ইউনিয়নে কয়েক স্তরে প্রার্থী বাছাইয়ে আ.লীগ

প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২১; সময়: ৫:৫১ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে আরো গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটি মনে করে তৃণমূল হচ্ছে তাদের প্রাণ। আর এ কারণে প্রার্থী বাছাইকে বেশ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি স্তর উত্তীর্ণ হতে হবে প্রার্থীদের। সেই সঙ্গে মাঠের সঠিক তথ্য তুলে আনতে ইতিমধ্যেই গোপন জরিপ কাজও শুরু হয়েছে।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলীয় প্রতীক নিয়েই ইউপি নির্বাচন হবে। আর এজন্য তিন স্তরের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে দলটি। এসব যাচাই শেষে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের মাধ্যমে চূড়ান্ত ভাবে একক প্রার্থী বেছে নেয়া হবে। বিতর্কিতদের ঠেকাতে এরই মধ্যে সতর্ক রয়েছে দল।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি ইউনিয়নে বর্ধিত সভা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেখানে সবার মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের জন্য সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। ইউনিয়ন থেকে সুপারিশ করে নাম পাঠানো হবে উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে।

তারা বিচার বিশ্লেষণ করে সেটি আবার জেলা কমিটির কাছে পাঠাবে। জেলা কমিটি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সেলে সুপারিশকৃত নামগুলো পাঠাবে। তাদের বায়োডাটা বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে যেকোন একজনকে দেয়া হবে নৌকার মনোনয়ন।

দলের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বর্ধিত সভার মাধ্যমে প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ইউনিয়ন পাঠাবে উপজেলায়, উপজেলা পাঠাবে জেলায় আর জেলা পাঠাবে কেন্দ্রে। দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভার মাধ্যমে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

তৃণমূলের রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় দলীয় মতভেদ সৃষ্টি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী তৈরি হওয়া মানে মতভেদ তৈরি হওয়া নয়। দলের সিদ্ধান্ত মানবে কি মানবে না, সেটি তার ইচ্ছা। তবে বিদ্রোহীদের বিষয়ে দলের অবস্থান পরিস্কার। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেউ পার পাবে না।

দলের আরেক সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, অনেক জায়গায় কমিটি নাও থাকতে পারে। সেখানে উপজেলার তত্ত্বাবধানে রেজুলেশন পাঠানো হবে। সেখান থেকে জেলা হয়ে আমাদের নেত্রীর কার্যালয়ে আসবে।

ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মতভেদ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, দলীয় মতভেদের কিছু নাই। আমরা গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দেখেই মনোনয়ন দেই। যদি কোথাও ওই ধরণের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাহলে আমরা আমাদরে নিজস্ব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিবেচনা করবো।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমাদের নির্দেশনা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পেয়ে গেছেন। সে অনুযায়ী তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। আমাদের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজগুলো একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি নির্বাচনের আগেই আমরা এটা করে থাকি। যোগ্য প্রার্থীরাই নির্বাচনের জন্য দলের মনোনয়ন পাবেন।

রেজুলেশন চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ার বিষয়ে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার প্রেম কুমার মন্ডল বলেন, তৃণমূল থেকে কমপক্ষে তিনজনের নাম পাঠানোর কথা রয়েছে। তবে তার অধিকও পাঠানো যাবে। যারা যারা মাঠে আছে তাদের নাম কেন্দ্রে প্রেরণ করা যাবে। যখন যে উপজেলার শিডিউল ঘোষণা করা হবে সে অনুযায়ী রেজুলেশন পাঠাতে হবে। সবগুলো ইউনিয়নের রেজুলেশন যে একবারে পাঠাতে হবে এমনটি না।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে খুলনা জেলার কয়রা এবং দাকোপ উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। আবার বটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নেও প্রথম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শিডিউল ঘোষণার দু’একদিনের ভেতরে এগুলো পাঠিয়ে দিতে হবে।

  • 274
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে