বাগমারায় মাতৃত্বকালীন ভাতা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৯, ২০২০; সময়: ৪:২৭ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় দরিদ্র নারীদের মধ্যে মাতৃত্বকালীন ভাতা বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঝিকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ফৌজদারের বিরুদ্ধে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ফৌজদার তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তথ্য প্রমান সঠিক হলে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার মাতামাম মাহমুদা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত হতদরিদ্র নারীদের মাঝে ৫১টি কার্ড বিতরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়। প্রকৃত মাতৃত্বকালীন নারীদের মাঝে বিতরণ না করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ফৌজদার তার নিজের পছন্দমত নারীদের মাঝে সুবিধা নিয়ে বিতরণ করেন। এছাড়াও অন্য ইউনিয়ন পরিষদে বসবাসকারী মহিলাদের নাম তার নিজ ইউনিয়নে অন্তরভুক্ত করে সেখান থেকে সুবিধা ভোগ করেন বলে এলাকার লোকজন জানান। যার কারনে এলাকার একাধিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নারীদের তিনি বাদ দেন।

নাম জানাতে অনিচ্ছুক ঝিকরা ইউনিয়নের প্রবীন একাধিক ব্যক্তি স্থানীয় প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, নিজ ইউনিয়নের মাতৃত্বকালীন নারীদের বাদ রেখে তিনি সুবিধার মাধ্যমে অন্য ইউনিয়নের নারীদের মাতৃত্বকালীন ভাতা করে দেন। উপজেলা সদ্য বদলিকৃত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার যোগসাজসে এমন ধরনের কর্মকান্ড করেছেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

অনুসন্ধ্যানে দেখা গেছে, উপজেলার দ্বীপপুর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামে বসবাসকারী ফজলুর রহমানের কন্যা জীবন নেছার বিয়ে হয়েছে উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের আব্দুল হান্নানের সাথে। অথচ ঝিকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ফৌজদার সুবিধা নিয়ে তাকে তার ইউনিয়নের বারুইপাড়া গ্রামে বসবাসকারী হিসেবে টাকা উত্তোলনের ডাটাবেইজে দেখানো হয়েছে। একই ভাবে মাড়িয়া ইউনিয়নের পয়েশঘোষ গ্রামে বসবাসকারী আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী শাহানারা খাতুনকে দেখানো হয়েছে তার নিজ ইউনিয়নে। চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ফৌজদারের কর্মকান্ডে এলাকার লোকজনের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ঝিকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ফৌজদার তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে প্রথমে চটে যান। পরে তিনি বলেন, তার জানার বাহিরে এ গুলো হলে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার মাতামাম মাহমুদা বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। তবে বিষয়টির খোঁজ নিয়ে তিনি ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে