রাজশাহীর চার পৌরসভায় বিদ্রোহী নিয়ে বিব্রত আ.লীগ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২১; সময়: ৯:১৫ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর চার পৌরসভাতেই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে চার বিদ্রোহী প্রার্থী ভোট করছেন। আর বিএনপির দলীয় মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছেন একজন। ফলে দুই দলেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখন পর্যন্ত ভোটের মাঠে আছেন। এ নিয়ে দলীয় কলহ কোন্দলও বেড়েছে। বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

গত ১৬ জানুয়ারি আড়ানী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলী দলীয় প্রার্থীকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় আওয়ামী লীগে মনোনীত মেয়র প্রার্থী পৌর কমিটির সভাপতি অয়েজুদ্দিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু। বাবু রোববার মনোনয়ন জমা দিয়েই অনুগত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা শুরু করে দেন। অন্যদিকে দল মনোনীত প্রার্থীও দলের একাংশকে নিয়ে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন।

গোদাগাড়ীতে বিএনপি গোলাম কিবরিয়া রুলুকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখানে জামায়াত প্রার্থী ওবাইদুল্লাহ স্বতন্ত্র হিসেবে মেয়র পদে ভোট করছেন। গোদাগাড়ীতে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ হবে।

রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ হাফিজুর রহমানকে মনোনয়ন দিলেও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারী খান বিদ্রোহী হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। নওহাটায় জামায়াত কোনো প্রার্থী না দিলেও বিএনপি শেখ মকবুল হোসেনকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে।

রাজশাহীর কেশরহাটে আওয়ামী লীগের শহীদুজ্জামান শহীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছেন মো. রস্তুম আলী। তবে রস্তুম আলীকে ভোটের মাঠ থেকে সরাতে চেষ্টা তদবির চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কেশরহাটে বিএনপি খোশবুর রহমানকে মনোনয়ন দিলেও তাকে ভোটের মাঠে দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এলাকার ভোটাররা। কেশরহাটে ভোট হবে ৩০ জানুয়ারি।

রাজশাহীর মুন্ডুমালা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমিনের বিরুদ্ধে মাঠে লড়ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুর রহমান। সাইদুর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আগামী ৩০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন যত এগিয়ে আসছে বিদ্রোহী ও দলীয় প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হচ্ছে। মুন্ডুমালাতে বিএনপির ফিরোজ কবীর দাঁড়ালেও ভোটের মাঠে তিনি নিষ্ক্রিয় থাকছেন বলে এলাকার ভোটাররা জানিয়েছেন।

রাজশাহীর তানোরে ভোট হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। এখানে আওয়ামী লীগের ইমরুল হক একক প্রার্থী হলেও বিএনপির মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ভোট করছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুল মালেক। তানোর পৌরসভাটি গত ২০ বছর ধরে বিএনপির দখলে আছে। এবার আওয়ামী লীগ সেটি উদ্ধার করতে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে।

চার পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লাহ বলেন, নওহাটা ও গোদাগাড়ীতে বিদ্রোহীরা শেষ অবধি মনোনয়ন তুলে নেবেন আশা করছি। কেশরহাটে ইতিমধ্যে বিদ্রোহী মো. রস্তুম আলী নৌকাকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে মুন্ডুমালাতে বিদ্রোহীর বিষয়ে কেন্দ্রকে অবহিত করা হয়েছে।

  • 239
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে