রাজপথ উত্তপ্ত হচ্ছে, প্রস্তুত থাকুন : টুকু

প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২১; সময়: ৬:২৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, গনতন্ত্র বারবার জীবিত হয়। আর এই গনতন্ত্র ফিরি আসবে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে। রাজপথ উত্তপ্ত হওয়া শুরু হয়েছে; তাই নেতাকর্মীকে আগামীকে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

মঙ্গলবার রাজশাহীতে বিভাগীয় বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। পুলিশের অনুমতি নিয়ে বিকেলে রাজশাহী নগরের পাঠানপাড়া এলাকায় নাঈস কনভেনশন সেন্টারে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী এক ভাচুয়াল মিটিংয়ে বলেছেন, ‘আমার জীবন স্বার্থক, আমি বাঙালিক জনতার কাছে তাদের গণতন্ত্র ফেরত দিয়েছি।’ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চাই, আপনাকে কেন জনগণের ওপর নির্ভর না করে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তাদের কর্মচারি পুলিশ অফিসার, ডিসিদের ওপর নির্ভর করতে হয়? তাহলে কি আপনার গণতন্ত্রের ডেফিনশন পরিবতন হয়ে গেল?”

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে টুকু বলেন, “আপনি বলেন, ‘আমি উন্নয়ন করেছি, উন্নয়ন করেছি’। আপনি উন্নয়ন করেছেন, সেই জন্য তো ফরিদপুরের ছাত্রলীগের সভাপতি দুই হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। একটা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি যদি এতো টাকা পাচার করে তাহলে প্রধানমন্ত্রী, আপনার রাঘব বোয়ালরা কত টাকা পাচার করেছে বাংলাদেশের মানুষ সেই হিসাব চায়।’’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজশাহীর এই সমাবেশ করতে চাইলাম মাদ্রাসা মাঠে। কিন্তু আপনি এটিকে সংকোচিত করে নাইস কনভেনশন সেন্টারে করতে দিলেন। আপনি হয়তো ভেবেছেন, বিএনপির সমাবেশে লোক হয় না। আপনি নাকি ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছেন, আপনার ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে দেখেন সমাবেশে লোকে লোকারণ্য।’

তিনি বলেন, ‘আপনি সকালে যখন রাজশাহীতে নামলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় রাস্তাঘাট যেমন ফাঁকা ছিল, রাজশাহীর অবস্থা ঠিক তেমন দেখলাম। কীসের ভয়। আপনি তো গণতন্ত্র দিয়ে দিয়েছেন। তারপরও কিসের এতো ভয়? সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘ ফেরাউনসহ সবার পতন হয়েছে। আপনারও পতন হবে এই রাজশাহী থেকে। বাংলাদেশে ৫২ তে রাজপথে ফায়সালা হয়েছে। ৫৪ থেকে ৬৯ রে রাজপথে ফায়লাসা হয়েছে। ৯১ এ রাজপথে ফায়সালা হয়েছে। প্রস্তুত হন এই রাজপথে ফায়সালা হবে। গণতন্ত্র হারিয়ে যাওয়া জিনিস না, কারো পকেটের মোয়া না। গণতন্ত্র বার বার জীবিত হয়।’

পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য ঝাপিয়ে পড়েছিলো। কিন্তু আজ স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে দেখছি সেই পুলিশ বাহিনী আর আজকের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে কোনো মিল নাই। তখনকার পুলিশ বাহিনী ছিল বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের অগ্রসৈনিক। ২৫ তারিখ রাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণ দিয়েছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সিপাহীরা। আজকে বাংলাদেশের পুলিশ একটা দলের কর্মী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।’

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশিদ এমপি, বিএনপির সাংগঠনি সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নাদিম মোস্তফা, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া তাবিথ আউয়াল প্রমূখ।

ইশরাক হোসেন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের নামে দেশে কী হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরে একটা আনন্দঘন ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু তার পরিবর্তে দেশে এই অনির্বাচিত সরকার গুম, খুন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ, মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ, ভোটের অধিকার হরণ করেছে। মানুষের এসব অধিকার ফিরিয়ে আনতে আজ আমরা স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে আন্দোলনের বার্তা নিয়ে এসেছি।

ইশরাক হোসেন বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে কালো আইন করেছে সরকার। জিয়াউর রহমানের খেতাব নিয়ে সরকার তামাশা করছে। আজ বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক নেতৃত্ব সরকারের ক্ষমতায় নাই। তাই এই অবৈধ সরকারকে উৎখাত করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

  • 183
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে