ব্যাপক রদবদল আসছে আ.লীগের সাংগঠনিক নেতৃত্বে

প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০১৯; সময়: ১:০৪ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদল আসছে। তৃণমূলের কমিটিগুলোতেও আসতে পারে ব্যাপক রদবদল। এমনটাই গুঞ্জন চলছে দলের হাইকমান্ডে।

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, আগামী অক্টোবরের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে দলের যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদের প্রায় সবগুলোতে আসছে নতুন মুখ। পরিবর্তন আসতে পারে দলের সেকেন্ড ম্যান সাধারণ সম্পাদক পদেও। যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে যারা টানা তিন সম্মেলনে একই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবারের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হচ্ছে এটা প্রায় নিশ্চিত। চার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে পরিচিত মুখই আসবে। আর আট সাংগঠনিক সম্পাদক পদের বেশিরভাগে আসবে নতুন মুখ।

২০০৯ সালের ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের ১৮তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তারপর আরও দুটি সম্মেলনে মোট ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যারা একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন এর মধ্যে রয়েছেন দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি ও জাহাঙ্গীর কবীর নানক। এ তিনজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নিজেদের বর্তমান পদ থেকে অন্য দায়িত্বে যেতে পারেন।

সূত্রগুলোর দাবি, দলের সর্বশেষ সম্মেলনে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হওয়া আবদুর রহমান অন্য কোনো পদে পদায়ন না হলে এ পদে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আর অন্যদের জায়গা হতে পারে সভাপতিমণ্ডলী ও কেন্দ্রীয় সদস্য পদে। দলের কয়েকটি সভাপতিমন্ডলীর সদস্য পদ ফাঁকা আছে। এ ছাড়া বর্তমান সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আবদুল মান্নান খানের জায়গা হতে পারে দলের উপদেষ্টা পরিষদে। ফলে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের আরও দু-একজন সিনিয়র ত্যাগী নেতার জায়গা হতে পারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীতে।

২০০৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা আহমদ হোসেন, অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরীরও এবার অন্য পদে পদায়ন হচ্ছে। দু-একজনের পদোন্নতি হতে পারে। বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল হকের ফাইল মন্ত্রিসভায় ঘোরাঘুরি করছে। যেকোনো সময় ডাক পড়তে পারে তাদের।

তবে সর্বশেষ সম্মেলনে অভিষিক্ত নতুন দুই সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম ও মুুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের স্বপদে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে যুক্ত হবে কিছু নতুন মুখ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এ তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির কয়েকজন, সাবেক ছাত্রনেতা ও আওয়ামী পরিবারের সন্তান। এর মধ্যে দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসাইন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসাইন, সাবেক ছাত্রনেতা মাহমুদ হাসান রিপন, সাইফুজ্জামান শিখর, আয়েন উদ্দিন এমপি, হাসান আরিফ, খলিলুর রহমান খলিল, বলরাম পোদ্দার, আজিজুস সামাদ আজাদ ডন ও মসিউর রহমান হুমায়ুনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মূল আকর্ষণ থাকে দলের সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরে। এবারের সম্মেলনেও এ পদে পরিবর্তনের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকটি সূত্র জানায়, সাধারণত প্রতিটি সম্মেলনের আগে সাধারণত দলের সভাপতি শেখ হাসিনা সাধারণ সম্পাদক পদ চূড়ান্ত করে তারিখ ঘোষণা করেন। এবারও প্রধানমন্ত্রী নিজেই সম্মেলনের তাগাদা দিয়েছেন।

এ বছরের শুরুতে ১৩ ফেব্রুয়ারি গণভবনে দলের নেতাদের তিনি বলেছিলেন, আমি চাই, যথাসময়ে সম্মেলন হোক, দলকে গতিশীল করতে যথাসময়ে সম্মেলন দরকার। সম্মেলনের মাধ্যমে দলটাকে আমি গুছিয়ে যেতে চাই। আওয়ামী লীগের একটি ইতিহাস আছে, সংগঠন হিসেবে ইতিহাস আছে, ঐতিহ্য আছে। সংগঠনকে আমি আরও সুন্দরভাবে গোছাতে চাই। বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের জন্য সংগঠনকে আরও জনপ্রিয় ও শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নিতে চাই।

দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অসুস্থাবস্থায় থাকাকালেও কয়েকবার প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের প্রস্তুতির বিষয়ে তাগাদা দিয়েছেন। দলের নেতারা বলছেন, নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রী বিকল্প ভেবেই সেই তাগাদা দিয়েছেন। এখনও তিনি সে অবস্থানে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে এ প্রতিবেদকের আলাপকালে তারা সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনার আভাস দিয়েছেন। এ পদে আসার সম্ভাবনার আলোচনায় রয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আবদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের সম্মেলনের অংশ হিসেবে সারা দেশে কাউন্সিলর তালিকা হালনাগাদ হবে। জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা কম। বর্তমান কমিটির সময়ে শুধু মৌলভীবাজার জেলা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠান হয়েছে। তবে হাতেগোনা কয়েকটি জেলা ছাড়া বাকি জেলাগুলো খুব বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ নয়। তবে সারা দেশের বেশকিছু উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠান হবে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু উপজেলায় সম্মেলনের তারিখও দেওয়া হয়েছে। আর সব জেলায় বর্ধিত সভা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাউন্সিলর তালিকা তৈরি করবেন। এর মধ্যেই অনেক জেলায় বর্ধিত সভা হয়ে গেছে।

এবারের সম্মেলনে গঠনতন্ত্রে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে প্রস্তাবিত কুমিল্লা ও ফরিদপুর নতুন বিভাগকে আমলে নিয়ে নতুন দুই বিভাগের জন্য দুটি সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রতি দুই বিভাগে একজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসাব করলে নতুন তিনটি পদ বাড়াতে হবে। এবারের সম্মেলনে এ তিনটি পদ বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। নতুন বিভাগ হয়ে গেলে এর পরের সম্মেলনে তিনটি পদ বাড়তে পারে।

আট বিভাগে বর্তমানে আওয়ামী লীগের আটজন সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করছেন। কুমিল্লা ও ফরিদপুর প্রস্তাবিত বিভাগ হলেও এবারের সম্মেলনে এ দুই বিভাগে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। শেষ বেলায় যদিও এ দুই বিভাগের জন্য দুটি সাংগঠনিক সম্পাদক পদ তৈরি করা হয়; তাহলে একটি যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদও তৈরি করতে হবে। সে ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে তিনটি পদ বাড়াতে হবে। তবে এবারের সম্মেলনে এ সম্ভাবনা কম বলে জানান দলটির নীতি নির্ধারকরা। তবে এর পরের সম্মেলনে এ তিনটি পদ বাড়বে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • দিনের আলোতেও রাতের আঁধার দেখে বিএনপি: কাদের
  • ‘মানুষকে বাঁচানোই এখন একমাত্র রাজনীতি’
  • ১৫ জুলাই পর্যন্ত বিএনপির কমিটি গঠন স্থগিত
  • মোহাম্মদ নাসিম স্বরণে জেলা যুবলীগের দোয়া মাহফিল
  • মাধপুর আ.লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
  • রাজশাহীতে নগর আ’লীগের উদ্যোগে ৭১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
  • তানোরে দুইভাগে বিভক্ত আ’লীগের ৭১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
  • শিবগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
  • পোরশায় স্বল্প পরিসরে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন
  • ‘আরেক মীরজাফর মোশতাক ও জিয়ার চক্রান্তে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়’
  • ‘সাত দশক ধরে আ.লীগ সংকটে মানুষের পাশে’
  • আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু
  • ৭১ বছরে আওয়ামী লীগ
  • ‘জাতির কল্যাণকর অর্জনে আ. লীগের ভূমিকা রয়েছে’
  • উপরে