নওগাঁয় লাখ টাকায় আ.লীগের আবেদন ফরম বিক্রি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২১; সময়: ৫:৫৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ : নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে লাখ টাকায় আবেদন ফরম বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা না হলেও এর মধ্যেই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্তত ৩০ জনের কাছে এভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন নেতার ভাষ্য, ইউপি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ফরম কিনতে হয় দলটির ধানমন্ডি কার্যালয় থেকে। তবে তৃণমূলের বর্ধিত সভায় নাম প্রস্তাব করে কার্যবিবরণী কেন্দ্রে পাঠানো হয়। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ‘আবেদন ফরম’ বাণিজ্যে নেমেছেন নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনে দলীয় আবেদন ফরমের দাম পাঁচ হাজার টাকা। তবে ধামইরহাটে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী স্থানীয় আওয়ামী লীগের অন্তত সাত থেকে আটজন নেতা দাবি করেন, আবেদন ফরম পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে এখানে তৃণমূল থেকে নাম প্রস্তাবের আশ্বাস দিয়ে আবেদন ফরম বিক্রি করা হচ্ছে এক লাখ টাকায়।

অথচ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড এবার দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি উন্মুক্ত করে দেওয়ায় এই আবেদন ফরম না কিনলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আছে। তৃণমূল থেকে কারও নাম না পাঠালেও মনোনয়ন প্রত্যাশী ওই ব্যক্তি দলের ধানমন্ডি কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন কিনে জমা দিতে পারবেন। কিন্তু তৃণমূল থেকে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডে নেতিবাচক প্রতিবেদন পাঠানো হতে পারে- এমন আশঙ্কায় তারা এক লাখ টাকা করে দিয়ে আবেদন ফরম কিনেছেন।

উপজেলার আলমপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক নেতার ভাষ্য, তিনি এক লাখ টাকায় আবেদন ফরম কিনেছেন। কিন্তু টাকা গ্রহণের কোনো রসিদ তাকে দেওয়া হয়নি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু হানিফ বলেন, ‘এবার কাউন্সিল ঘিরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা আবেদন ফরম বাণিজ্য শুরু করেছেন। নিয়ম করা হয়েছে, কাউন্সিলে যাঁরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হবেন, তাদের উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কাছে আবেদন করতে হবে। সেই আবেদনের ফরম উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি ফরমের দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা। এত টাকা দিয়ে ফরম কিনতে আমি রাজি নই। আমার সামর্থ্যও নেই।’

ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আবেদন ফরম বিক্রির নামে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান এক লাখ টাকা করে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তার দাবি, ‘মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আবেদন ফরম দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন খরচের ব্যয় মেটানোর জন্য উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেক নেতার কাছ থেকে কিছু করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। আমি নিজেও টাকা দিয়েছি। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নেতাও টাকা দিয়ে থাকতে পারেন।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মালেক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার কানেও এসেছে। বিষয়টি নিয়ে ধামইরহাট আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম।

তাঁরা বলেছেন, সম্মেলনের ব্যয় মেটাতে তাঁরা একটা তহবিল করতে এই টাকা নিচ্ছেন। তবে যাঁরা মনোনয়ন পাবেন না, তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা। তারপরও বিষয়টি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের ফোরামে আলোচনা করা হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে