আ.লীগসহ সহোযোগি সংগঠনের করোনার অজুহাতে কমিটি গঠন কার্যক্রম বন্ধ

প্রকাশিত: জুন ১, ২০২১; সময়: ৮:২৫ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বৈশ্বিক মহামারী করোনার এই দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমও ঝিমিয়ে পড়েছে। করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে দলের নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলটির সকল ‘কমিটি’ গঠনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এমকি সহোযোগি সকল সংগঠনের ফুল কমিটি গঠনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কিছু এলাকায় সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত হলেও ফুলফেস কমিটি গঠন বন্ধ রয়েছে করোনার অজুহাতে। এতে ঝিমিয়ে পড়ছে নেতা কর্মীরা।

তৃণমূলের অনেক নেতা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তবে করোনা দীর্ঘমেয়াদি হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ভিন্ন কৌশল প্রয়োজন বলে মনে করছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক সিনিয়র নেতা।

তৃণমূলের এক নেতা বলেন, করোনা যদি কয়েক বছরেও না যায় তাহলে কি এভাবে দল চলতে থাকবে। নাকি দলের পক্ষ থেকে কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করবে। আমাদের অনেক উপজেলার মেয়াদ অনেক বছর ধরে চলছে। করোনার কারণে সেটা আরো বাড়বে মনে হচ্ছে। তাহলে দীর্ঘদিন যারা পদ-পদবির আশায় সংগঠন করে আসছে তাদের কী হবে? দলের দুঃসময়ের অনেকেই দলের জন্য কাজ করেছেন কিন্তু বর্তমানে দল ক্ষমতা থাকলেও তারা এখনো বঞ্চিত। কেন্দ্রীয় কমিটি নির্দিষ্ট সময়ে সম্মেলন করে। কিন্তু তৃণমূলে এটা হয় না।

এ বছরের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে সুবর্ণজয়ন্তীর ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত হন।

দলীয় সূত্র জানায়, এর আগে সীমিত আকারে বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিবর্ষ’ উদযাপনের মূল অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে সব সম্মেলনের কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু করোনার সংক্রমণ শুরু এবং দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। এর ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আর এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় যে কর্মকাণ্ড ছিল করোনার কারণে এখন তা নেই। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সেই তুলনায় অনেক কিছুতেই সীমিত হয়ে আসছে। এটা বাস্তবতা।

তিনি আরো বলেন, করোনা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সীমিত করে রাখা ঠিক হবে না। এই কারণে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হবে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করার কথাই আমরা ভাবছি। মাননীয় নেত্রীর নিদের্শনা অনুযায়ী এই আলোকে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করব।

এদিকে, সারা দেশে দলের সদস্য পদ নবায়ন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ এ বছরের প্রথম থেকেই শুরু হওয়ার কথা ছিল। করোনা পরিস্থিতিতে তৃণমূল থেকে শুরু করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সম্মেলনের পাশাপাশি নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজও এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে দলের স্থগিত হয়ে থাকা কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে চান আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।

নেতারা জানান, ২০২০ সালে স্বাভাবিক কার্যক্রম কয়েক মাস স্থগিত থাকলেও দল নিষ্ক্রিয় থাকেনি। করোনায় বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে ত্রাণ, চিকিৎসা উপকরণসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে আওয়ামী লীগ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও প্রস্তুত থাকতে এরইমধ্যে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রথম ঢেউয়ের মতো দিতীয় ঢেউ মোকাবিলায়ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে থাকবে। সেভাবেই সবাইকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের পর করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হওয়ার পর কয়েকটি উপজেলা ও জেলা সম্মেলন এরইমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়েও সম্মেলনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের এক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, মুজিববর্ষের সময় অনেক উপজেলা কমিটির সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছিল। তা এখনো স্থগিত রয়েছে। তাছাড়া কেন্দ্র থেকে দেয়া নির্দেশের বাইরে এখন কোনো কিছুই করা যাচ্ছে না। কমিটির কোনো সদস্য অপরাধ করলেও তাকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার জন্যও কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এক কথায়, জেলার সকল কার্যক্রম এখন কেন্দ্রের নির্দেশেই হয়ে থাকে। আর বর্তমানে তেমন কোনো কার্যক্রমও নেই। করোনাকালে নেতারা কেউ খোঁজ-খবর রাখছেন না। সংগঠনের মূল কাজ স্থগিত রেখে অন্যান্য কাজ ভালোভাবে করা যায় না। সংগঠন অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়ে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, করোনার কারণে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া বন্ধ। কিন্তু সব জায়গা যোগাযোগ আছে। করোনা একটু স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এলে আমরা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করব। আমাদের ত্রাণ কমিটি কাজ করছে। করোনার মধ্যে মানুষের পাশে থাকাও সাংগঠনিক কাজ, সাংগঠনিকভাবেই নেতারা কর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শুধু কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটিই বন্ধ আছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে