এমপি মনসুরের প্রচেষ্টায় নতুন এ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন দুর্গাপুরবাসী

প্রকাশিত: মে ৩, ২০১৯; সময়: ১:১৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর : রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডাঃ মনসুর রহমানের প্রচেষ্টায় শীঘ্রই একটি অত্যাধুনিক এ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন দুর্গাপুরবাসী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ্যাম্বুলেন্সটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ মাসের প্রথম সপ্তাহেই এ্যাম্বুলেন্সটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ গত ১৮ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক (ভান্ডার ও সরবরাহ) বরাবর পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত ৪র্থ ফেইজ উন্নয়ন কর্মসূচীর অধীন কমিউনিটি বেইজড্ হেলথ্ কেয়ার অপারেশনাল প্লানের আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে জি-১৭৪২ প্যাকেজের বিপরীতে ৪০টি এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় করা হয়। ইতিপূর্বে ৫টি এ্যাম্বুলেন্স বিতরন করা হয়। বাঁকী ৩৫টি এ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি এ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালককে (ভান্ডার ও সরবরাহ)। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই এ্যাম্বুলেন্সটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ১৯৮৩-৮৪ অর্থ বছরে যাত্রা শুরু হয় দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। ২০ শয্যা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এটি ৩১ শয্যা বিশিষ্ট রোগী বান্ধব হাসপাতাল। নামে রোগী বান্ধব হাসপাতাল হলেও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। এখানে শিশু রোগীদের জন্য আছে ‘আইএমসিআই কর্নার’। পানি বাহিত বিভিন্ন রোগের জন্য আছে ‘ওআরটি কর্নার’। সার্বক্ষনিক চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগ চালু রয়েছে। বর্তমানে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিনে ১৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠাতে এ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু গত প্রায় এক বছর ধরে এ্যাম্বুলেন্সটির ইঞ্জিন বিকল পড়ে রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. দেওয়ান নাজমুল আলম জানান, গত বছরের ৩ মার্চ এ্যাম্বুলেন্সটির ইঞ্জিন বিকল হয়। পরের দিন ৪ মার্চ এ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে (স্মারক নং ২৩৩) লিখিত ভাবে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনে সাড়া না পেয়ে গত বছরের ১২ আগষ্ট পুণরায় (স্মারক নং ৮০৯) আবেদন করা হয়। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। বিধায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিষয়টি বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান মহোদয়কে জানানো হলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ^স্ত করেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি যাত্রা শুরুর পর ২০০৩ সালে একটি এ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়েছিল। দুর্গাপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাসিক মিটিংয়ে একাধিকবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি অত্যাধুনিক এ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। এছাড়া বিষয়টি বর্তমান সংসদ সদস্য মহোদয়কেও অবহিত করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডাঃ মনসুর রহমান বলেন, দুর্গাপুর উপজেলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করে এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি অত্যাধুনিক এ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দের জন্য মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও মাননীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সাথে একাধিকবার কথা বলেছি। মন্ত্রী মহোদ্বয়গণ আমাকে আশ^স্ত করেছিলেন। অবশেষে সাধারণ মানুষের সেই চাওয়া পাওয়া পুরন হতে চলেছে।

বর্তমান সরকারের আমলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করারও জোর প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানান সাংসদ ডা. মনসুর রহমান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে