ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ হবে বিএনপির সব ইউনিট

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩০, ২০২১; সময়: ১১:৪২ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করতে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সব জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করবে বিএনপি। এ নিয়ে দলের হাইকমান্ডের কঠোর অবস্থানে নড়েচড়ে বসেছেন দায়িত্বশীল নেতারা। সব কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনায় তোড়জোড় শুরু করেছেন তারা। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে কাউন্সিলের ক্ষেত্রে প্রশাসনের বাধা দেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি দলীয় কোন্দলে এবারও এ নির্দেশনার ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান দলটির নেতাকর্মীরা।

তারা বলছেন, কমিটি গঠন নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা যত আন্তরিক কিংবা কঠোরই হন না কেন, প্রভাবশালী নেতাদের হস্তক্ষেপে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের সৃষ্ট কোন্দলে সময়মতো কমিটি গঠন সম্ভব নাও হতে পারে। দ্রুত কমিটি করতে গেলে যোগ্য ও ত্যাগীদের বাদ পড়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, একদিকে বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম কয়েক দফা স্থগিত রাখা হয়। এছাড়াও সরকারের রোষানলেও দল পুনর্গঠনে গতি আসছে না। যদিও তৃণমূল নেতাকর্মীরা দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতিকেও দুষছেন।

সারাদেশে বিএনপির ৮১টি জেলা মর্যাদার সাংগঠনিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা মহানগর কমিটি প্রস্তাবিত আকারে রয়েছে। অন্যান্য কমিটির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ৪২টি, আহ্বায়ক কমিটি ৩৭টি। এসবের মধ্যে ২০১৪ ও ২০১৬ সালের ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি এবং ২০০৯ সালের পূর্ণাঙ্গ কমিটিও রয়েছে। ফরিদপুর জেলায় প্রায় তিন বছর ধরে কোনো কমিটিই নেই। কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে মাদারীপুর জেলার। কমিটির মধ্যে মেয়াদ রয়েছে শুধু মানিকগঞ্জ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির।

বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, সারাদেশে বিএনপির ১০টি বিভাগীয় সাংগঠনিক এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সাংগঠনিক অবস্থায় রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ। সাংগঠনিকভাবে দুর্বল কমিটিগুলোর দিকে বিশেষ নজর নেই বিএনপি হাইকমান্ডের। অনেক জেলা কমিটি এতই ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে, সেখানে বিএনপির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে।

ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগ: এ দুই বিভাগে বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিট ১৭টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির মেয়াদ রয়েছে। এখানে পূর্ণাঙ্গ ও আহ্বায়ক কমিটির একটিরও মেয়াদ নেই। এর মধ্যে গত বছরের ২০ মার্চ মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ঢাকা জেলা কমিটি নিয়ে বিব্রত দলের হাইকমান্ড। এক পক্ষীয় কমিটি নিয়ে হতাশ জেলার নেতাকর্মীরাও।

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা : এ বিভাগে ১৪টি সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি রয়েছে। এখানে লক্ষ্মীপুর জেলার কমিটির মেয়াদ রয়েছে। এ ছাড়া সব জেলা কমিটিই মেয়াদহীন।

রাজশাহী ও খুলনা : রাজশাহী বিভাগে ৯টি সাংগঠনিক ইউনিটের সবই মেয়াদোত্তীর্ণ। খুলনা বিভাগের ১১টি সাংগঠনিক ইউনিটের মেয়াদ নেই একটিরও। এ বিভাগের খুলনা মহানগরের কমিটির বয়স প্রায় ১১ বছর। ২০১০ সালে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সভাপতি ও মনিরুজ্জামান মনিকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বরিশাল : আটটি সাংগঠনিক ইউনিট কমিটির মেয়াদ নেই একটিরও। ভোলা জেলার কমিটি সর্বশেষ কবে হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্যও নেই বিএনপির দপ্তরেও। এ বিভাগের সবচেয়ে পুরোনো কমিটি পিরোজপুরে। ২০১২ সালে গাজী নুরুজ্জামান বাবুলকে সভাপতি ও আলমগীর হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

রংপুর ও সিলেট: রংপুর বিভাগের ১০টি সংগঠনিক ইউনিট। সিলেট বিভাগে পাঁচটি সাংগঠনিক ইউনিট। দুই বিভাগের একটি কমিটিরও মেয়াদ নেই।

ময়মনসিংহ: ছয়টি সাংগঠনিক ইউনিট কমিটির একটিরও মেয়াদ নেই।

বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন বলেন, আমরা আশা করছি, দ্রুত সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষ করতে পারব। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সব কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। যোগ্য ও ত্যাগীদের দিয়েই এসব কমিটি গঠন করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে