বৃক্ষের সবুজ আর রংতুলির ছোয়ায় নান্দনিক সড়ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২০; সময়: ১০:৫৯ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুপ্রশস্ত রাস্তার মাঝে নান্দনিক আইল্যান্ড। দুই পাশে বিভিন্ন রঙের টাইলসে মোড়ানো ফুটপাত। একপাশে সাইকেল লেন। পুরো আইল্যান্ড জুড়ে রয়েছে শিল্পীর কারুকাজ। সেই কারুকাজের সঙ্গেযুক্ত হয়েছে রং তুলির আচড়। আইল্যান্ডের মাঝে ও ফুটপাতে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ। বৃক্ষের সবুজ রং আর তুলির আঁচড়ে মোড়ানো এমন শৈল্পিক রূপ পুরো রাস্তা জুড়ে শোভা পাচ্ছে। রাজশাহী নগরীর বিলসিমলা রেলক্রসিং থেকে কাশিয়াডাঙ্গা মোড় পর্যন্ত দুই লেনের এ সড়কটি এমন সৌন্দর্য নিয়েই চার লেনে উন্নীত হচ্ছে। আর নির্ধারিত সময়ের আগেই সড়কটি উন্নীতকরণ কাজ শেষ হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নগর পিতা সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের স্বপ্নের বহুমাত্রিক সুবিধা সম্পন্ন এ সড়ক উন্নীতকরণ প্রকল্পটি দ্রুত সময়ের মধ্যেই শেষ হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু সৌন্দর্য বর্ধনের কিছু কাজ বাকি আছে। আর করোনাকালীন নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও আধুনিক এ সড়কটির কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ায় এবং মুজিববর্ষে এমন নান্দনিক সড়ক পাওয়ায় খুশি নগরবাসী।

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সড়কটি ঘুরে দেখা যায়, সড়কের চার লেন দিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। কোর্ট থেকে বিলসিমলা পর্যন্ত রঙের কাজ শেষ হলেও কোর্ট থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে রঙের কাজ চলমান রয়েছে। সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী অটোচালক সুরুজ ইসলাম ও মুস্তাকিম হোসেন জানান, গত কয়েকদিন আগেই চারলেন সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। তারা দুই পাশ দিয়েই চলাচল করতে পারছেন। সড়কটি বড় ও নতুন হওয়ায় গাড়ি চালাতেও তাদের ভালো লাগছে। সড়কটির সৌন্দর্যও তাদের মুগ্ধ করছে। আর দ্রুত সময়ের মধ্যে এমন সুন্দর রাস্তা উপহার দেয়ার জন্য সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামানকে ধন্যবাদ জানান তারা।

রাজশাহীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি উন্নয়ন কাজ ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র। ২০২১ সালের মার্চে সড়কটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার এ প্রকল্পটি করোনাকালীন নানা সংকটের মধ্যেও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের আন্তরিকতা ও প্রত্যক্ষ তদারকিতে দ্রুতগতিতেই শেষ হচ্ছে।

৩০ ফুট প্রশস্ত সড়কটি ৮০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। রাখা হয়েছে ড্রেন, ফুটপাথ, আইল্যান্ডসহ সাইকেল লেন। ৮০ ফুট সড়কের মাঝে ৪ ফুট চওড়া আইল্যান্ড, উভয় পাশে ১০ ফুট চওড়া ফুটপাথ এবং রাস্তার দক্ষিণ পাশে ৭ ফুট ৮ ইঞ্চি চওড়া বাইসাইকেল লেন রাখা হয়েছে। এছাড়া পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর বসার জায়গা রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার খায়রুল বাশার জানান, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের স্বপ্নের এ প্রকল্পটি নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করেছে। বহুবিধ সুবিধা সম্পন্ন আধুনিক এ সড়কটি কাজ প্রায় শেষের পথে। এখন সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হচ্ছে। আর লাইটিং এর কিছু কাজ বাকি আছে। সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যেই করা হবে।

তিনি আরো জানান, রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে নগর জুড়ে অবকাঠামো উন্নয়নের যে যাত্রা শুরু হয়েছে; তারই অংশ হিসেবে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটির কাজ শেষ হচ্ছে। সবুজ নগরীর সৌন্দর্যের অন্যতম অনুষঙ্গ বৃক্ষ। সেই আদলেই নগরবাসীর আকাক্সিক্ষত এ সড়কটি সবুজ ও রঙের আচড়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা হচ্ছে।

  • 28
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে