মামুনুলের পেছনে পাকিস্তানের অর্থায়ন

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২১; সময়: ১০:৩০ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতার নামে সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের কুটিল ষড়যন্ত্রের নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। কওমি মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রদের ভুলভাল বুঝিয়ে তিনি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেন। এ জন্য এক মাস আগেই উপাসনালয়, আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ছক কষা হয়। দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা।

আর এই অপকর্মে মামুনুলকে সহায়তা ও অর্থের যোগান দেয় বিএনপি-জামায়াত এবং পাকিস্তান। এমন তথ্য উঠে এসেছে ভারতীয় দৈনিক ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে। গত ২৩ এপ্রিল তাদের অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি লিখেছেন দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে শলাপরামর্শের ভিত্তিতেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ঘিরে সহিংসতা চালায় হেফাজত। এক্ষেত্রে মামুনুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার সঙ্গে আফগানিস্তানে তালেবানদের হয়ে যুদ্ধ করা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জিহাদিদের যোগাযোগ আছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছেন মামুনুল নিজেই।

ভারতের ওই সংবাদমাধ্যম জানায়, নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় পৌঁছার পর সহিংসতা হলেও এর পরিকল্পনা করা হয় অন্তত এক মাস আগে। এ ব্যাপারে কিছু নথিপত্র পেয়েছে পুলিশ। মোদি বিরোধিতার আড়ালে ব্যাপক নাশকতার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এজন্য অর্থ আসে পাকিস্তান থেকে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী কিছু বাংলাদেশি সরকারবিরোধী সমাবেশ ও কর্মকাণ্ডের জন্য নগদ অর্থ পাঠান।

হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে বাবুনগরী ও মামুনুল লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভ বাস্তবায়নে তারেকের বড় ভূমিকা ছিল। সার্বিক বিবেচনায় হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় খালেদা জিয়াসহ অন্যদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করা যায় কি-না সে বিষয়ে তদন্ত করছেন গোয়েন্দারা।

এ দিকে মামুনুলের তিনটি বিয়ের তথ্য পুলিশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। যদিও প্রথম বিয়ে ছাড়া অন্য দুটির কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন-অর-রশিদ সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, হেফাজতের নেতাকর্মীদের উসকানি দিতেন মামুনুল। তিনি বলতেন, শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে হেফাজতের সমর্থন ছাড়া কেউ ক্ষমতা দখল করতে পারবে না।

গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে একটি মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবসহ বিভিন্ন ঘটনায় ১৭টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরবিরোধী আন্দোলনের সময় সহিংসতার মূল হোতা হিসেবেও মামুনুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

  • 70
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে