার বলেন, তাকে ফাঁসাতে স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে দলের একটি অংশ সক্রিয়। অতীতের ঘটনাও তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি তার। দলের লোকেরাই তার বদনাম করছেন। জনগণ তাকে ভালো বাসেন। নৌকার ভরাডুবি বুঝতে পেরে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

  • 121
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে