রাজশাহীতে ভাইরাস ঠেকাতে ঈদেও কঠোর প্রশাসন

প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২০; সময়: ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাস ঠেকাতে ঈদে সতর্ক অবস্থানে থাকবে রাজশাহী প্রশাসন। ঈদের সপ্তাহজুড়ে রাজশাহী শহর ছাড়াও জেলার উপজেলা পর্যায়ে থাকবে নজরদারি। অব্যাহত থাকবে ভ্রাম্যমান আদালত, পুলিশ টহল, সেনাবাহিনীর বিশেষ টহল।

ইতিমধ্যে রাজশাহীর চেকপোস্টগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঈদের আগে দু’দিন ও ঈদের পরের তিনদিন প্রবেশপথে আরো বেশি কড়াকড়ি রাখা হবে। যাতে বাহির থেকে কেউ আসতে না পারে। এছাড়াও ঈদের আগে কোনো ধরনের মার্কেট খুলতে দেয়া হবে না। আর যদি সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ দোকান বা মার্কেট খুলে তাকে গুনতে হবে জরিমানা। এছাড়াও বিনা কারণে নগরীতে ঘোরাঘুরি করলেও গুনতে হতে পারে জরিমানা।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গ্রামের বাড়ি বা যেখানে সেখানে ঘোরাফেরার বিষয়ে সরকারের কোনো অনুমতি নেই। সরকার এখন ঘোষণা দেননি।

তিনি বলেন, সরকার যেহেতু এধরনের কোনো ঘোষণা দেননি সেহেতু কোনো ব্যক্তি বাইরে থেকে রাজশাহীতে ব্যক্তিগত গাড়িতে প্রবেশ করলে তাকে আটক করা হবে। করা হবে জরিমানাও। তিনি বাইরে থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে রাজশাহীতে না আশার জন্য আহ্বান জানান।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক তার ফেসবুক আইডিতেও এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দেন। এজন্য কাউকে রাজশাহীতে না আসার জন্যও অনুরোধ জানান তিনি।

প্রায় দুমাস আগে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রাজশাহীকে লডডাউন করা হয়। দেড় মাস পর সকাররের পক্ষে লকডাউন শিথিল করা হলে স্বল্প পরিসরে খুলতে শুরু করে দোকানপাট। এরই মধ্যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পরিমান বেড়ে যাওয়ায় পুনরায় কঠোর অবস্থানে যায় সরকার।

এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীতেও করোনা ভাইরাস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা প্রশাসনের সাথে কোর কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে কয়েকটি সংস্থার এক সাথে সিদ্ধান্তে বন্ধ করে দেয়া হয় ঈদ মার্কেট। একই সাথে বাড়তি তৎপরতায় মাঠে নামে জেলা প্রশাসন। গত চারদিন থেকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিত্বে থাকার ফলে রাজশাহীতে বন্ধ হয়েছে ঈদ মার্কেট, কমেছে নগরী ও বাইরে জনসমাগম।

এদিকে নগরী বা বাইরে আর যেনো কোনো ধরনের জনসমাগন না হয় সে বিষয়ে নজর দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। প্রবেশ মুখ থেকে শুরু করে নগরী ও জেলার বাইরের থানা পুলিশকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। ঈদের অন্তত এক সপ্তাহ ধরে পুলিশ মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে। শহরের ন্যায় উপজেলাতেও বাড়ানো হয়েছে পুলিশ টহল। ঈদের এ সময় চলাচল থেকে শুরু করে যাবতীয় বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, ঈদের সময় আগের মতই অবস্থা থাকবে জেলা পুলিশ। চেকপোস্টগুলোতে আরো সতর্ক অবস্থানে রাখা হচ্ছে পুলিশকে। এছাড়াও থানার পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দস জানিয়েছেন, যে অবস্থা চলছে তেমনটিই থাকবে। ঈদের সময় বাড়তি নজরদারিতে রাখা হবে পুরো নগরী। শনিবার থেকে দিনের সাথে রাতেও পুলিশ টহল বৃদ্ধি করা হবে। প্রবেশ পথগুলোতে আগের চেয়ে বেশি সতর্ক অবস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a comment

উপরে