পঞ্চগড় ছাত্রলীগে হোক যোগ্যতা ও শ্রমের মূল্যায়ন

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২১; সময়: ৬:৩২ pm |

খুর্শিদ রাজীব : ২০১২ সালের কথা। পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আমাদের এসএসসি পরীক্ষা চলছিল। বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমরা ৫টি কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। রসায়ন পরীক্ষার দিন অন্যায় ভাবে এক বোর্ড পরিদর্শক একটি কক্ষে পরীক্ষার সময় শেষ হবার ১০ মিনিট আগে আমাদের বন্ধুদের খাতা কেড়ে নিয়েছিলেন।

কক্ষে ডিউটিরত ইনভিজিলেটরদের অনুরোধ, আমাদের বন্ধুদের হাতেপায়ে ধরাকেও উপেক্ষা করে তিনি খাতা নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। সহপাঠীদের অঝোর ধারায় কান্না দেখে আমরা হতভম্ব হয়ে ছিলাম। কি করব বুঝতে পারছিলাম না।

এমন সময় আমাদের মধ্যে একজন হুংকার দিয়ে উঠলো। এই অন্যায় মেনে নেয়া যাবে না। তিন তলা থেকে দৌঁড়ে নিচে গিয়ে মূল ফটক আটকে দিল। আমাদের সবার হয়ে ঘোষণা দিল, “এমন অন্যায় করে যেতে হলে তার লাশের ওপর যেতে হবে।” তাকে দেখে তার সঙ্গে আমরা প্রতিবাদে যোগ দিলাম।

খানিকক্ষণ বাদে দাঙ্গা পুলিশ এলো। লাঠিচার্জ শুরু হলো। আমরা ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে পালালাম। কিন্তু সে পালালো না। ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকলো। আমাদের আরও এক বন্ধু সাদিক শুভসহ সে পুলিশের মার খেলো, তাকে বাচাঁতে গিয়ে তার বড় ভাইও মার খেলো। হাসপাতালে নিতে হলো তাদের।

সেদিনের সেই প্রতিবাদী কণ্ঠটি আজ অনেক বড় হয়েছে। সেদিন ১২০ জনকে নেতৃত্ব দেয়া ছেলেটি আজ দেশের অন্যতম অবহেলিত জেলা ও উত্তরের জনপদ পঞ্চগড় জেলার ছাত্রদের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সে আমাদের বন্ধু ও ছাত্রনেতা আবু মো. নোমান হাসান।

তার সঙ্গে পরিচয় ও বন্ধুত্ব সেই ২০০৯ সাল, ক্লাস এইট থেকে। তখন থেকেই দেখে আসছি তাকে। স্বভাব নেতা যাকে বলে। চাপিয়ে দেয়া নেতা নয়, একটি দল বা গোষ্ঠীর ভেতর থেকে কাজের প্রমাণ দিয়ে নেতা হয়ে ওঠা একজন সে। স্কুল থেকেই সে বিপদে আপদে বন্ধুদের সবরকম সহযোগিতার হাত বাড়ানো ছেলে। যে কাজে ভয় আছে, ঝুঁকি আছে, সে সব কাজে তাকে সবচেয়ে আগে পাওয়া যায়।

গত কয়েক বছর ধরে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদটি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে দেখছি। করোনা দূর্যোগে মানুষকে নানাভাবে সহযোগিতা করতে দেখে আসছি। বন্ধু হিসেবে এসব গর্বের বিষয়।

নোমান, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। যদ্দূর জানি, তার পুরো পরিবার আওয়ামীলীগের তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সেই পাকিস্তান আমল থেকে। স্বভাবতই, এমন একটি পরিবারের ছেলে যোগ্য নেতাই হবে।

সম্প্রতি পঞ্চগড় জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে। নতুন কমিটির নেতৃত্বে যোগ্যতম দাবীদার সে। আশা করি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করবে। আমি পঞ্চগড় ছাত্রলীগের অন্য প্রার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে চিনিনা। তবে এইটুকু বলা যায়, তাদের মধ্যে নোমানকে নেতা মনোনীত করাটা কোনোভাবেই ভুল সিদ্ধান্ত হবে না।

গোটা দেশে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ডে সংগঠনটির ইমেজ ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গণমানুষের মধ্যে সেই ঐতিহ্যবাহী ইমেজ ফেরাতে হলে অবশ্যই নোমানদের মত স্বচ্ছ, যোগ্য, মেধাবী ও পরিশ্রমী নেতাদেরই নেতৃত্বে আনতে হবে।

পাশাপাশি এই অবহেলিত জেলাটার অনেক সমস্যার মধ্যেও অনেক সম্ভাবনা আছে। রাজধানী থেকে দূরবর্তী হওয়ায় অনেক কিছুই এখানে সহজলভ্য নয়। চিকিৎসা ব্যবস্থা বেহাল। রাস্তাঘাট ভালো হলেও নাগরিক সুবিধাগুলোতে অনেক পিছিয়ে এই জেলার মানুষ। শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও অনেক পিছিয়ে।

অনেক সমস্যার মধ্যেও সম্ভাবনা আছে অনেক। এখানো ল্যান্ড পোর্ট আছে৷ পোর্টটি ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও চীনের কেন্দ্র স্থল। চা, ড্রাগন, মাল্টা, কমলা প্রভৃতি অর্থকরী ফসল হয়, পাথর তোলা হয়। উন্নয়ন হবার জন্যে সব কিছুই আছে। শুধু প্রয়োজন এসব রিসোর্সকে দেখার মত চোখ ও কাজে লাগাবার মত হাত।

এসব সমস্যা কাটিয়ে সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানো সম্ভব হবে যখন এই জেলায় ছাত্রলীগের মত প্রভাবশালী সংগঠনের নেতৃত্বে নোমানদের মতই নেতারা আসবে। আজকের এই ছাত্রনেতারা আগামীকালের জননেতা। তাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ পঞ্চগড় ইউনিটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবার সময় এই অঞ্চলের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্বকে মাথায় রেখে মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করবে, এখন সেটাই প্রত্যাশা।

নোমানের সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চগড় ছাত্রলীগের কমিটিতে বিভিন্ন পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন আমার বাল্যকালের বন্ধু সাদেকুল ইসলাম বাবু, আরিফুল ইসলাম শুভ, জাহিদ জনি। আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে পঞ্চগড় ছাত্রলীগের কমিটিতে আমার স্কুলের বন্ধুরা আছে৷ সেই কৈশর-শৈশব থেকেই দেখে আসছি, তারা যে জাত নেতা সেটা তাদের কর্মকাণ্ডেই বোঝা যায়।

আওয়ামী পরিবারের সন্তান সাদেকুল ইসলাম বাবু সেই ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন। একজন সুদর্শন মডেল ও শর্টফিল্ম নির্মাতা সহযোগী। তার বাবা জেলা আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। রেলস্টেশন এলাকার উন্নয়ন ও জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্যে

ধাক্কামারা এলাকা তথা বিপি স্কুলের আশপাশের পরিচিত মুখ আরিফুল ইসলাম শুভ। নেতা হিসেবেই তার পরিচয়, এলাকার মানুষ বিপদ আপদে যাকে সবচেয়ে আগে পায়। পঞ্চগড় জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে নেতৃস্থানীয় পদে সে যোগ্যতম প্রার্থী। আশা করি সে তার প্রত্যাশামত পদ পাবে।

হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়নামিক ছাত্রনেতা জাহিদ হাসান জনি। পঞ্চগড় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে অতি পরিচিত ও স্নেহ-ভালোবাসার মুখ। সংগঠনের খাতিরে প্রতিনিয়তই সে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি সাংগঠনিক কাজে যে অগ্রগামী সৈনিক। সম্প্রতি পঞ্চগড়ের করোনা রোগীদের জন্যে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা পৌঁছে দেয়ার মত উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রসংশায় ভাসছে নোমান হাসান ও জাহিদ হাসান জনিরা।

আশা করব, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাদের প্রত্যেককে তাদের যোগ্যতম পদ দিয়ে সুবিবেচনা করবে। পঞ্চগড় ছাত্রলীগের কাউন্সিলে আমার সহপাঠী ও পরিচিতদেরসহ সকলের জন্যে শুভকামনা।

 

  • 91
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে