পবা উপজেলা নির্বাচনের বাধা কাটলো

প্রকাশিত: মে ৬, ২০১৯; সময়: ৮:১১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবশেষে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন স্থগিত আদেশ বাতিল করেছেন আদালত। রোববার এ স্থগিত আদেশ বাতিল করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়াও এই হয়রানিমূলক মামলাটি খারিজসহ মামলাকারির বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সীমানা জটিলতা নিয়ে পবা উপজেলা নির্বাচন স্থগিতের আদেশ মামলাটি বিজ্ঞ আদালত খারিজ করায় নির্বাচনে আর কোন বাধা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পবায় দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জামায়াতের নেতা মোকবুল হোসাইন। ওই নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান হন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আশরাফুল হক তোতা এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হন জামায়াতের খায়রুন নেছা।

২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে নির্বাচিত চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা অধ্যাপক মোকবুল হোসাইন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কয়েকমাস পরে নির্বাচন কমিশন উপ-নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করেন। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খায়রুন নেছাকে রাখতে সীমানা জটিলতার ভূয়া তথ্য দিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্টে রিট করেন ফজলুল বারী। তিনি পারিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল বারী ভুলুর ভাই। হাইকোর্টে রিট করায় ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার দুই দিন আগে উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

২০১৯ সালে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে আগামী ১০ মার্চ এখানে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু পবার পারিলা ইউনিয়নের ডাংগীরপাড়া গ্রামের মৃত ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে ফজলুল বারী একটি রিট আবেদন করেন উচ্চ আদালতে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এক বছরের জন্য পবা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিতাদেশ দেন। চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি হলে নির্বাচন এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। আবারো আটকে যায়, সীমানা জটিলতায় আটকে গেলো রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন।

বর্তমানে পবায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জামায়াতের প্রার্থী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুন নেসা। এলাকায় জোর গুঞ্জন উঠে জামায়াতি চেয়ারম্যানকে রক্ষা করতেই আওয়ামী লীগের নেতা ও পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল বারী ভুলু বারবার নিবার্চন আটকে দিচ্ছেন।

অবশেষে ৫ মে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন স্থগিত আদেশ বাতিল হয়। রোববার এ স্থগিত আদেশ বাতিল করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়াও এই হয়রানিমূলক মামলাটি খারিজসহ মামলাকারির বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এখন পবা উপজেলা নির্বাচনে আর কোন বাধা নেই।

এব্যাপারে সাইফুল বারী ভুলু বলেন, ‘মহামান্য আদালতকে সন্মান করে বলছি, আমার সীমানা জটিলতা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাথে। নির্বাচনের সাথে নয়’।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে