সমালোচনা আর কলঙ্কভারে ন্যুব্জ বিএনপি

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২২; সময়: ১২:৪০ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সমালোচনা আর নানা কলঙ্কভারে ন্যুব্জ এখন বিএনপি। একদিকে যেমন ব্যক্তির কালিমায় কলঙ্কিত হয়েছে দল, তেমনি রয়েছে সাংগঠনিক কেলেঙ্কারিও। কেউ করেছেন অর্থ কেলেঙ্কারি, কেউ নারী কেলেঙ্কারি, আবার কেউ করেছেন সোনার মুকুট কেলেঙ্কারি। সুসময়-দুঃসময়ে বহু বিতর্কিত এসব ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে বিএনপিকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শীর্ষ নেতাদের অদূরদর্শিতা, স্বজনপ্রীতি আর ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল গুনতে হচ্ছে বিএনপিকে। এসব ভুলের কারণেই আজকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে এই পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।

অর্থ কেলেঙ্কারিতে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশে পলাতক দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশি-বিদেশিদের কালো তালিকাভুক্তসহ উইকিলিকসের ঝুড়িতে ঢুকতে হয়েছে বিএনপিকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, অতীতের অনেক ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে বিএনপিকে। এসব কাজের জন্য সংগঠনকেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। মূলত বিএনপির মধ্যে অতীতেও লোভ ছিল, এখনো আছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের লোভ সংবরণ করতে না পারায় পুরো সংগঠন বিতর্কিত হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, রাজশাহী বিএনপির নেতা নাদিম মোস্তাফার কথা। ২০০১ সালে বিএনপির আমলে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। পরের বছরই তার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে বাধ্য করেন তাকে সোনার মুকুট উপহার দিতে। এ ঘটনা নিয়ে তখন দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ কেলেঙ্কারির পরও নাদিম মোস্তাফা বিএনপির বিশেষ সম্পাদক পদে বহাল রয়েছেন।

বিএনপিকে বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি করেন আরেক নেতা ও জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবদীন ফারুক। আমেরিকা প্রবাসী দলীয় এক নেতার স্ত্রীর সঙ্গে তার ফোনালাপ হয়। যেসব কথা ছিল আপত্তিকর। স্ত্রীর সঙ্গে ঐরূপ কাণ্ড করায় প্রবাসী নেতা রহমত বিএনপির কাছে জয়নাল আবদীন ফারুকের বহিষ্কার চান।

কিন্তু রহমতের চাওয়া পূরণ হয়নি। দলের তরফ থেকে এ কেলেঙ্কারির ঘটনা নিয়ে নেতারা মুখ খোলেননি। তবে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন সময় সমালোচনা সইতে হয়েছে।

বিএনপির গায়ে কালিমা লেপন করেছেন গিয়াস উদ্দিন আল মামুনও। তিনি ছিলেন বিএনপির দ্বিতীয় কাণ্ডারি তারেক রহমানের বাল্যবন্ধু। বিএনপির ক্ষমতা এবং তারেক রহমানের হাওয়া ভবন এই দুই শক্তি ব্যবহার করে তিনি বৈধ-অবৈধভাবে টাকার পাহাড় গড়ে তোলেন। এই টাকার ভাগ গিয়েছে তারেকের পকেটেও।

বিএনপিকে শুধু পুরুষের কেলেঙ্কারিই হজম করতে হয়নি,কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন দলটির নারী নেত্রীরাও। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের স্ত্রী সাবিরা নাজমুল মুন্নি।

স্বামী খুন হওয়ার পর দলের তরফ থেকে তাকে ঐ পদে নির্বাচন করানো হয়। তিনি আটকা পড়েন দুদকের জালে। অবশেষে ২০১৮ সালে তাকে কারাবরণ করতে হয়। বিএনপি মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা বেগমের বিরুদ্ধেও কেলেঙ্কারির আঙুল তুলেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

একাধিক স্বামী বদলের কারণে নারী নেত্রীরা তার অধীনে রাজনীতি করতে চাইছেন না বলেও খোদ দলটির নেতাকর্মীদের ভাষ্য।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে