বাগমারায় চাঁদাবাজি মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০১৯; সময়: ২:৩০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, তাহেরপুর : রাজশাহীর বাগমারায় চাঁদাবাজি মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে রামরামা আরঙ্গবাদ গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ মজিদুল ইসলাম ওরফে কাসানীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রামরামা গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী কাউছার আলীর দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুপুরে তাকে আদালতে চালান দেয়া হয়।

উপজেলার রামরামা আরঙ্গবাদ গ্রামের হিন্দুপাড়ায় কাউছার আলীর লিজ নেয়া পুকুর। পাঁচ বছর ধরে তিনি ওই পুকুরে মাছ চাষ করে আসছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এক ভ্যান মাছের খাবার নিয়ে যাচ্ছিল চালক শাহাদ আলী। তবে পুকুরে পৌঁছার আগে হিন্দুপাড়া বটতলা মোড়ে ভ্যানটি আটকে দেয় মজিদুল ইসলাম ওরফে কাসানী (৩৫) নামের এক যুবক। যে নিজেকে বাগমারা থানা পুলিশের সোর্স বলে পরিচয় দেয়।

মজিদুলে দাবি, পাঁচ লাখ টাকা না দেয়া পর্যন্ত ওই পুকুরে কোন মাছের খাবার যেতে দেয়া হবে না। মাছ ধরতেও দেয়া হবে না পুকুরে। যেটিকে বাগমারা থানার ওসি নিষেধাজ্ঞা বলেও দাবি করেন পুলিশের সোর্স পরিচয় দেয়া মজিদুল।

মাছ ব্যবসায়ী কাউছার আলী বলেন, ‘‘তার খামারগুলোতে নিয়মিত মাছের খাবার পরিবহন করে ভ্যান চালক শাহাদ আলী। পুকুরে খাবার নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেয়ায় ভ্যান চালকের সঙ্গে মহিদুলের কথা কাটাখাটি হয়। এক পর্যায়ে মহিদুল ধারলো অস্ত্র নিয়ে তার ভ্যান চালক শাহাদকে ধাওয়া করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে। এ নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বাগমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে’’ বলে জানান তিনি।

কাউছার বলেন, ‘‘সপ্তাহখানেক আগে মহিদুল পুলিশের নামে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করি। এর পর থেকে সে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভিতি দেখাচ্ছিল। বলছিল, পুকুরে যেতে দিব না। চাঁদা না দিলে পুকুরে মাছ ধরতেও দেয়া হবে না। বাগমারা থানার ওসির এমন নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তবে তার কথা আমি আমলে নিয়নি। আর আগেও একাধিক বার আমার কাছে চাঁদা চেয়েছিল মজিদুল।’’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আরেক মাছ ব্যবসায়ী জানান, পুলিশের ভয়, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি, জমি দখল, পুকুর খননে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে থাকে মজিদুল। টাকা দিতে না চাইলে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় তারা। বাগমারায় এখন আতঙ্কের নাম পুলিশের সোর্স।

সাজুড়িয়া গ্রামের প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা আব্বাস উদ্দিন মোল্লা বলেন, থানার তথাকথিত দালাল কাসানীর সঙ্গে স্থানীয় আরও দুইজন রয়েছে। তারাও পুলিশের সোর্স বলে পরিচয় দিয়ে এলাকায় যা না তাই করছে। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এদেরকে এলাকার মানুষ মনেপ্রানে ঘৃনা করে। এরা সুশীল সমাজের লজ্জার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এদের অত্যাচার থেকে এলাকাবাসী রেহাই চায়।

বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মজিদুল নামে আমাদের কোন সোর্স নাই। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ভুয়া সোর্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি দেখার জন্য বাগমারা থানাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে