চার ইস্যুতে রাজপথে থাকতে চায় বিএনপি

প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২১; সময়: ২:২৭ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : চার ইস্যুতে রাজপথে নামতে চায় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এই ইস্যুগুলোতে আগামী দিনে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে চাচ্ছে। আর সেটা গত কয়েক দিনে রাজপথে জানান দেয়ার চেষ্টা করেছে দলটি। এর ফলে রাজপথের পরিস্থিতি কিছুটা বদল হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ইস্যুগুলো হলো- নিরপেক্ষ নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ পদক বাতিল ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। এ সব দাবিতে রাজপথে মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং সমাবেশ করছে দলটি। আর এই চার ইস্যুতেই দলটি রাজপথে থেকে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়।

তবে বিএনপিকে সতর্ক করে দিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আওয়ামী লীগ মাঝে মধ্যে আমাদের বিভিন্ন সংবেদনশীল জায়গায় স্পর্শ ও আঘাত করবে। সেটা নিয়ে যদি আমরা ব্যস্ত হই তাহলে তারা আরামে দিন কাটাবে। গত ১২ থেকে ১৩ বছরে আওয়ামী লীগ একেক সময়ে একেটা সেনসিটিভ ইস্যু সামনে নিয়ে এসেছে। সেটা নিয়ে আমরা খুব উত্তেজিত। কিন্তু আসল জায়গায় ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ আমরা হাত দিতে চাই না।

ইতিমধ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে দেশের ৬টি মহানগরীতে সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে ২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনায় এবং ২ মার্চ রাজশাহী মহানগরীতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাবেশগুলোতে বক্তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, নিরপেক্ষ নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের কথা বলেছেন। পাশাপাশি জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ পদক বাতিলের প্রসঙ্গটি যুক্তিসহ জনগণের কাছে তুলেছেন সমাবেশে যোগ দেয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদেরকে দাঁড়াতে হবে। শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে। আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এই সরকারকে সরাতে হবে। কারণ এই সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার নয়। এই সরকারের কোন বৈধতা নেই।

তাই জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনেই এই সরকারের পতন হবে। ক্ষমতাসীনদের পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফখরুল।

এদিকে গত ১৪ বছর ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে শুধুমাত্র দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ৯৩ দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিলো। পরে রাজপথে তেমন বড় ধরণের কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। এরপর নেতা কর্মীরা দল নয়, বরং নিজেদের রক্ষার্থে ব্যস্ত ছিলেন। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আবারও তারা নতুন করে সংগঠিত হতে শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি দলটি রাজপথে আক্রমণাত্মক হয়েছে উঠেছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সমাবেশের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। ওই সময় পুলিশের লাঠিপেটা চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশের লাঠিপেটায় সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হয়।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। একপর্যায়ে নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। এতে বিক্ষোভ সমাবেশটি পণ্ড হয়ে যায়। এই ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ ছাত্রদলের ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়। তবে সরকার প্রতিবাদকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করছে বলে মনে করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণেই রাষ্ট্রসমাজে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এখন আইনের রক্ষক না হয়ে দেশবাসীর কাছে মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। ভোটারবিহীন একদলীয় শাসনকে টিকিয়ে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাইভেট বাহিনীর মতো কাজ করছে। এই অরাজকতা মানুষ আর সহ্য করবে না। সংগ্রামী জনতা পথে-ঘাটে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে।

  • 62
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে