রাজশাহীতে অশ্লীল ভিডিও চ্যাটিং চক্র

প্রকাশিত: মে ৯, ২০১৯; সময়: ১:১০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে অনলাইনে অর্থের বিনিময়ে নগ্ন ভিডিও চ্যাটিং চক্রের দুই নারী সদস্যসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ১১টার দিকে পৌরসভার মেডিকেল মোড়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এরা হলো- নাটোরের আলাইপুরের খলিলুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের হযরত আলীর মেয়ে হাবিবা খাতুন (১৮) ও একই উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের সুমন হোসেনের মেয়ে মোছা. সুরভী বেগম (১৮)।

পুলিশ বলছে, তারা বিভিন্ন অপারেটরের ৩৫টি সিম ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে আগ্রহীদের কল করতে যৌন আকর্ষণ ছবি ও ছোট ভিডিও টিজার পোস্ট করে। বিকাশে টাকা দিলে তারা ভাইবার, ইমো, ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় ভিডিও চ্যাটিং করে। এমনকি তারা বিদেশি বিভিন্ন চ্যাটিং সাইটে যুক্ত হয়েও নগ্ন ভিডিও চ্যাটিং করে আসছিল। তাদের বহরে লোক বাড়াতে মোটা অংকের বেতনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছিল এই চক্র।

গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিন মাস আগে মেহেদী হাসান এবং ওই দুই নারী গোদাগাড়ী পৌরসভার মেডিকেল মোড় এলাকার মজিবুর রহমান মাস্টারের বাড়িতে দু’টি কক্ষ ভাড়া নেয়। কিন্তু বাড়িতে ওঠার পর তারা বাইরে বের হতো না। আশেপাশের মানুষের সঙ্গেও মিশতো না। তবে তারা দু’টি কক্ষে ওয়াইফাই নেট কানেকশন নিয়েছিল। সন্দেহ হওয়ায় এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি পুলিশকে অবগত করে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা সেখানে গিয়ে তাদেরকে অশ্লীল ভিডিও চ্যাটিং করা অবস্থায় হাতেনাতে ধরি। তাদের কাছে থাকা দুইটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটার, বিভিন্ন কোম্পানির ৩৫টি সিম কার্ড, ২৫টি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তারা শুধু ভিডিওতে নয়, ইন্টারনেটে নম্বর ছড়িয়ে ফোনে অশ্লীল কথাবার্তা বলে মানুষের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিতো। এছাড়া বিদেশি বিভিন্ন সাইটে তারা ঘণ্টা অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নগ্নভাবে চ্যাটিং করতো। তারা নতুন করে ‘চ্যাটিং জব’ -এর জন্য সুন্দরী নারী খুঁজতে বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে; যাতে দিনে ১০ ঘণ্টা ভিডিও চ্যাটিংয়ের বিনিময়ে ২৩ হাজার ৮০০ টাকা বেতন দেওয়ার লোভনীয় অফার দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক কপি ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার জানান, তিন জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করা হবে। বৃহস্পতিবার (৯ মে) তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠাবে পুলিশ।

বাড়ির মালিক মজিবুর রহমান বলেন, প্রায় তিন মাস আগে মেহেদী নামের ওই যুবক বাসা ভাড়া নিতে আসে। তারা জানায়- তিনি, তার স্ত্রী ও স্ত্রীর বোন থাকবে। আর পেশায় তিনি একজন ফ্রিল্যান্সার। ইন্টারনেটে কাজ করেন। আমি বিষয়টি এতোটা বুঝি না। তবে তেমন কোনো সন্দেহ না হওয়ায় তাদের ভাড়া দিয়েছিলাম। তারা এমন কুকর্মে জড়িত, তা আমার জানা ছিল না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে