স্বাস্থ্যবিধিতে সতর্ক ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২১; সময়: ১২:৫৭ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জরুরি দরকার না পড়লে বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবন থেকেই পাখির ডাক শোনেন তিনি। বিশেষ করে কোকিলের ডাক তাকে আকৃষ্ট করে।

মাঝেমধ্যে জরুরি হয়ে পড়লে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নিজ দফরে উপস্থিত হতে হয়। কিন্তু অবস্থান করেন খুব অল্প সময়। যেমন গত ৮ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বহু দিনের ব্যবধানে গিয়ে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে হাজির হন। ফাইলপত্রে স্বাক্ষর ও জরুরি কাজ শেষ করে দ্রুতই মন্ত্রণালয় থেকে চলে যান। ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠসূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

বাসা থেকে প্রায় প্রতিদিন ওবায়দুল কাদের ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। তার একাধিক ঘনিষ্ঠজন ঢাকা পোস্টকে জানান, ওবায়দুল কাদের নতুন কয়েকটি বই কিনেছেন। তিনি এসব পড়ছেন। এছাড়া নিয়মিত সংবাদপত্র পড়ছেন। আগের মতো হাঁটাচলার অভ্যাস বজায় রেখেছেন। তবে এই করোনাকালে বড় আত্মবিশ্বাসী তিনি। বিষাদ তাকে ছুঁতে পারে না।

৯ এপ্রিল (শুক্রবার) সকাল ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হয়ে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। মহামারি করোনাকালে হাত-পা গুটিয়ে শুধু ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। বাঁচতে হলে লড়তে হবে, লড়াই করে জিততে হবে। হতাশার কোনো কারণ নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনাযুদ্ধের নেতৃত্বে আছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, যিনি শত বিপদ, বাধা, চ্যালেঞ্জের মুখেও হাল ছাড়েন না। আসুন, সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতি থেকে বেরিয়ে দল-মত নির্বিশেষে বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়াই। সরকারের পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার সামর্থ্যবানদের সাহায্যের হাত খেটে খাওয়া মানুষ ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর দুঃখ-কষ্টের লাঘব ঘটাতে পারে।

সিঙ্গাপুরে দুই মাস ১০ দিন চিকিৎসা শেষে ২০১৯ সালের ১৫ মে দেশে ফিরেছিলেন ওবায়দুল কাদের। এরপর কয়েকবার তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন। ২০১৯ সালের ৩ মার্চ সকালে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। এনজিওগ্রাম করার পর করোনারি ধমনিতে তিনটি ব্লক ধরা পড়েছিল। উপমহাদেশের বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠির পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিন ৪ মার্চ তাকে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর ২০ মার্চ মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়।

বাইপাস সার্জারির পরও তাকে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করতে হয়েছিল। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে এসেও বড় আত্মবিশ্বাসী তিনি। প্রতিদিন নিজের ফেসবুক পেজে তার ছবিগুলোয় এই আত্মবিশ্বাসের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। আজ মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে ওবায়দুল কাদের তার ফেসবুক পেজে যা লিখেছেন তার বাংলা করলে দাঁড়ায়, আমাদের শিখতে হবে কীভাবে করোনার সঙ্গে জীবনযাপন করতে হবে।

  • 36
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে