কেন্দ্রীয় উদ্যোগেও সাড়া নেই রাজশাহী বিএনপির নেতাকর্মীদের

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২২; সময়: ৪:৪৩ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মিনু-বুলবুল-মিলনকে মাইনাস করে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহী মহানগর বিএনপির ৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। নতুন কমিটির আহ্বায়ক করা হয় অ্যাডভোকেট এরশাদ আলি ইশাকে। এরপর ৫ মার্চ রাজশাহী মহানগর বিএনপির ৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। এ সময় পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নগরীর ৩৫টি ওয়ার্ডের কমিটি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্র থেকে।

কিন্তু গত দেড় মাসে রাজশাহী মহানগরীর একটি ওয়ার্ডেও কমিটি করতে পারেনি তারা। এই সংকট পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজশাহী বিএনপি নেতাদের মান ভাঙানোর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তাতেও সাড়া দিচ্ছেন না রাজশাহী বিএনপির সাবেক ওই প্রভাবশালী নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২ মার্চ দ্বন্দ্ব নিরসনে রাজশাহীতে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন। সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক পালাপালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সভায় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনসহ তাদের অনুসারী কোনো নেতা উপস্থিত হননি।

সর্বশেষ ১৫ এপ্রিল বিকালে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু দলীয় সংকট নিরসনে এক মতবিনিময় সভা ডাকলেও রাজশাহী বিএনপির প্রধান ওই তিন নেতা এবং তাদের অনুসারীরা আগের মতোই গরহাজির থাকেন। ১০ ডিসেম্বর বুলবুল-মিলন কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর এসব নেতা ও তাদের অনুসারীরা স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেননি।

এদিকে, বর্তমান কমিটির কয়েকজন নেতার অভিযোগ-মিজানুর রহমান মিনু, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও শফিকুল হক মিলন তাদেরকে সাংগঠনিক কাজে কোনো প্রকার সহযোগিতা করছেন না। উলটো তাদের অনুসারীরা ওয়ার্ড কমিটি গঠনে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলি ইশা বলেন, নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকে মিজানুর রহমান মিনুসহ তার অনুসারী নেতাকর্মীরা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন। আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। কিন্তু কয়েকদিন আগে ২৬নং ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ডাকলেও মিনু পক্ষের নেতাকর্মীদের বাধার কারণে তা হয়নি। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রকে জানিয়েছি।

১৫ এপ্রিল রাজশাহী মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে দলীয় সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বর্তমান কমিটির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং ওয়ার্ড কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেন।

এ বিষয়ে দুলু বলেন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাকে জানিয়েছেন, তারা ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে গিয়ে দলেরই একটি অংশের দ্বারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। নানা কারণে যারা কমিটিতে স্থান পাননি, তারাও বিএনপির পরীক্ষিত নেতাকর্মী। তারা কিছুদিন ধরে দলের কর্মসূচির বাইরে থাকছেন। আশা করি, মান-অভিমান ভুলে দেশ ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে তারাও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

রাজশাহীতে দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে গরহাজির থাকা প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন বলেন, রাজশাহী মহানগর কমিটিতে আমাদের কোনো পদ নেই। ১৫ এপ্রিল কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাজশাহীতে এলেও পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে আমরা ঢাকায় ছিলাম। এ কারণে মতবিনিময় সভায় থাকতে পরিনি।

মিলন আরও বলেন, আমরা সবাই শহিদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। দলের স্বার্থে যে কোনো পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য তৈরি আছি। সূত্র- যুগান্তর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে