লকডাউন বিশৃঙ্খলা

প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২১; সময়: ৮:৫৭ pm |
খবর > মতামত

মাহফুজ আনাম : কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আমাদের এবারের প্রস্তুতি আরও অনেক ভালো হবে বলে প্রত্যাশা ছিল। আমরা মহামারির প্রথম ঢেউ মোকাবিলা করার আনন্দে বিভোর হয়ে একে অপরের পিঠ চাপড়ে অভিনন্দন জানাচ্ছিলাম। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও আমাদের প্রশংসা করেছে। কিন্তু হঠাৎ কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পরিস্থিতি এতটাই বদলে গেল যে, আমাদের সবকিছু আবার একদম গোড়া থেকে শুরু করতে হচ্ছে। সম্প্রতি করোনায় আক্রান্তের হার দ্রুত গতিতে বেড়ে দৈনিক শনাক্ত প্রায় সাত হাজারে পৌঁছে গেছে। আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে মৃত্যু।

আজ শনিবার ৭৭ জন মারা গেলেন। যা বাংলাদেশে এ যাবত করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। সর্বমোট মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬৬১ জনে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় উপচে পড়ছে। অপ্রতুল জরুরি সেবা, হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যার অভাব, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) খালি না থাকা এবং দেশজুড়ে অক্সিজেন সরবরাহের ঘাটতির মতো চিরাচরিত সমস্যায় ভুগছে হাসপাতালগুলো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় করোনা চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড ১০টি সরকারি হাসপাতালে আছে দুই হাজার ৭৩৬টি সাধারণ শয্যা ও ১৩২টি আইসিইউ শয্যা। এছাড়াও, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদের জন্য আছে আরও ৮৭০টি সাধারণ শয্যা ও ১৭৩টি আইসিইউ শয্যা। সরকারের পরিকল্পনায় আছে আইসিইউ শয্যা বাড়িয়ে ২০০ ও সাধারণ শয্যা বাড়িয়ে পাঁচ হাজারে উন্নীত করা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) উদ্যোগ নিয়েছে দেশের বৃহত্তম অস্থায়ী কোভিড হাসপাতাল চালু করার। যেখানে থাকবে এক হাজার ২০০টি শয্যা। সেখানে উল্লেখযোগ্য আইসিইউ সুবিধা থাকবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সব মিলিয়ে, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো তাদের সম্প্রসারণ কাজ শেষ করতে পারলে কোভিড চিকিৎসার অবকাঠামো সুবিধা দ্বিগুণ হবে।

মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ আসার বিষয়ে কারো কোনো দ্বিধা ছিল না। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ফিরে আসার ব্যাপারে বারবার সতর্ক করেছেন। অন্যান্য দেশের উদাহরণও ছিল আমাদের চোখের সামনে। কিন্তু তবুও আমরা দায়সারাভাবে দিন পার করেছি।

এই বিষয়টির ওপরেই আমরা গুরুত্বারোপ করতে চাই। চিকিৎসা অবকাঠামো প্রস্তুত ও উন্নত করার জন্য এতদিন কেন অপেক্ষা করা হলো? আমাদের হাতে যে মূল্যবান সময় ছিল, কেন আমরা তা অপচয় করলাম? মার্চের শুরু থেকেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আভাস পেয়েছি এবং ১০ তারিখের মধ্যে দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঝুঁকির ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আমাদের চারপাশে ছিল। কিন্তু আমরা তথ্য-প্রমাণকে অবজ্ঞা করেছি। নিজেদের শুধু ব্যস্ত রেখেছি দেশের সুবর্ণজয়ন্তী পালনে। আমরা চাইলে উদযাপন ও করোনার জন্য প্রস্তুতি, দুটি কাজই পাশাপাশি চালিয়ে যেতে পারতাম। সে সক্ষমতা আমাদের ছিল। পরিস্থিতি এমন ছিল না যে, একটি করতে গেলে অন্যটি করা যাবে না। কিন্তু তা না করায় একটি মূল্যবান মাস আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে।

প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত চিকিৎসা কর্মী, যেমন: ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান ও তাদের সহকারীদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি হতাশাজনক। গত ৭ এপ্রিল মুগদা হাসপাতালের ওপর করা একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে তৈরি হওয়া মর্মান্তিক অবস্থার এক করুণ চিত্র। সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম সংখ্যক ডাক্তার, রেডিওলোজিস্ট, নেফ্রোলোজিস্ট ও নার্স থাকার কারণে রোগীদের জীবন ওষ্ঠাগত।

অক্সিজেনের সরবরাহ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা সবার নজরে আসা উচিত ছিল। মুগদা হাসপাতালে আমাদের প্রতিবেদক সরেজমিনে দেখেছেন, করোনা আক্রান্ত নয় এমন রোগীদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হচ্ছে। অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে, তারা ‘এই শর্তে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন যে তারা অক্সিজেন চাইবেন না’। জরুরি ওয়ার্ডে সব করোনা রোগীদের পর্যায়ক্রমে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে এবং সেটা সর্বোচ্চ ১০ মিনিট করে। কারণ হাসপাতালের সক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী সেখানে ভর্তি আছে।

আমাদের চিকিৎসা প্রস্তুতির এমন দুরবস্থা কেন? তহবিলের তো অভাব ছিল না। কারণ সরকার এই বিষয়কে প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্ব দিয়েছে। প্রথম ঢেউ মোকাবিলার পর আমাদের হাতে যথেষ্ট সময়ও ছিল। আমাদের ঘাটতি ছিল কেবল দূরদৃষ্টির, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার।

এখানে আরও এক ধরনের ঘাটতি আছে, যার ওপর বিশেষ জোর দিতে চাই। সেটা হচ্ছে জবাবদিহিতার ঘাটতি। কীভাবে আমরা আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করব সে ব্যাপারে জবাবদিহিতার অভাব, কীভাবে আমাদের তৈরি নীতিমালা বা কার্যবিধি কিংবা সেগুলোর অনুপস্থিতি নাগরিকদের জীবনকে প্রভাবিত করে সে ব্যাপারে জবাবদিহিতার অভাব।

এর একটি উপযুক্ত উদাহরণ হচ্ছে গত ৫ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষিত লকডাউন, যা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১১ দফা নির্দেশনা প্রকাশ করে। যার ভিত্তিতে লকডাউন বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। তবে এটা মোটেই সুপরিকল্পিত বা বিজ্ঞানসম্মত ছিল না। নিশ্চিতভাবেই, এই নির্দেশনার ভিত্তিতে লকডাউন বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল না।

উদাহরণস্বরূপ, এক নম্বর নির্দেশনায় সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রাখার নির্দেশনার পর তিন নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও আদালত এবং বেসরকারি অফিস কেবল জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্য সীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয় জনবলকে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় অফিসে আনা-নেওয়া করতে পারবে। শিল্প-কারখানা ও নির্মাণ কার্যাদি চালু থাকবে। শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া করতে হবে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ কর্তৃক শিল্প-কারখানা এলাকায় নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে তাদের শ্রমিকদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল বা চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।’

উপরের নির্দেশনাটি যে বাস্তবসম্মত নয়, তা দিনের আলোর মতই পরিষ্কার। আদালত, আধা সরকারি ও বেসরকারি অফিস তাদের সব কর্মীদের আনা-নেওয়ার ব্যাপারটি কীভাবে নিশ্চিত করতে পারে? তাদের কী সেই সক্ষমতা আছে? বিচারকদের হয়তো নিজস্ব গাড়ি আছে, কিন্তু অন্যান্য কর্মীদের কি আছে? কারখানা মালিকরা কীভাবে তাদের লাখো কর্মী নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে আনা-নেওয়া করবেন? এর জন্য কতগুলো বাস লাগবে? যখন গণপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ করতে বলা হয়েছে, তখন কীভাবে হাজারো বাস কর্মীদের পরিবহন করবে? এই ব্যবস্থা কি স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ? তারপরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-কে বলা হয়েছে তাদের কর্মীদের জন্য ফিল্ড হাসপাতালের ব্যবস্থা করতে। নির্দেশনা লেখকদের কি কোনো ধারণা আছে, এ ধরনের একটি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করতে কতো সময় লাগতে পারে? এর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কোথা থেকে আসবে? এগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান, মেডিকেল সরঞ্জাম ও অন্যান্য কর্মী কোথায় পাওয়া যাবে?

সাত নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছে ‘কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।’ আমাদের কি জানা আছে এই শহরে কতোগুলো কাঁচাবাজার আছে এবং সেগুলো সরিয়ে নিতে কতটা ‘উন্মুক্ত স্থান’ প্রয়োজন? যদি এমন হয় যে, কোনো একটি এলাকায় উন্মুক্ত স্থান একেবারেই নেই, তাহলে কি সেখানে কোনো কাঁচাবাজার থাকবে না? সেক্ষেত্রে, সেই এলাকার মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কীভাবে কিনবেন?

নয় নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ঢাকায় সুবিধাজনক স্থানে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ আমরা জানি আমাদের সশস্ত্র বাহিনী খুবই কর্মদক্ষ। কিন্তু এতো কম সময়ের মধ্যে তারা করোনা চিকিৎসার জন্য একটি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করে ফেলতে পারবে এটা আশা করাটা একেবারেই অবাস্তব।

নির্দেশনা প্রকাশ করা হয় ৪ এপ্রিল এবং ৫ এপ্রিল থেকে বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। দেশের সব বড় বড় শহর ও জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করার মতো এত বড় আকারের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনসাধারণ ও কর্তৃপক্ষ, কাউকেই কোনো সময় দেওয়া হয়নি। যখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আসা একটি নির্দেশনায় এতগুলো অবাস্তব, বাস্তবায়ন অযোগ্য ও অদূরদৃষ্টিসম্পন্ন নির্দেশনা থাকে, তখন আমরা কীভাবে আশা করতে পারি যে, কেউ কোনো যৌক্তিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসবেন?

এখানেই বিশৃঙ্খলার শেষ নয়। জনমানুষকে আসন্ন লকডাউন সম্পর্কে প্রস্তুত করার জন্য কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যখন সবাই এ ব্যাপারে জানলেন, তখন অনেকেই বাজারে দৌড়ালেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে মজুত করতে। এতে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলো, একটি আতঙ্ক তৈরি হলো। তার চেয়ে ক্ষতিকর হচ্ছে- হঠাৎ করে অসংখ্য মানুষ, বিশেষ করে যারা নিম্নআয়ের, রাজধানী ছেড়ে তাদের গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে শুরু করলেন। তারা ভেবেছিলেন, লকডাউনের সময় শহরে তাদের আয় বন্ধ হয়ে যাবে। এসময়টা তারা হয়তো গ্রামের বাড়িতে তূলনামূলকভাবে ভালো থাকতে পারবেন। বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে হাজারো মানুষের ভিড় সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নিয়ম সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দেয়। এই একটি কাজ করোনার বিস্তার অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়ে থাকতে পারে। আমরা যদি এই ‘সম্ভাব্য আক্রান্ত’ মানুষগুলো তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে গ্রামে গ্রামে করোনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রভাব নিয়ে ভাবি, তাহলে বলা যায় যে আরামকেদারায় বসে নির্দেশনা লেখা মানুষগুলোর অপরিণামদর্শিতার কারণেই আরেকটি গুরুতর সংকট তৈরি হয়েছে।

বস্তুত, করোনার বিস্তার রোধের পরিবর্তে অপরিকল্পিত এই লকডাউনটি ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে দিয়েছে বলে আমরা মনে করি। বিশেষ করে সেইসব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে যেসব জায়গায় আগে এত বেশি সংক্রমণ ছিল না।

এই চিন্তা বিবর্জিত নীতিমালা, অবৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা ও অবাস্তব প্রস্তাবগুলো, আর বাস্তবায়ন অযোগ্য নির্দেশনাগুলো এসেছে এমন সব নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে যারা বহু আগেই বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে রয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, তারা তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি না করার সংস্কৃতিতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছেন যে এখন তারা কী বলছেন, কী করছেন কিংবা কী ধরনের নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেটা নিয়ে একবিন্দুও চিন্তিত নন। তারা জানেন, তাদের পরিকল্পনাগুলো অনেক ক্ষয়ক্ষতি বা অপচয়ের কারণ হলেও সেটা কেবলেই তাদের খামখেয়ালিপনা ও অজ্ঞতার মূল্য হিসেবেই বিবেচিত হবে। তাদের ভুল অসংখ্য মানুষের জীবন অবসানের কারণ হলেও তাদেরকে কখনোই দায়ী হতে হবে না।

যখন শাস্তি বা অন্য কোনো প্রতিক্রিয়ার ভয় থাকে না, তখনই কেবল এ ধরনের নির্লজ্জ স্বেচ্ছাচারিতার সংস্কৃতির বিস্তার ঘটে এবং মানুষ ও মানুষের জীবনের মূল্য তলানিতে এসে ঠেকে।

 

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

সূত্র : দ্য ডেইলি স্টার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে