রাজশাহী নগরের নামি হোটেলে পচা-বাসি খাবার

প্রকাশিত: মে ৯, ২০১৯; সময়: ১০:২৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : মৌখিকভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রাজশাহীর হোটেলগুলোতে ভোক্তাদের জন্য মানসম্মত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। বারবার নির্দিষ্ট কিছু হোটেলে অভিযান চালানো হলেও নামেমাত্র জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে এই অসাদু হোটেল ব্যবসায়ীরা।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাজশাহী নগরে লক্ষ্মীপুর এলাকার হোটেলগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে র‌্যাব। দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনার সময় নগরের সিএন্ডবি মোড়ে অবস্থিত নানকিং চাইনিজ রেস্তুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া লক্ষ্মীপুর মোড়ের তৃপ্তি হোটেল কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা ও পাশ্ববর্তি হোটেল রাজ ক্যাফেকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করা, রান্নার কাঁচামাল পচা ও বাঁশিসহ হোটেলগুলোর পরিবেশ নোংরা থাকায় ভোক্তাঅধিকার আইনে তাদেরকে এই অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। একই সাথে হোটেলগুলোর মান উন্নয়নে তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দেখা যায়, রাজশাহীর নামিদামি এই হোটেলগুলোর রান্নাঘরগুলোতে তেলাপোকা ছুটে বেড়াচ্ছে। সেই নোংলা রান্ন ঘরে খাবার না ঢেকেই রাখ রয়েছে। এছাড়া ফ্রিজের মাছ-মাংস বহুদিনের পুরোনো ও পচা। ফ্রিজগুলো বহুদিন থেকে পরিস্কার করা হয় না।

এদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর রমজানে এই হোটেলগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। প্রকাশ্য এই অনিয়মগুলোর কারণে প্রতিবারই হোটেলগুলোকে শুধুমাত্র অর্থদন্ড প্রদান করে ছেড়ে দেয়া হয়। ফলে তারা অনিয়ম করেও শুধু অর্থের জোড়ে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে।

র‌্যাব-৫ রাজশাহীর কম্পানি কমান্ডার মাইনুল ইসলাম (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) বলেন, রাজশাহীর প্রায় প্রতিটি হোটেলের রান্নঘর ও ফ্রিজসহ খাবারের কাঁচামাল এবং খাবার তৈরির পরিবেশ খুবই নিম্নমানের। আমরা আগামীতে নগরবাসীর এই অভিযোগের বিষয়ে খেয়াল রাখবো। ভোক্তাদের স্বার্থে অভিযান আরো বৃদ্ধি করার মাধ্যমে হোটেল কর্তৃক্ষদেরকে বাধ্যকরা হবে তাদের হোটেলগুলোর মান ভালো করতে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: নিজামউদ্দিন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পরিচালিত অভিযানে তিনটি হোটেলকে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় তাদের সৃষ্ট অনিয়মগুলো দেখিয়ে দেয়া হয়। জরিমানার পাশাপাশি তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। যদি আগামীতেও তাদের হোটেরগুলোতে এমন পরিবেশ অব্যাহত থাকে তবে কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।

তিনি আরও জানান, পবিত্র রামজান মাসে ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। আগামীতে পর্যায়ক্রমে নগরীর অন্যান্য হোটেল ও বিপণিবিতানগুলোতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে