সাধু সাবধান

প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২১; সময়: ৪:০৫ pm |
খবর > মতামত

সাইদুর রহমান বকুল : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর হাতে গড়া দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সকল শোষণ, বঞ্চনা, নিপীড়ন, নির্যাতন এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী সংগঠন এই দলটি। মুজিবীয় আদর্শে গড়ে ওঠা এই দল জাতির ক্লান্তিলগ্নে আশা-আকাঙ্ক্ষার ভরসাস্থল হিসাবে প্রতিভাত হয়েছে।

বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফার আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান; অতঃপর ৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। আমি এই স্বাধীন বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, জনোনেত্রী, গণতন্ত্রের মানস কন্যা, জনরত্ন বর্তমান বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের ভরসাস্থল শেখ হাসিনা আপনাকে বিনয়ের সঙ্গে কিছু বলতে চাই।

বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে বলেছিলেন ‘‘যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও একজন যদিও সে হয় তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব।’’ বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ন্যায্য কথা বলা অত্যন্ত দুঃসাহসীক একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে; আর ন্যায্য কথায় সব সময় শাসকশ্রেণী অসন্তুষ্ট হয়েছে। আপনার চারপাশে যা ঘটছে তাতে করে আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত শঙ্কিত। স্বল্প দৃষ্টি সম্পন্ন নেতাকর্মীরা দেখতে পাচ্ছে আপনার চারপাশে খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্রেতাত্মারা ঘুরঘুর করছে।

আর তাইতো ঘটছে বালিশকান্ড, পর্দাকান্ড, কলাগাছ কান্ড, নারিকেল গাছকান্ড, সম্প্রতি ডিমকান্ড, পাউরুটি কান্ড, কলাকান্ডসহ করোনাকান্ড। ক্যাসিনো কান্ড, পাপিয়াকান্ড অতঃপর শাহেদকান্ড এ সোনার বাংলাদেশকে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে। প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি স্টলে, প্রতিটি বাজারে, এসব নিয়ে আলোচনা। মেজর সিনা হত্যার বিষয়টি জনগণ ভালোভাবে নেয়নি। ওসি প্রদীপকে বিএনপির আমলে নিয়োগ দেয়া হলেও সে অপরাধটি করেছে বর্তমান সরকারের আমলে। সুতরাং বর্তমান সরকারকে তার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।

মাওলানা মামুন হক সাহেবের রিসোর্ট কান্ডের কারণে পক্ষ-বিপক্ষে বহুবিধ মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা সে বিষয়ে জাতির সামনে প্রকাশ হয়ে যাবে জাতি সেটা জানতে পারবে আমাদের শুধু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা। এই রিসোর্ট কান্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় পর্যায়ের দৈন্যতার যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা ভাবার বিষয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিনয়ের সঙ্গে আপনাকে বলতে চাই; আপনি দলীয় প্রধান, দলের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়লে আপনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংকটে পড়বেন; এটা আপনার চেয়ে বেশি কেউ ভালো জানে না। বাংলাদেশ সৃষ্টির লগ্ন থেকে বঙ্গবন্ধুকে ইসলামী দলগুলো কখনো মেনে নেয়নি, স্বাধীন বাংলাদেশকে তারা মেনে নেয়নি, ইসলামের জন্য এত কিছু করেছেন তারপরও আপনাকে তারা মেনে নেয়নি।

তদুপরি আপনি কিভাবে বিশ্বাস করলেন যে, এই সকল ইসলামী দলগুলো আপনার এত উদারতাকে মেনে নেবে। ওরা আপনার উদারতাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখছে। আপনাকে কঠোর থেকে কঠোরতম হতে হবে, রাষ্ট্রের যারা ক্ষতি করছে, জ্বালাও-পোড়াও করছে, ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত রয়েছে, যুবসমাজকে ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে বিপথগামী করছে, হিরোইন ইয়াবা ফেনসিডিল চালান যারা বহন করছে, এদের সকলের বিরুদ্ধে।

পাশাপাশি দলকে পরিচ্ছন্ন করার জন্য যে সকল নেতা-কর্মীর পরিবার-পরিজনরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিরোধিতা করে, বিএনপি-জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে যাদেরকে জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেব ‘কাউয়া’, ‘হাইব্রিড’ বলে উল্লেখ করেছেন তাদেরকে দল থেকে বের করে দিতে হবে। সংখ্যাধিক্যের দরকার নেই, প্রয়োজন গুণগত মানসম্পন্ন কর্মী-নেতার। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগের বয়স ৭২ বছর আর এই সকল নেতাকর্মীর দারাই আপনি ক্ষমতায়। কিন্তু আপনার নেতৃত্বে আওতায় আমরা যারা নেতা অথবা কর্মী হলাম আপনার অবর্তমানে ৭২ মাস টিকে থাকতে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করতে পারবো কি?

রিসোর্ট কান্ডের পরে আমার তা মনে হয় না; এত বড় বড় নেতা, এত এত কর্মী বাহিনী, পেঙ্গুইন পাখির মত দলবদ্ধ মুজিব কোট ধারী সবাই হাওয়া হয়ে গেল। না প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কেউ হাওয়া হয়ে যায়নি। হাওয়া হয়ে গিয়েছে কাউয়া, হাইব্রিড, সুবিধাভোগী, তৈলমর্দনকারি, সেলফিশ বাজিরা। এই ছোট্ট একটি বিষয় এর মধ্য দিয়ে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী দিনে আওয়ামী লীগ কিভাবে চলবে। নবাব সিরাজদৌলা বলেছিলেন ‘‘পিছনে শত্রু রেখে যুদ্ধযাত্রা কোন কাজের কথা নয়’’। আপনার পিছনের শত্রু হচ্ছে হাইব্রিড, কাউয়া, সুবিধাভোগী, তৈলমর্দনকারিরা। অতএব সাধু সাবধান।

লেখক- প্রধান শিক্ষক, একরুখী উচ্চ বিদ্যালয়, সাবেক চেয়ারম্যান, তেতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ।

  • 158
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে