মুরগি পালনে সফল রাবি শিক্ষার্থী প্রতিমাসে আয় লক্ষাধিক টাকা!

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২০; সময়: ১১:৪১ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাকালে অর্থনীতির চাকা যখন থমকে যাচ্ছিল ঠিক তখনই সারা পৃথিবীতেই সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে এক নতুন ধারা সূচিত হয়েছে। বিশেষত তরুণরা এ সময় এগিয়ে এসেছেন নানামুখী সৃজনশীল কর্মে। তেমনি উদ্যমী তরুণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মতিউর রহমান করোনাকালীন পরিস্থিতিতে অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে শুরু করেন খামারে মুরগি পালন। ইতোমধ্যে বেশ সফলও হয়েছেন তিনি। ডিম বিক্রি করে খরচ বাদে প্রতিমাসে আয় করছেন আনুমানিক দেড় লাখ টাকা। আয় আরও বাড়বে বলে আশাবাদী তিনি। তার সফলতায় উচ্ছ্বসিত পরিবার।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে কটিয়াদি উপজেলার বনগ্রাম। সেখানে ১২ বিঘা জমিতে একটি পুকুর। পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে। আর পুকুরের উপর ভাসমান তিনটি মুরগির শেড। সেখানে লেয়ার মুরগি পালন করা হচ্ছে। মুরগির বিষ্ঠা পুকুরে মাছের খাবার যোগান দিচ্ছে। এভাবেই সমন্বিত পদ্ধতিতে হচ্ছে মাছ চাষ ও মুরগি পালন। মতিউর রহমান বলেন, দেশে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গত মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

তারপর বিভিন্ন ধাপে ধাপে ছুটি বৃদ্ধি করা হয়। সময় কাটছিল না। একদিন শরীফ চাচা পরামর্শ দেয়, সময় কাটানোর জন্য মুরগি পালন শুরু করতে। এতে সময় ভালো কাটবে আর লাভবানও হওয়া যাবে। চাচার দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী কাজ শুরু করি। বাবার সহযোগিতা নিয়ে প্রথমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা লোন করি। বাড়ির পাশে পুকুরের উপর দুটি শেড তৈরি করি। প্রতিটি শেডে এক হাজার করে মুরগি পালন শুরু করি। দুমাসের মাথায় কিছু মুরগি ডিম দিতে শুরু করে। বর্তমানে প্রতিদিন ১৮০০ মুরগি ডিম দিচ্ছে। পাইকারী দামে কিশোরগঞ্জের স্থানীয় বাজারে এই ডিম বিক্রি করছি।
বর্তমানে ডিমের বাজার খুব ভালো। প্রতি ১০০টি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। প্রতিদিন মুরগির খাবার, ঔষধ,

পরিবহনসহ আনুষাঙ্গিক খরচ হচ্ছে আট-নয় হাজার টাকা। সব খরচ বাদে হিসেব করলে দেখা যাবে প্রতিমাসে আনুমানিক দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মতো আয় হচ্ছে। ভবিষ্যতে আয় আরও বাড়বে বলে আশা করছি। ডিম বিক্রির টাকা দিয়ে পরে আরও একটি শেড নির্মাণ করেছি। সেখানে আরও এক হাজার মুরগি পালন শুরু করেছি। মুরগি পালনের পাশাপাশি পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, সরপুঁটিসহ দেশি মাছের চাষ করছি। সেখান থেকেও ভালো মুনাফা আসবে।

তিনি আরও জানান, প্রথমে বাবা আর আমি দুজনে মিলে খামারে কাজ করলেও এখন আর পেরে উঠতে পারছি না। তাই দুজন কাজের লোক রাখা হয়েছে। ব্যাংক থেকে নেওয়া ৫ লাখ টাকার মধ্যে ৪ লাখ টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছি। বাকি টাকা খুব শিগগিরই পরিশোধ হয়ে যাবে আশা করছি। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জীবনে হতাশা, ব্যর্থতা আসবেই তা মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ধৈর্য্য, সততা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং অধ্যাবসায়ের সাথে কাজে লেগে থাকতে হবে। কোন কাজকে ছোট মনে না করে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে।

  • 109
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে