কুষ্টিয়ায় দেড় বছর ধরে করোনা ওয়ার্ড সামলাচ্ছেন ৬৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২১; সময়: ৫:৪২ pm |

জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া : প্রত্যেকের গায়ে পেস্ট কালারের টি-শার্ট। বয়স কুড়ি থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে এমন এক ঝাঁক তরুণের নিরন্তর ছোটাছুটি। কেউ অক্সিজেন সিলিন্ডার বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ রোগীর পালস মাপছেন। আবার কেউ রোগীর নাকে অক্সিজেনের নল লাগাচ্ছেন। যেকোনো সময় কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে গেলে এমন দৃশ্য চোখে পড়বে।

এই যুবকদের কেউ হাসপাতালের কর্মী নন। তবুও গত দেড় বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার-নার্সদের পাশাপাশি এভাবেই করোনা রোগীদের সামলাচ্ছেন। এরা কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের এক ঝাঁক সাহসী কর্মী।

করোনায় বিপর্যস্ত শহর থেকে শুরু করে কুষ্টিয়া জেলার প্রত্যেকটি গ্রাম। ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে রোগীর ভিড় সামলাতে ডাক্তার আর নার্সদের নাজেহাল হবার জোগাড়। এমন সংকটকালে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগ। তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাতদিন সমানে কাজ করে চলেছেন এক ঝাঁক ছাত্রলীগ কর্মী। তাদের এই অনন্য দৃষ্টান্ত প্রশংসা কুড়াচ্ছে সব মহলের।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালকে ইতিমধ্যে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের সেবা ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। তবে তাতেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না রোগীর। হাসপাতলের করোনা ওয়ার্ডে শয্যার পাশাপাশি রোগীদের ঠাঁই হয়েছে বারান্দা আর করিডোরে। তাদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও ডাক্তাররা।

এই দুঃসময়ে তাদের সাহায়ে এগিয়ে এসেছেন ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা। জীবন বাজি রেখে এক ঝাঁক ছাত্রলীগকর্মী রোগীর জন্য ওষুধ পথ্য কেনায় সহায়তা, অক্সিজেন সরবরাহ, রোগীর নাকে অক্সিজেনের নল লাগানোসহ নানা কাজ করে চলেছেন নিরলসভাবে। একদিন দুদিন নয়, প্রায় দেড় বছর ধরে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ৬৫ জন ছাত্রলীগকর্মী পালা করে এসব কাজ করে চলেছেন।

রাতদিন করোনা ওয়ার্ডে সেবা দিতে গিয়ে অনেকেই এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন এ মারণ ভাইরাসে, আবার বাধা আছে পরিবার থেকেও। তাতে মনোবল হারাননি এই তরুণ দল।

এই তরুণদের দলনেতা কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ জানান, মানবসেবার থেকে আর কোনো ভালো কাজ হতে পারে না। ছাত্রলীগ দেশের ক্রান্তিকালে সব সময় মানুষের পাশে থেকেছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে তারা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে লোকবল সংকটে ভোগা ডাক্তার-নার্সের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি জানান, এতে জীবনের ঝুঁকি আছে। এরইমধ্যে বেশ কিছু কর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু তারা দায়িত্ব থেকে সরে যাননি। সুস্থ হওয়ার পর আবার যোগ দিয়েছেন কাজে।

তিনি বলেন, ‘এতে তাদের মনে কোনো খেদ নেই। যখন কোনো রোগী করোনাকে জয় করে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন তখন তার মুখে থাকে এক চিলতে তৃপ্তির হাসি। সে হাসিটুকু এই করোনা যোদ্ধা ছাত্রলীগ কর্মীদের সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।’

ছাত্রলীগকর্মীদের এই দৃষ্টান্তমূলক কাজে খুশি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও রোগীর স্বজনরা। করোনা ওয়ার্ডের চিকিৎসক টপি রানী কুন্ডু বলেন, তাদের পাশাপাশি ছাত্রলীগ কর্মীরা যেভাবে করোনার আক্রান্ত মানুষকে বাঁচাতে লড়াই করে চলেছেন তা নজিরবিহীন। হাসপাতালের লোকবল সংকটকে পুষিয়ে দিচ্ছেন এই ছাত্রলীগ কর্মীরা।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, ছাত্রলীগের এই দামাল ছেলেগুলো যদি সময়মতো না এগিয়ে আসতো তাহলে করোনা রোগ চিকিৎসায় অনেক সংকট তৈরি হতে পারত। তিনি বলেন, করোনাকালে দেশের সব জায়াগায় ছাত্রলীগ কর্মীরা এমন ভূমিকা রাখলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সঙ্কট কমে আসবে।

  • 324
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে