সিরাজগঞ্জে এস এম কামালের হুঁশিয়ারির ঘটনায় বেলকুচিতে তোলপাড়

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২১; সময়: ৪:৪৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম ও তার ভাই পৌর মেয়র সাজ্জাদুল হক রেজার আওয়ামীলীগ বিরোধী অবস্থান এবং দল বিরোধী আচরনের কঠোর হুশিয়ারী দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম কামাল হোসেন সিরাজগঞ্জে প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরন সভায় এই হুশিয়ারীর ঘটনায় জেলা জুড়ে তোলপাড় চলছে।

২ পদে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হওয়া ঐ দুই ভাই সম্পর্কে সে সভায় তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমি যদি সাংগঠনিক সম্পাদক থাকি কোন কমিটিতে আপনারা ঢুকতে পারবেন না। কোন পদ পাবেন না। বেলকুচি উপজেলা চেয়ারম্যান নাকি বলেন, আমাকে লিখিত দিতে হবে। আপনি কবে আওয়ামীলীগে যোগ দিছেন? ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন। আওয়ামীলীগে এসেছেন। ভদ্রভাবে আওয়ামীলীগ করতে হবে। আপনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। কার লোক সেটা আমি জানি না। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের পদ থেকে বাদ যাবেন। আওয়ামীলীগ করতে পারবেন, আপত্তি নাই। কিন্তু নিয়মনীতি মেনে চলতে হবে। নেতা হতে পারবেন না।

বক্তব্যে সাজেদুল ইসলামের আরেক ভাই বেলকুচি পৌরসভার মেয়র সাজ্জাদুল হক রেজার নাম উল্লেখ করে এস এম কামাল বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে পৌরসভার মেয়র হইছেন, যুবলীগ থেকে আপনাকে বহিঃস্কার করেছে। আমি যদি সাংগঠনিক সম্পাদক থাকি কোন কমিটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। আমি আজ কিছু কথা বলতে চাই। স্মরণ সভায় যদিও এগুলো বলা ঠিক না। ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল নেত্রী গ্রেফতার হওয়া পর্যন্ত যারা লড়াই সংগ্রাম করেছেন তাদেরকে নেতৃত্বে নিয়ে আসেন। যারা বিএনপি, খালেদা, তারেক আর জামায়াতের বিরুদ্ধে লড়াই করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২৩৭ সিট লাভ করেছেন তাদের পেট্রোনাইজ করুন। নতুন লোক আওয়ামীলীগের দরকার নাই।

তিনি বলেন, যারা পিঠ বাঁচানোর জন্য বিএনপি থেকে এসেছেন যদি কোন নেতার সাথে থাকেন আগামী সম্মেলনে সেই নেতা কমিটিতে থাকতে পারবে না। আমি যদি সাংগঠনিক সম্পাদক থাকি-তবে আমাকে যদি সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে বাদ দিতে পারেন তবে কোন কথা নাই। জেলার কিংবা উপজেলার সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক আমার হাতে নেই। কিন্তু বাকি পদগুলো আমি দেখবো।

 

এদিকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্মরণ সভায় বেলকুচি উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রকে হুঁশিয়ারি দেয়ার বক্তব্য বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। এজন্য জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এস এম কামালের এই বক্তব্য। এদিকে এমন হুশিয়ারী দেয়ায় সাধারন মানুষ এবং দলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন দল যদি এমন সিদ্ধান্ত নেয় তবে নব্য সুবিধা ভোগী তোষামদী আওয়ামীলীগরা সতর্ক হবে। ফিরে আসবে নিবেদিতদের সুদিন। আওয়ামীলীগ তার আদি ঐতিহ্য রক্ষা করতে পারবে।

 

বিষয়টি নিয়ে সাজেদুল ও রেজার নিজ এলাকা বেলকুচি, এনায়েতপুর ও চৌহালীতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুরের আব্দুস সোবাহান বলেন, বেলকুচিতে আওয়ামীলীগের রাজনীতি আর রাজনীতি নেই। কে কোথা এসে দলের পদ পদবি নিয়ে জোড় করে ভোট নিয়ে জনপ্রতিনিধি হয়ে যাচ্ছে। তাদের কাছে দলের ত্যাগী নেতারা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। এর থেকে পরিত্রান চায় জনগন। এখন আওয়ামীলীগের জনপ্রতিনিধিদের তোষামদ করে জামাত-শিবিররাও দলীয় জনপ্রতিনিধিদের উপদেষ্টা। সব সময়ের সফরসঙ্গী। তাই এই সময়ে আওয়ামীলীগের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম কামাল হোসেনের ঘোষনা বাস্তবায়ন হলে দল ও নেতা-কর্মীরা তাদের অত্যাচার অবিচার থেকে যেমন রক্ষা পাবে। তেমনি মুল্যায়িত হবে জাতির পিতার আদর্শের নিবেদিত মানুষ গুলো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে