৪৪ বছরে বিএনপি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২১; সময়: ২:২৮ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ক্ষমতা বাইরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ বুধবার। ১৯৭৮ সালের এ দিনে ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপি বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বলে মনে করছেন দলের নেতারা। তারা বলছেন, এমন এক সময়ে বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে, যখন করোনা মহামারি সারা বিশ্বকে গ্রাস করে ফেলেছে। শর্ত সাপেক্ষ মুক্ত হলেও রাজনীতির বাইরে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফলে খুব সাদামাটাভাবে পালিত হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করে ২০২৩ সালে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন আদায় করা। আমাদের চেয়ারপারসনকে মুক্ত করা।

দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আজ থেকে ৪৩ বছর আগে দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এ দেশের মানুষকে একদলীয় দুঃশাসনের অন্ধকার যুগ থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।

‘‘আমি তার প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। বারবার দেশ ও গণতন্ত্রের সংকটকালে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে জুলুম-নির্যাতনকে সহ্য করেও দুর্বার আন্দোলনে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন আমি সেই অদম্য সাহসের প্রতীক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।’’

‘‘এ দিনে দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত যেসব নেতৃবৃন্দ মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের প্রতিও জানাই গভীর শ্রদ্ধা। বিএনপিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে এখন পর্যন্ত যেসব নেতাকর্মী আত্মদান করেছেন তাদের প্রতিও জানাই আমার অকৃত্রিম শ্রদ্ধা।’’

বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশ ও মানুষের উন্নয়ন এবং বিশ্বের সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান দুঃসময়ে জনগণকে সংগঠিত করার কোনো বিকল্প নেই। দেশ আজ দুঃশাসন কবলিত। তার ওপর করোনা মহামারির আক্রমণে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে দিনাতিপাত করছে দেশের মানুষ। গুম-খুনের আতঙ্ক মানুষের নিত্য সঙ্গী।

‘‘আইন, বিচার, প্রশাসনকে সরকার কব্জার মধ্যে রাখার চেষ্টায় মরিয়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেআইনি কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে সমাজে দেখা দিয়েছে বিপজ্জনক বিশৃঙ্খলা। সুতরাং জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্যই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’’

  • 66
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে