ড্রিম বাংলাদেশ ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের যাত্রা শুরু

প্রকাশিত: মে ৫, ২০১৯; সময়: ১১:৪৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘ড্রিম বাংলাদেশ ইয়ুথ অর্গানাইজেশন (ডিবিওয়াইও)’ একটি শিক্ষামূলক, অরাজনৈতিক ও সমাজ উন্নয়নমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের উদ্যমী শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে জন্মলাভ করেছে ডিবিওয়াইও। রোববার বিকেল ৪টায় রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে উদ্বোধন ও পরিচয়পত্র বিতরণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে এই সংগঠনটি।

‘তারুণ্যই শক্তি, তারুণ্যই দেশ, এই নিয়ে গড়ব সোনার বাংলাদেশ’ স্লোগানে রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭০ জনের মত শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার নাম ‘ড্রিম বাংলাদেশ ইয়ুথ অর্গানাইজেশন (ডিবিওয়াইও)’।

প্রেজেন্টেশন, ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও গোল সেটিং, নেটওয়ার্কিং স্কিল, পার্সোনাল গ্রুমিং, ইন্টার্ণশিপ, আইসিটি ট্রেনিং, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদক দূরীকরণ, জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ, বৃক্ষরোপণ, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবে এ সংগঠনটি। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্ম-উন্নয়ন, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ও নেতৃত্বের গুনাবলি অর্জন ও বিকাশ করাই এ সংগঠনের উদ্দেশ্য।

প্রাথমিকভাবে রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সংগঠনটি। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যমী শিক্ষার্থীদের সমন্বিত করে সমগ্র দেশে এবং ভবিষ্যতে সারা বিশ্বে এর কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে চায় এ সংগঠনটি।

উদ্বোধনী ও পরিচয়পত্র বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অন্য দুই উপদেষ্টা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর শাহ আজম শান্তনু এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবেন্দ্রনাথ রায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম ওসমান গনি ও রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী রাশেদ করিম। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও রাজশাহী কলেজের মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহিনুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর হবিবুর রহমান বলেন, আমার এটা ভেবে ভালো লাগছে যে, শিক্ষার্থীরা ভাবতে শিখেছে দেশের উন্নয়নে এমন সংগঠনের প্রয়োজন রয়েছে। ফিনল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের মত দেশে শিক্ষাব্যবস্থার সাথে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কারিকুলাম মিল থাকলেও প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক বিষয়ে পার্থক্য বিদ্যমান।

তিনি আরো বলেন, সেই দেশগুলোতে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে হাতেকলমে শেখানো হয়। এ প্রয়োগ দেখানো হয়। আমাদের দেশেও সেই শিক্ষা দেয়া হয়। আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে আমরা তত্ত্বীয় শিক্ষা ক্লাসে দিচ্ছি। কিন্তু এর প্রায়োগিক দিকটা অনুপস্থিত। যেটা পূরণ করে এরকম সংগঠন। নিজের উন্নয়ন করলেই সমাজ ও দেশের উন্নয়ন হবে বলে জানান তিনি।

প্রফেসর ড. ওসমান গণি বলেন, একটি মানুষের তিনটি দায়িত্ব রয়েছে। পরিবার, দেশ ও জাতি এবং বিশ্বমানবতার প্রতি দায়িত্ব।

এই সংগঠনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও কর্মকান্ডের মাধ্যমে তা পূরণ করা সম্ভব। যেমন- বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তিনটিই হতে পারে। বৃক্ষের ফল পরিবার ভোগ করতে পারে, এর কাঠ দেশ ও জাতীয়ভাবে কাজে লাগতে পারে এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তৈরী অক্সিজেন সারাবিশ্বের মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। মেধা ও প্রচেষ্টার সমষ্টিই হলো সফলতা। মেধা যেহেতু কনস্ট্যান্ট সেহেতু প্রচেষ্টার মাধ্যমেই জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। তিনি এ সংগঠনের ও শিক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ১১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও সকল সদস্যদেরকে পরিচয়পত্র বিতরণ করেন অতিথিরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে