হাসপাতালে শুয়ে কাতরাচ্ছেন রাবির সেই ‘আবু ভাই’

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২০; সময়: ২:৪৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে একটি পরিচিত নাম আবু আহমেদ। সবাই ভালোবেসে ডাকেন ‘আবু ভাই’। বিশ্ববিদ্যালয়ের থাকাকালীন তিনি সত্তর, আশি, নব্বই দশকের আন্দোলনের সাক্ষী হয়ে আছেন। চোখের সামনে দেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা আন্দোলনের উত্থান ও পতন। শুধু আড্ডাই নয়, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আলাপ-আলোচনা ও পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্র ছিল তার পরিচালিত ‘আবুর ক্যান্টিন’।

তিনি শুধু ক্যান্টিন বা খাবারের জন্য পরিচিত ছিলেন না। একজন উদার মানুষও ছিলেন। শিক্ষার্থীদের সহায়তা করেছেন নানাভাবে। আর্থিক সংকট থাকলে শিক্ষার্থীদের বিনা পয়সায় খাইয়েছেন। ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত শিক্ষার্থীদের প্রিয় পাত্র ছিলেন এ মানুষটি। তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড সাহায্য করতে নানাভাবে।

২০১৫ সালে ‘আবুর ক্যান্টিন’ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। উদার মনের এই মানুষটিও এখন ভালো নেই। বয়স ৭৫ পেরিয়েছে। বয়সের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অসুখ। নানা রোগ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। একসময়ের প্রাণচঞ্চল এই মানুষটি গত ১০ দিন ধরে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন তিনি। অর্থের অভাবে ভালোভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়রি) রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কথা হয় আবু আহমেদের সাথে। ঠিকমতো চলাফেরা করার মতো শক্তিও নেই তার শরীরে। মুখ ফুটে কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে তার। একটু কথা বলতে গেলে হাঁপিয়ে উঠছেন।

ভাঙ্গা গলায় ও ইশারায় আবু আহমেদ বললেন, মাসখানেক আগে বাড়িতে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাথায় আঘাত পাই। তখন থেকে অসুস্থতা বেড়ে যায়। পরে কিছুটা সুস্থ হয়েছিলাম। ১০ দিন আগে আবারও অসুস্থতা বেড়ে যায়। তখন থেকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি। পুরো শরীর প্রচন্ড ব্যাথা করছে। হাটার জন্য শক্তি নেই। ঘন ঘন রক্তবমি হচ্ছে। ঠিকমতো খেতেও পারছি না।

আবু আহমেদের স্ত্রী সুফিয়া বেগম জানান, ডায়াবেটিস, এ্যাজমা, হাইপ্রেসার, কিডনি অসুখসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন আবু আহমেদ। চিকিৎসার জন্য তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেডের ভাড়া মওকুফ করেছে। প্রতিদিনের ওষুধ, সেই সাথে বিভিন্ন টেস্টের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহায়তা চান তিনি।

মৃত্যুর আগে আবু আহমেদের শেষ ইচ্ছা আবারও ‘আবুর ক্যান্টিন’ চালু করা। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছা ছিলো আবারও ক্যান্টিন চালু করব। ‘আবুর ক্যান্টিন’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সাথে জড়িত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের মতোই আমার ক্যান্টিন অতীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেক আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রেখেছে। ব্যবসা করতে নয়, ক্যান্টিন পুনরায় চালু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ইতিহাসটুকু ভবিষ্যতের জন্য রেখে যেতে চেয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, হয়তো তা আর সম্ভব হবে না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • রাজশাহীতে ৩০০ টাকা ভাড়ায় শিশুকে হত্যা
  • রাজশাহীতে করোনা আক্রান্ত বেড়ে ৪ হাজার ছুঁই ছুঁই
  • দুর্গাপুরে পূর্ব শুক্রতার জের ধরে হামলায় দুই বোন আহত
  • তানোরে ১৫ আগস্ট পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা
  • রাজশাহীতে র‌্যাব-৫ অভিযানে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ১
  • মাদক দমনে কঠোর অভিযানের নির্দেশ রাজশাহীর এসপির
  • বাগমারায় ১৫ আগস্ট উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা
  • একই কর্মস্থলে যুগ পার বরেন্দ্রের অর্ধশত কর্মকর্তার
  • বাগমারায় বন্যা কবলিত এলাকা কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের পরিদর্শন
  • করোনার থাবায় রেশম শিল্পের ক্ষতি ৩০০ কোটি টাকা
  • রাজশাহী অঞ্চলে একদিনে শনাক্ত ২৭৬, মৃত্যু বেড়ে ২০৪
  • মোহনপুরে আগুনে পোড়া বাড়ি পরিদর্শনে জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি
  • কার্বের সিও’র অপসারণ দাবিতে কর্মচারীদের মুন্ডুমালায় মানববন্ধন
  • রাজশাহীতে আরও ৭৮ জনের করোনা শনাক্ত
  • রাজশাহীতে দেড় বছর পর স্কুলছাত্র হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন
  • উপরে