রাজশাহীতে পাখির সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শত্রুতা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২০; সময়: ১১:১০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত কয়েক বছর ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরের কড়ই গাছগুলোতে নির্ভয় আবাস ছিল শামুকখোল, পানকৌড়িসহ নিশি বকের। সেই আবাসেই এবার করাত চালাল রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাখিদের তাড়াতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের কয়েকটি বড় কড়ই গাছের ডালপালা ছেঁটে দেন হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী।

তাদের অভিযোগ, কোনো একটি পাখি কড়ই বৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা একজন কর্মকর্তার গায়ে বিষ্ঠা ফেলে। অভিযোগ পেয়েই সোমবার সকালের দিকে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী কড়ই গাছগুলোর ডালপালা ছেঁটে দিতে নির্দেশ দেন। কর্মীরা নির্দেশ পেয়েই গাছের ডালপালা ছাঁটতে শুরু করেন। তবে পাখিপ্রেমী মানুষদের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে কিছু ডালপালা আপাতত রক্ষা পেয়েছে।

রামেক হাসপাতালের একজন সহকারী পরিচালক বলেন, গাছে আশ্রিত পাখিদের বিষ্ঠা পড়ছে সেবা দিতে ও নিতে আসা লোকজনের গায়ে। এছাড়া হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা হওয়ায় গাছগুলো কাটতে বলেন পরিচালক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কড়ই বৃক্ষের ডালপালা ছাঁটা শুরু হলে পাখিপ্রেমী মানুষ ও গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে বাধা দেন। পাখিপ্রেমীদের হাসপাতাল চত্বর থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডাও হয়। সাধারণ মানুষও প্রতিবাদ করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে গাছগুলোর সব ডালপালা না কেটেই ফিরে যান হাসপাতালের কর্মীরা।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, হাসপাতাল এলাকা কখনো পাখির অভয়ারণ্য হতে পারে না। এটি হাসপাতালের কনসেপ্টের সঙ্গে যায় না। পাখির বিষ্ঠায় হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সমস্যা হচ্ছে। এ কারণেই জরুরি বিভাগ ও শৌচাগারের সামনের দুটি গাছের ডালপালা কাটার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

এদিকে, পাখিপ্রেমীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই রামেক কলেজ ক্যাম্পাস, রামেক হাসপাতাল এলাকা ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সের সামনের এলাকার গাছগুলোতে বিভিন্ন জাতের পাখ-পাখালির বাস। পাশের সড়ক বিভাজকেরও গাছগুলোতেও বাসা বেঁধেছে পাখিরা।

  • 293
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে