দরিদ্র পরিবারগুলোর মতই ঈদ করবেন সাইদুর

প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২০; সময়: ১০:৪২ অপরাহ্ণ |
Share This

আসাদুজ্জামান মিঠু: ব্যাক্তি উদ্যোগে এলাকার হতদরিদ্র প্রায় সাড়ে চার হাজার পরিবারে মধ্যে পোলাও চাল, সেমাই সহ ঈদের সকল সামগ্রি পৌচ্ছানোর কাজ শেষ করেছেন মানবতা ঘরে প্রতিষ্ঠাতা সাইদুর রহমান। এবার তিনি নিজেও একই সামগ্রি দিয়ে ঈদ উদযাপন করবেন বলে জানান তিনি।

শনিবার সন্ধায় মুণ্ডুমালা তার মানবতার ঘরে বসে অনলাইন পত্রিকা পদ্মাটাইম্সকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, মানবতার সেবাই কাজ করে গিয়ে গরীবে দুখ কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছেন।

তাই তিনি এবার যে এলাকার হতদরিদ্র সাড়ে ৪ হাজার পরিবারগুলোকে এক কেজি পোলাও চাল, এক কেজি চিনি, দুই প্যাকেট সেমাই, গুড়োদুধ ইত্যাদি ঈদ সামগ্রি ঘরে ঘরে পৌচ্ছে দিয়েছেন তাদের অনুসরণ করেই তার বিতরণ করা ঈদ সামগ্রি গুলো দিয়ে এবার ঈদ উদযাপন করবেন। রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা বাজারে সম্প্রতি একটি মানবতার ঘর তৈরি করেছেন।

মানবতার ঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও দান বীরের খ্যাতিমান ব্যক্তি হলেন মুন্ডুমালা পৌর এলাকার সাদিপুর মাথলেপাড়ার মৃত সাইনাল হকের ছেলে সাইদুর রহমান। তিনি একজন সমাজ সেবক হিসাবেও পরিচিতি ভাল করেছেন নিজ এলাকায়। পেশায় তিনি মৎস চাষী ও প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার।

তার রাজনৈতিক পরিচয়ও রয়েছে। তিনি মুণ্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্বে রয়েছেন। তবে,তিনি দলে কোন সুযোগ সুবিধা নেন না। বরং তিনি দলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করতে ব্যাপক ভুমিকা পালন করে থাকেন। তার লোকবল থেকে শুরু করে অর্থ ব্যয় করতেই পিছ পা হন না। তাই দলের নেতাকর্মিদের মধ্যে রয়েছে তার বেশ জনপ্রিয়তা।

করোনার প্রভাবে দীর্ঘ দুই মাস ঘর বন্দী মানুষ। কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের কমে গেছে আয় রোজগার। বিপাকে আছেন সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষেরাও। তার মধ্যে ঘরে দুয়ারে চলে এসে খুশির ঈদ।

অঘোষিত লকডাউনে এমনিতে সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষে তিন বেলা খাওয়ার নিয়ে চিন্ত্ াতার পরেও রয়েছে ঈদ নিয়ে বাড়তি চিন্তা। তবে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার গরীব দুখীরা ঈদের বাড়তি চিন্তা থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত করেছেন সাইদুর রহমান। মুন্ডুমালায় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠা মানবতার ঘর এবার ঈদে গরীব দুখীদের পোলাও সেমাই খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছেন। ফলে গরীব দুখীদের ঈদের দিনের সেই চিন্তার দুর করেছেন।

পৌর এলাকার প্রায় সাড়ে ৪ হাজার গরীব-দুখী ও সমাজের অসহায় ব্যাক্তি এমন পরিবার গুলোকে পোলাও চাল,চিনি,দুই রকমের সেমাই, তেল, সাবান ও পাপড় দেয়া হয়েছে।

সাইদুর রহমান বলেন, করোনার প্রভাবে দেশে অঘোষিত লকডাউনে পর থেকেই অসহায়,কর্মহীনদের সহযোতিায় করতে লেগেছেন। করোনার মধ্যে গরীবদের ঈদ ভাল ভাবে উদযাপন করতে পারবেনা।

তাই পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে একেবারে অসহায়,গরীব এমন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবারের তালিকা করে এক কেজি পোলাও চাল,এক কেজি চিনি,দুই প্যাকেট সেমাই,গুড়ো দুধ, তেল, পাপড় ও একটি করে সাবান দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাস তিনি ৫ হাজার অসহায়,হতদরিদ্র চাল, ডাল, আলু, তেল, সাবন বিতরণ করেছেন।

এর মধ্যে আদিবাসি এক হাজার ৫০০ পরিবার, কর্মহীন হয়ে পড়া ৩০০ হোটেল কর্মচারী, খেটে খাওয়া গ্রামের দুই হাজার ৫০০, প্রতিবন্ধী ৩০০ ও ২০০ রিকসা-ভ্যান চালক পরিবারের কাছে ইতি মধ্যে খাদ্য সামগ্রি হিসাবে চাল,ডাল,আলু,তৈল ইত্যাদি পৌচ্ছে দেয়া হয়েছে।

চলতি মে মাসে ঈদ উপহার হিসাবে মুণ্ডুমালা পৌর এলাকার ৭৫টি মসজিদের ১৫০টি ঈমাম-মোয়াজেম এবং ৫০ জন এলাকার সুধিজনকে ইতি মধ্যে একটি করে ভাল মানের পাঞ্জাবি ও খাদ্য সামগ্রি পৌচ্ছে দেয়া হয়েছে। শুরু মাত্র মার্চ মাস হতে এখন পর্যন্ত ব্যক্তি উদ্যোগে তার নিজ তহবিল হতে ৩০ লাখ টাকা খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করা হয়েছে।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা বাজারে নিজের দ্বিতল ভবনের একটি বড় হলরুমকে ছেড়ে দিয়েছেন তিনি শুধু মাত্র অসহায় মানুষের সেবা ও সহযোগিতা কাজের জন্য। আর সে ঘরের নাম করণও করে দেয়া হয়েছে মানবতার ঘর। এ মানবতার ঘরে রয়েছেন প্রায় ১০০ বেশি সেচ্ছাসেবী তরুণ ও যুবক। এসব যুবকরে মানবতার ঘরে,খাদ্য সামগ্রি প্যাকেট ও অসহায়,দরিদ্রদের ঘরে পৌচ্ছানোর কাজ করে থাকেন।
সবশেষে তিনি অনলাইন পত্রিকা পদ্মাটাইম্স’র সকল সাংবাদিককে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েন। এবং দেশের এ দুর্যোগ কালে অনলাইন পত্রিকা পদ্মাটাইম্স বিশেষ ভুমিকার নিয়ে কাজ করাই সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Leave a comment

উপরে