রাজসিংহাসন লুটিয়ে পড়ার সম্ভবনা তৈরী হয়েছে : রেজভী

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২২; সময়: ৯:৩৫ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান সরকার পতনের ঘন্টা বেজে গেছে। যে কোন সময় রাজসিংহাসন লুটিয়ে পড়ার সম্ভবনা তৈরী হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রেজভী।

বুধবার বিকেলে রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর স্কুল মাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে রাজশাহী জেলা বিএনপির সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রেজভী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবদিক থেকে ব্যার্থ। জনগণ এখন তাদের শত্রু মনে করে। মিথ্যা আর কর্তৃতবাদী শাসন দিয়ে আর টিকে থাকা যাবে না। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সব অধিকার হরণ করেছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষ ও বিরোধী মতকে গুম করে উন্নয়নের বুলি দিচ্ছে। বিএনপি নেতা ইলিয়াস গুম হয়েছে, তার খোঁজ নেই। অসংখ্য বিএনপি কর্মী, ভিন্ন মতের মানুষ গুম হয়েছে, তাদের খোঁজ নেই। সরকারই এসব মানুষকে গুম করে মেট্রোরেল দেখায়, ফ্লাইওভার দেখায়, উন্নয়নের বুলি শোনায়।

তিনি বলেন, সরকার আরেকটি ভোট করতে চায়। যে ভোট রাতের আঁধারে হয়, যে ভোট সূর্যের আলোতে হয় না। যে ভোট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে আগের রাতেই ব্যালটে সিল মারা হয়। জনগণ সরকারকে আর এমন প্রহসনের ভোট করতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

সবাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সরকার গণতন্ত্র সমুলে ধ্বংস করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। শুধু তাই নয় পদ্মাসেতু নির্মাণে চল্লিশ হাজার কোটি টাকা দূর্নীতি করে বিদেশে পাচার করেছে।

যেসব আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা এই সরকারের এজেন্ডা বাস্তাবায়ন করছে তাদের চিহ্ণত করে রাখার জন্য নেতাকর্মীদের অনুরোধ করে মিনু আরও বলেন, এই সরকারের শেষ সময় হয়ে গেছে। বেগম জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার এবং এই অগতান্ত্রিক সরকারের পতনরে আন্দোলন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এই আন্দোলন আগামীতে আরো তীব্র হবে। সরকার পতনের এই আন্দোলনে সবাইকে রাজপথে থাকার আহবান জানান তিনি।

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাইদ চাঁদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সৈয়দ শাহীন শওকত ও ওবাইদুর রহমান চন্দন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায়, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী এশা, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক বিশ্বনাথ সরকার, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুন ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ভিপি ইব্রাহিম।

সমাবেশের শুরুতে মিজানুর রহমান মিনু ও রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অতিথিরা মঞ্চে উঠেন। এ সময় মঞ্চে উঠতে না পেরে মাঠে বসে পড়েন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

এতে বিব্রত হয়ে মঞ্চের সামনে বসে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা হট্টগোল শুরু করে। এ সময় হাতাহাতি ও পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় মঞ্চের দিকে জুতা স্যান্ডেল ছুঁড়ে কর্মীরা। পরে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে