ভ্যাকসিন আবিষ্কারে অফিসে ফেরার চাপ বাসা থেকে কাজেই স্বচ্ছন্দ বেশির ভাগ কর্মী

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২০; সময়: ১২:২৩ pm |

পদ্মাাইমস ডেস্ক : নভেল করোনাভাইরাস মহামারীতে বিশ্বজুড়ে ছোট থেকে বড় বিভিন্ন সংস্থা কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিল। সংক্রমণ কমে আসায় কিছু দেশে এরই মধ্যে অনেক কর্মী অফিসে ফিরতে শুরু করেছেন। আবার অনেক দেশে এখনো কর্মীরা বাসা থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন অনুমোদন এবং ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় প্রয়োগ শুরুর পর কর্মীদের অফিসে ফিরিয়ে আনতে নড়েচড়ে বসেছে সংস্থাগুলো। তবে কর্মীদের অফিসে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না বলে নতুন একটি প্রতিবেদন ইঙ্গিত দিচ্ছে। খবর ব্লুমবার্গ।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বর্তমানে বাড়ি থেকে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক কর্মী মহামারী শেষেও দূর থেকে কাজ করার বিষয়টি চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।

অক্টোবরে চালানো পিউয়ের জরিপে অংশ নেয়া এক-তৃতীয়াংশ কর্মী বলেছেন, তারা অন্তত মাঝেমধ্যে বিকল্প হিসেবে বাড়ি থেকে কাজ করতে চান। আর মাত্র ১১ শতাংশ কর্মী বলেছেন, তারা খুব কম বা কখনই বাসা থেকে কাজ করতে চান না।

প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ স্নাতক কিংবা আরো উচ্চতর ডিগ্রিধারী কর্মী জানিয়েছেন, তাদের কাজ দূর থেকে করা যেতে পারে। অন্যদিকে শিক্ষাগত ডিগ্রি নেই, এমন মাত্র ২৩ শতাংশ কর্মী দূর থেকে কাজ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়ও একই রকমের ফলাফল উঠে এসেছে। ২ ডিসেম্বর প্রকাশিত সমীক্ষাটিতে বলা হয়েছে, মহামারী অনুসরণ করে দূরবর্তী কাজ উৎপাদনশীলতা ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

১৫ হাজার মার্কিনির ওপর চালানো সমীক্ষায় উঠে এসেছে, বাসা থেকে কাজের বিষয়ে বেশির ভাগ সংস্থা ও কর্মীর ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে এবং এটি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে।

বর্ধিত নমনীয়তা বাড়ি থেকে কাজের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে অসুস্থ হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগগুলো পিউ সমীক্ষায়ও উচ্চ স্থানে রয়েছে। একইভাবে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন ব্যাপকভাবে পাওয়া গেলেও ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা প্রাক-মহামারীর কার্যকলাপে বিশেষ করে জনাকীর্ণ পাতাল রেলে ভ্রমণ ও লিফটে ওঠা কিংবা অভ্যন্তরীণ পরিবেশে রেস্তোরাঁগুলোয় খাওয়ার মতো বিষয়গুলোয় ফিরে আসতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন।

এদিকে পিউ সমীক্ষায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মী বলেছেন, তারা পুনরায় অফিসে ফিরে আসতে খুব অস্বস্তি বোধ করবেন। এছাড়া ৫৮ শতাংশ কর্মী কভিড-১৯-এ সংক্রমণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অসুস্থতার বিষয়ে পুরুষের চেয়ে নারীরা এবং শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক কর্মীরা বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতে, শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক মার্কিনিদের কভিড-১৯ ভাইরাসে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ২ দশমিক ৮ গুণ বেশি। ফ্রন্ট লাইনের কর্মী, খুচরা প্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রগুলোয় বেশি কাজ করা এবং চিকিৎসাসেবায় কম সুযোগ থাকার কারণে তাদের মৃত্যুহার বেশি।

পিউয়ের জরিপে অংশ নেয়া সব কর্মীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ জানিয়েছেন, তারা তাদের কাজ নিয়ে কম সন্তুষ্ট। এক-তৃতীয়াংশ কর্মী সহকর্মীদের সঙ্গে কম সংযুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন এবং পাঁচজনের একজন বলেছেন, তাদের চাকরির নিরাপত্তা ও পদোন্নতির সুযোগ কমে গেছে।

  • 35
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে