রাজশাহীতে পদ্মার বুকে রাস্তা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২১; সময়: ৪:৫৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য আবারো নদীর মধ্য দিয়েই রাস্তা নির্মাণ করছেন রাজশাহী নগরীর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এক আওয়ামী লীগ নেতা। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলী নগরীর তালাইমারী এলাকা দিয়ে এই রাস্তা নির্মাণ করছেন। তিনি সোমবার গভীর রাতে শ্রমিক দিয়ে পদ্মার বুকে রাস্তা নির্মাণের কাজ করান।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুল হাসানের নেতৃত্ব পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তালাইমারি এলাকায় বালু উত্তোলন ও পদ্মার বুকে রাস্তা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

মাহামুদুল হাসান বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দেয়া বালুমহালের বাইরে তালাইমারি এলাকা। এছাড়াও ইজারা দেয়া ‘দিয়াড়খিদিরপুর’ ও ‘চরশ্যামপুর’ বালুমহাল থেকে শুধুমাত্র শ্যামপুর এলাকা দিয়ে বালু উত্তোলনে নির্দেশনা রয়েছে। সে নির্দেশনা অমান্য করে তালাইমারি এলাকা দিয়ে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের জন্য পদ্মার বুকে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেখানে বালু উত্তোলন ও রাস্তা নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

রজব আলী এই বছর রাজশাহীর ‘দিয়াড়খিদিরপুর’ ও ‘চরশ্যামপুর’ বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু তিনি বালু উত্তোলন করছেন ইজারা নেওয়া বালুমহালের ৬/৭ কিলোমিটার দূরে তালাইমারি এলাকায় কাজলা মৌজা। দুটি ড্রেজিং মেশিন দিয়ে সেখনে বালু তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ আগে গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের দিকে সেখানে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন ও পদ্মার বুকে রাস্তা নির্মাণ কাজ করেন এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তা সরিয়ে নেয়।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, রাজশাহী নগরের তালাইমারী ঘাট থেকে খানিকটা দূরে পদ্মা নদীর চর জেগেছে। ওই চরের পর (দক্ষিণে) নদীর মূল ধারা প্রবাহিত। ওই চরে ড্রেজিং করে বালু মজুদ করা হচ্ছে। সেখান থেকে সরাসরি ট্রাকে করে বালু আনতেই নদী ভরাট করে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।

রাস্তা তৈরি করতে সোমবার গভীর রাতে নদীর বাঁ তীর থেকে ইট ও কংক্রিটের বর্জ্য ফেলাসহ রাস্তা তৈরীর কাজ করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয় কয়েকজন বলেন, গত বছর একইভাবে নদী ভরাট করে রাস্তা করা হয়েছিল। ওই সময় এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীরা প্রতিবাদে সোচ্চার হন। এছাড়া স্থানীয় এক ব্যক্তির করা রিটে হাই কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসন তালাইমারী ঘাট দিয়ে বালু তোলা বন্ধ করে দিয়েছিল। ইজারাদারকে রাস্তা অপসারণ করে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

ইজারা নেওয়া স্থান থেকে বালু না তুলে তালাইমারী থেকে কেন তুলছেন প্রশ্ন করা হলে বালু মহালের ইজারাদার ওয়ার্ড কাউন্সিলর রজব আলী দাবি করেন, হাইকোটে রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে যে কোন স্থান থেকে বালু তোলার আদেশ পেয়েছে। সেই আদেশ বলে তালাইমারি এলাকায় বালু উত্তোলন ও চর থেকে বালু তুলে নিয়ে আসার জন্য ওই রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। তবে হাইকোটের আদেশের অফিসিয়াল কপি এখনো আসেনি। আমাদের কাছে যে কপি রয়েছে সেটি জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

  • 916
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে