কে হচ্ছেন রাজশাহী নগর সভাপতির রানিংমেট?

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০; সময়: ৩:৫২ অপরাহ্ণ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ৫ বছর পর আগামী ১ মার্চ রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এ সম্মেলন ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে নগর রাজনীতি। বিশেষ করে পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন অনেকেই। পদপ্রত্যাশীদের পোস্টার-ব্যানারে নগরে সড়কের মোড়গুলো রঙিন হয়ে উঠেছে। তবে এবার নগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে চমক আসছে এমনটাই মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

কাউন্সিল ঘিরে নেতায় নেতায় রাজশাহীতে নানা মেরুকরণও শুরু হয়েছে। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের বিকল্প দেখছে না নেতাকর্মীরা। ফলে এ পদ নিয়ে ভাবছেন না তারা। তবে সাধারণ সম্পাদক নিয়ে সমীকরণটা জটিল। কারণ এ পদের জন্য ছোটাছুটি করছেন ডজন খানেক নেতা।

বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার পদটি ধরে রাখতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। ক্লিন ইমাজের শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পদক পদ পথে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় রয়েছেন নগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নাইমুল হুদা রানা ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু। যাদের মধ্যে পারিবারিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবাদে বেন্টুর নগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনে শক্তিশালী অবস্থান ও সমর্থন রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীদের দৌড়ে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছেন তিনি।

এদের বাইরে সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, নওশের আলী, আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম সরকার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু, রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবু, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুজ্জামান শফিক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ শরিফুল ইসলাম বাবু, ও মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জোবায়ের আহমেদ রুবন।

এদিকে, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপ-সম্পাদক আশরাফ হোসেন নবাব।

নগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী সাবেক ছাত্রনেতা আহসানুল হক পিন্টু বলেন, রাজশাহীর তৃণমূল নেতাকর্মীরা চান টেন্ডারবাজ, দখলবাজ ও সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক যাতে কেউ মহানগরে নেতৃত্বে আসতে না পারেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে অপশক্তিকে মোকাবেলা করতে পারবে এমন নেতৃত্ব চায়।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু বলেন, একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কে বজায় রেখে রাজশাহী করে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং তাদের নূন্যতম চাওয়া পাওয়া ও দুঃখ্য-কষ্ট সমাধান করার চেষ্টা করি আমার জায়গা থেকে। এছাড়াও যেহেতু তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে উঠে এসেছি। তাই তৃণমূলের সমস্যা ও দুঃখ-কষ্ট বুঝি। সেই বিবেচনায় যদি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হতে পারি তবে মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দলকে আরও শক্তিশালী করতে পারবো।

সম্মেলন সামনে রেখে তার বিরুদ্ধ বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে দাবি করে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘আমি যদি রাজশাহী নগরের বঙ্গবন্ধুর কথা বলার লোক তৈরী করে থাকি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লোক তৈরী করে থাকি; জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমি যদি কাজ করে থাকি তবে নেতাকর্মীরা আমাকে মূল্যায়ন করবে। আর আমি যদি খারাপ কিছু করে থাকি তবে নেতাকর্মীরা আমাকে তিরস্কারও করতে পারে। ফলে নেতাকর্মীরা চাইলে আমি স্বপদে বহাল থাকবো, না চাইলে থাকবো না। গত পাঁচ বছর আমি দলের জন্য ভাল করেছি কিনা তা নেতাকর্মীরাই ভাল জানে।’

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয় ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর। ওই কাউন্সিলে খায়রুজ্জামান লিটন সভাপতি ও ডাবলু সরকার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

উপরে