শহীদ কামারুজ্জামানের বাড়িতে কৈশরে আশ্রীত মর্জিনার মানবেতর জীবন যাপন

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২০; সময়: ৮:৪০ pm |

সাইদ সাজু, তানোর : মর্জিনা বেওয়া, বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৬৮ বছর। তিনি তানোর উপজেলার মোহর গ্রামের মৃত সোনার সরকারের বিধবা স্ত্রী। মাত্র ৮বছর বয়সে লঞ্চে চড়ে তার এক সৎ চাচার সাথে রাজশাহী শহরে এসে হারিয়ে যান মর্জিনা। তিনি আজো জানেন না কে তার পিতা মাতা, কোথায় তার বাড়ি ও জন্ম।

ছোট বেলায় চাচা তাকে রাজশাহী শহরে এনে তৎকালীন কল্পনা সিনেমা হল এলাকার পাচানি মাঠ সংলগ্ন এতিমখানার বারান্দায় ছেডে চলে যান। সেই বারান্দায় একাকী বসে সারারাত কাটিয়ে দেন মর্জিনা। সকালে রাজশাহীর লক্ষীপুর এলাকার সুনামধন্য জৈনক এমাজ উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার তাকে বাড়িতে নিয়ে যান।

ভাগ্য দোষে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাধ্য হয়ে সেখান থেকে পালিয়ে মর্জিনা গিয়ে উঠেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান হেনার চাচাতো ভাই বাণী মিয়ার বাড়িতে। সেখানেই দীর্ঘদিন থাকা অব¯’ায় যৌবনে মর্জিনাকে কামারুজ্জামান হেনার আত্নীয় এরাজ সরকার ও তার স্ত্রী তানোরে নিয়ে আসেন এবং মোহর গ্রামের সোনার সরকারের সাথে বিয়ে দেন।

দরিদ্র স্বামীর সংসারে মর্জিনা এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ৪বছরের মাথায় বিধবা হন মর্জিনা। প্রায় ৪০ বছর ধরে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা মর্জিনার সরকারী খাস জমির উপর একটি টিনশেডের কুড়ে ঘর ছাড়া কিছুই নেই।

গ্রামে অন্যে’র বাড়িতে কাজ করে একমাত্র ছেলেকে বড় করে বিয়ে দেয়ার পর ছেলে আলাদা থাকেন। ফলে, আজো অন্যোর বাড়িতেই কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন মর্জিনা। কিন্তুু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বয়সের ভারে এখন আর অন্যের বাড়িতে তেমন কাজ কর্ম করতে না পারায়, কুড়ে ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন মর্জিনা বেওয়া।

প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া একটি বাড়ি’র বা ঘর দাবি করে মর্জিনা বেওয়া বলেন, আমার পিতা-মাতা কে ? আমি তা জানিনা, কোথাই আমার বাড়ি ? তাও জানিনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুবিজুর রহমান আমারো পিতা। আমি বঙ্গবন্ধু’র কন্য প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি ঘরের দাবি জানাচ্ছি এবং যেন জীবনের শেষ দিনগুলো সেই ঘরেই কাটাতে পারি।

জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের বাড়িতে দীর্ঘদিন থাকার সুবাদে মনে প্রাণে বঙ্গবন্ধু ও শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের আর্দশ বুকে ধারণ করে আজো নিজেকে একজন আ’লীগের কর্মি বলে দাবি করেন মর্জিনা। তিনি বলেন, কৈশরসহ যৌবনে বিভিন্ন সভা সমাবেশ ও মিটিং মিছিলেও অংশ নিয়েছিলাম।

ফলে, মনে প্রাণে আজো আ’লীগের আদর্শকে বুকে ধারন করে বিভিন্ন লড়াই সংগ্রামসহ বিভিন্ন সভা সমাবেশে গেলেও বর্তমানের নেতা-কর্মিরা তাকে তেমন কোন গুরুত্ব দেননা। তবে, এলাকার সবাই তাকে আ’লীগের একনিষ্ঠ কর্মি হিসেবে জানেন এবং চেনেন। দারিদ্রতা মর্জিনাকে তার আদর্শ থেকে সরাতে পারেনি।

পিতৃপরিচয়হীন ভাবে জীবনের পদে পদে নানা চুড়াই উৎড়াই পেরিয়ে পাওয়া কুড়ে ঘরে দীর্ঘদিন ধরে শীত বৃষ্টিতে ভীজে জীবন যুদ্ধ টিকে থাকা বিধবা মর্জিনার স্বপ্ন নিজের নামের জমিতে একটি পাঁকা ঘরে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেয়ার।

এব্যাপারে তানোর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • 78
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে