বাগমারায় তিন লাখ টাকায় কামরুলকে খুন করে এনামুল

প্রকাশিত: মে ১১, ২০১৯; সময়: ৫:০০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার খালিশপুর বিলে কামরুল ইসলাম (৩০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি এনামুল হককে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা পুলিশের একটি দল সিরাজগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার রাজশাহী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

গ্রেপ্তার এনামুল হক উপজেলার মুরারীপাড়ার রহিদুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে আসামি এনামুল হক জেল হাজতে রয়েছে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতে খায়ের আলম জানান, গত ১৭ এপ্রিল বাগমারা থানার খালিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে অনুমান অর্ধ কিলোমিটার পশ্চিমে খালিশপুর বিলের ধান ক্ষেতে চয়েন উদ্দিন মন্ডল তার ছেলে কামরুল ইসলামের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে চয়েন উদ্দিন বাদি হয়ে বাগমারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১ তারিখ ১৭-৪-২০১৯ ধারা ৩০২/২০১/৩৪ দঃ বিঃ। পুলিশ মামলার তদন্তের সূত্র ধরে বিভিন্ন সময় মুরারীপাড়া এলাকা হতে মাহবুবুর রহমান, আব্দুর মজিদ ওরফে রনজু, মাহবুব, রহিদুল ইসলাম ও নাজমুল হককে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তদন্তের সূত্র ধরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান আসামি এনামুলকে গ্রেপ্তার করে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামি এনামুল হক জানায় বাগমারা থানার মুরারীপাড়া এলাকায় সুদের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। আসামি এনামুল হক নিহত কামরুল ইসলাম এর নিকট থেকে সুদের বিনিময়ে এক সময় টাকা ধার নেয়। পরবর্তীতে সময়মত টাকা ফেরত না দিতে পারায় তাদের মাঝে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এছাড়া কামরুল এর সাথে সুদের ব্যবসা নিয়ে তার চাচাতো ভাই গ্রেপ্তারকৃত মাহবুবুর রহমান এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্ব ছিল।

এ বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে মাহবুবুর রহমান কামরুলকে হত্যা করার জন্য এনামুলকে তিন লক্ষ টাকার প্রলোভন দেয়। পরবর্তীতে এনামুল হক কৌশলে গত ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে কামরুলকে মোটরসাইকেল যোগে খালিশপুর বিলের মধ্যে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে জায়গাটি নির্জন হলে এনামুল হক ধারালো খুর দিয়ে কামরুল ইসলামকে গলা কেটে হত্যা করে লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে যায়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে