রাজশাহীতে এসিডি’র উদ্যোগে অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে মতবিনিময়

প্রকাশিত: মে ৬, ২০১৯; সময়: ৫:০৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে এসিডি কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং ট্যুরিজমের মাধ্যমে শিশুর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ’ প্রকল্পের উদ্যোগে সোমবার সকাল ১০ টায় এসিডি কনফারেন্স রুমে সংবাদ মাধ্যম প্রতিনিধিদের সাথে ‘অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয়’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন এসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট- এসিডি এর নির্বাহী পরিচালক সালীমা সারোয়ার। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার পরিচালক (অর্থ) পংকজ কর্মকার।

সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ আব্দুল লতিফ। মতবিনিময় সভায় ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং টুরিজমের মাধ্যমে শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন এসিডি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আলী হোসেন। পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য, উল্লেখিত বিষয়ে এসিডির কার্যক্রম, বাংলাদেশে শিশুর অবস্থা, শিশু ও নারী নির্যাতন পরিস্থিতি, অনলাইনে শিশুদের উপর নির্যাতন ও শোষণ প্রক্রিয়া, অনলাইনে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয়, বিদ্যমান আইনের অপূর্ণতা ইত্যাদি বিষয়সমূহ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে সরকার, অভিভাবক এবং ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এরপর মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, অনেক শিশু অভিভাবককে না জানিয়ে একের অধিক মোবাইল সিম ব্যবহার করছে যার মাধ্যমে শিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে বা যৌন হয়রানি করছে। এক্ষেত্রে অভিভাবককে অধিক সচেতন হতে হবে। অভিভাবককেও ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা রাখতে হবে। সন্তানদের সম্পূর্ণভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারেও উনারা আলোকপাত করেন। অনলাইনে যৌন হয়রানি বন্ধে পিবিআই, র‌্যাব, পুলিশ সবাইকে নিয়ে কর্মশালা করতে হবে যাতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনলাইনে যৌন হয়রানি বন্ধ করা যায়। সকল অংশীজনদের নিয়ে সকল স্তরে কমিটি গঠন করে অনলাইনে শিশু যৌন হয়রানী প্রতিরোধে কাজ করার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করেন। স্কুল/কলেজে আইসিটি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সময় অনলাইনে শিশু যৌন হয়রানি বন্ধে করণীয় বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন দেওয়া প্রয়োজন। উনারা আরো বলেন, স্কুল/কলেজে স্বল্প পরিসরে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান থাকলেও কোচিং সেন্টারগুলোতে এ ধরনের কোন কার্যক্রম নেই। তাই কোচিং সেন্টারগুলোতেও অনলাইনে যৌন হয়রানি বন্ধে কাজ করতে হবে। সর্বোপরি শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে সতর্ক করতে হবে।

সকলকে সকলস্তরে সচেতন থাকা ও সতর্কতা অবলম্বন করা হলো নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি। সুতরাং আমাদের উচিত শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সরকার, বেসরকারি খাত, শিশু সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও শিশুদের নিজেদের সম্মিলিত উদ্যোগই কেবল শিশুদের জন্য ইন্টারনেটকে আরো নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে পারে।

নির্বাহী পরিচালক মহোদয় বলেন, যৌন হয়রানি একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। কক্সবাজারে পর্যটকরা পর্যন্ত যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন আবাসিক হোটেলগুলোতে আত্মীয় পরিচয়ে অবস্থান করে শিশুরা যৌন হয়রানিমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সোনা মসজিদসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে শিশুরা বেড়াতে গিয়ে স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় যৌন হয়রানিমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। শহরের বিভিন্ন দোকানে পর্নোভিডিও লোড দেওয়ার মাধ্যমে অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতন করা হচ্ছে। এছাড়াও ইন্ডিয়ান কিছু ক্রাইম চ্যানেলের মাধ্যমেও শিশুরা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। এখন যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বা প্রতিকারের আর সময় নেয়, এটাকে পুরোপুরি বন্ধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে