তবুও তারা ছাত্রলীগ নেতা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২০; সময়: ২:১৩ অপরাহ্ণ |
তবুও তারা ছাত্রলীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেছে প্রায় অর্ধযুগ আগেই। তবুও তারা ছাত্রলীগের নেতাই রয়ে গেছেন। যদিও বলতে গেলে ‘নিষ্ফ্ক্রিয়’ই হয়ে পড়েছেন এবং জেলা ছাত্রলীগের রাজনীতিও হয়ে পড়েছে স্থবির।

রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব মাস্টার্স শেষ করেছেন ২০১৫ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। গোপনে বছর তিনেক আগে পুঠিয়ার এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার মেয়েকে বিয়ে করে ঘর-সংসারও করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এবার পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করতে ছোটাছুটিও করছেন তিনি।

সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজও ধুমধাম করে বিয়ে করেছেন গত বছরের জুলাইয়ে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন দলীয় মনোনয়ন নিয়ে। তারপর ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ‘স্থানীয় রাজনীতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড’ নিয়ে।

এত কিছুর পরও হাবিবুর রহমান ও মেরাজুল ইসলাম ছাত্রলীগের নেতা! এর মধ্যে সংগঠনের গঠনতন্ত্রবিরোধী নানা কাজের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে সালিশ দরবার ও টেন্ডার বাণিজ্য করার। রাজশাহীতেই কোটি কোটি টাকার বালুমহালের ব্যবসা রয়েছে সাধারণ সম্পাদক মেরাজের।

২০১৪ সালের ৭ মে হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে হাবিব খানকে সভাপতি ও মেরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছর মেয়াদি রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্তু এক বছর মেয়াদি সেই কমিটি দিয়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রম চলছে এখনও। সাড়ে ছয় বছর ধরে কমিটিকে ধরে রাখলেও জেলার ১৩টি ইউনিটের মধ্যে মাত্র তিনটিতে সম্মেলন করতে সক্ষম হয়েছেন হাবিব-মেরাজ।

কয়েকটিতে কমিটি হয়েছে সম্মেলন ছাড়াই। এখানেও গোদাগাড়ী উপজেলা, বাগমারা উপজেলা ও ভবানীগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কমিটি দিতে পারেননি তারা। এগুলোর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়েছিল ১৪ বছর আগে।

হাবিব-মেরাজের দেওয়া সাতটি উপজেলা কমিটির প্রতিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। ইউনিটগুলোতে পকেট কমিটি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সভাপতি পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে এবং সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন তারা। জাতীয় দিবসের কর্মসূচিতেও তাদের ঠিকমতো না পাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ, হাবিবুর রহমান ও মেরাজুল ইসলাম দু’জনই প্রভাব খাটিয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হয়েছেন। হাবিবুর রহমান ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে পুঠিয়া উপজেলার জামায়াতে ইসলামী নিয়ন্ত্রিত আল ইনসানিয়া ইসলামীয়া একাডেমি নামের একটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হয়েছেন। মেরাজুল ইসলাম সভাপতি হয়েছেন বাঘা উপজেলার কিশোরপুর উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির।

এ প্রসঙ্গে সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নতুন কমিটি হলে তরুণ নেতৃত্ব আসবে, সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। তাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করেছি, দ্রুত রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দিতে। তাছাড়া আমি আগামী পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আছি। ছাত্রলীগের নেতৃত্বে তাই আর থাকতে চাই না।’ তবে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে মেরাজুল ইসলামকে মঙ্গলবার দুপুরে কল করলে নম্বরটি ব্যস্ত পাওয়া যায়। পরে অনেকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘চলতি নভেম্বরের মধ্যেই জেলা কমিটি দিতে চেয়েছিলাম। সে জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে সহযোগিতাও চেয়েছি। ব্যস্ততার কারণে এখনও তিনি দিনতারিখ ঠিক করতে পারেননি। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই রাজশাহী জেলা কমিটি হয়ে যাবে, আশা করি।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জেলা ছাত্রলীগকে নতুন কোনো ইউনিট কমিটি দিতে না করা হয়েছে। যেসব ইউনিট কমিটি বাকি আছে বা মেয়াদ শেষ হয়েছে সেগুলো নতুন কমিটির মাধ্যমে গঠন করা হবে। সূত্র- সমকাল

  • 89
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে