দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২০; সময়: ৩:২৯ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটের দাবিতে আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারা দেশের জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, গত শনিবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠক এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পূর্বের রাতে ভোট ডাকাতির ও তথাকথিত একটি প্রহসনের কলঙ্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রহসনের নির্বাচনে বর্তমান অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার অযোগ্য নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের যোগসাজশে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে ক্ষমতা দখল করে। ভোটাধিকারকে হরণ করে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ আজ একটি কর্তৃত্ববাদী স্বৈরতান্ত্রিক ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা, ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কারণে গোটা জাতি এখন নির্বাচন কমিশনের অপসারণ চায়। ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক-এর রাষ্ট্রপতির নিকট চিঠি প্রদান সেই সত্যতাই প্রমাণ করেছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর সেই কলঙ্কময় কালো দিবসের দ্বিতীয় বৎসর পূরণ হবে।

বাংলাদেশের মানুষ এই দিনটিকে ক্ষোভ ও ঘৃণার সঙ্গেই স্মরণ করে। ২০১৮ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারা দেশের জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সকাল ১১টায় বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর যৌথভাবে প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠান করবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত ১৭ ডিসেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যার বিস্তারিত জনগণের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। চিলাহাটি ও হলদিবাড়ী রেল সংযোগ প্রতিস্থাপিত করা হয় এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাংলাদেশ ভারতের কাছে থেকে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন ক্রয় করবে। অনেকেরই ধারনা ভ্যাকসিন বিক্রয়ের বিষয়টিই ছিলো মূল উদ্দেশ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান তো হচ্ছেই না অধিকন্তু বাংলাদেশের এই অনির্বাচিত নতজানু সরকার বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের স্বার্থ বাস্তবায়ন করছে। অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে কোনও সমঝোতা হয়নি। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের চুক্তির বিষয়ে বারবার আশ্বাস দিয়ে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনও সমাধান হয়নি।’

ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিনা বিচারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী হত্যা করছে। যা বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি স্বরূপ। বিনা বিচারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা, বাংলাদেশের মানুষের কাছে কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ১৯৭২ থেকে আজ পর্যন্ত মোট ১৫১০ জন এবং ২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ৪৩৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। বৈঠকে সীমান্তে হত্যা বন্ধে বাংলাদেশের সরকারকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয় বলেও তিনি জানান।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বৈঠকে বলা হয়, কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও বিতরণের একটি পরিকল্পনা সরকার প্রকাশ করলেও তা জনগণের কাছে স্পষ্ট নয়। ভ্যাকসিন সংগ্রহ, তার সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং বিতরণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা জরুরি। সংগ্রহকৃত ভ্যাকসিন সুনির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ, দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বিতরণ এবং নীতিমালা সঠিকভাবে পালন করে ভ্যাকসিন গ্রহীতার কাছে ভ্যাকসিন প্রয়োগ, ভ্যাকসিন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিষয়গুলো সম্পর্কে কোনও বিলম্ব না করে রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং তা জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে অবহিত করন- সকল ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করন এবং জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে পুরো পরিকল্পনা জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে বৈঠক মনে করে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে