রাজশাহীর কাটাখালি পৌরসভায় আ.লীগে বিদ্রোহ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২০; সময়: ৩:১৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রথম ধাপের নির্বাচনে রাজশাহী শহরের উপকষ্ঠে অবস্থিতি কাটাখালি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। মঙ্গলবার তারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের আব্বাস আলী ও বিএনপির অধ্যাপক সিরাজুল হক।

দুইজন দলীয় প্রার্থী ছাড়াও এ পৌরসভায় স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আরও পাঁচজন। যাদের মধ্যে তিনজনই আওয়ামী লীগ নেতা। বাকি দুইজন জামায়াতের। ফলে এখনে বিএনপিতে একক প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগে থাকছে বিদ্রোহী প্রার্থী।

এ পৌরসভায় তফসিলের আগে থেকেই সক্রিয় ছিলেন আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী। বিশেষ করে বর্তমান মেয়র আব্বাস আলী বিরোধীরা শক্ত অবস্থান নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এরা হলেন, পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সামা, আওয়ামী লীগ নেতা খোকনুজ্জামান মাসুদ ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মোতালেব। তারা ছাড়ও এ পৌরসভায় দুইজন জামায়াত নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন, সাবেক মেয়র ও জামায়াত নেতা অধ্যাপক মাজেদুর রহমান ও আবদুল হাই।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছেন, এ পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী ছাড়াও আওয়ামী লীগের তিনজন নেতা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তারা সবাই মেয়র আব্বাস আলী বিরোধী। তবে এদের মধ্যে প্রার্থী থাকবেন একজন। মনোনয়নপত্র জামা দেয়ার আগের দিন মেয়র আব্বাস বিরোধী আওয়ামী লীগ নেতারা বৈঠক করে একজনকে প্রার্থী রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। দুইজন জমা দলেরও তারা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবে।

বিদ্রোহী প্রার্থী আবু সামা বলেন, কাটাখালি পৌরসভা আওয়ামী লীগের প্রবীন ও ত্যাগী নেতাকর্মী তাদের সঙ্গে আছেন। তবে তিনজনের মধ্যে কে প্রার্থী থাকবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রত্যাহারের আগে সেটি চূড়ান্ত হবে। যে বেশী জনপ্রিয় তিনি প্রার্থী থাকবেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্বাস আলী মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সাংবাদিকদের বলেন, গত পাঁচ বছরে কাটাখালি পৌরসভায় এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। সেই উন্নয়ন দেখে দলীয় নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসী আমার সঙ্গে রয়েছে। এখনো আওয়ামী লীগের কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে সে জামানত হারাবে। ফলে বিদ্রোহী নিয়ে ভাবছি না বলেন তিনি।

এদিকে, একক প্রার্থী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক সিরাজুল হক। তিনি বলেন, বর্তমান মেয়রের মামলা, হামলা ও হয়রানিতে পৌরবাসী অতিষ্ঠ। এখনো বিএনপির ভোট বেশী রয়েছে। ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারলে বিপুল ভোটে ধানের শীষের জয় হবে।

কাটাখালি পৌরসভায় মেয়র পদে সাতজন ছাড়াও সংরক্ষিত নারী আসনে ১০ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ৩ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১০ ডিসেম্বর। প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১১ ডিসেম্বর। এর পরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে। প্রতিটি পৌরসভাতেই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হবে।

  • 207
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে