হেফাজতের নাস্তিক্যবাদ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২০; সময়: ১:৩৪ pm |
খবর > মতামত

সাঈদ ইফতেখার আহমেদ : যেকোনও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে এর প্রধান বিরোধী বা উঠতি কোনও আদর্শের মতাদর্শিক সংঘাত বা দ্বন্দ্ব হয়। এ দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হয় এবং এটি বিকশিত হয়ে সামনে অগ্রসর হয়। যেমন বর্তমান ভারতে রাজনীতির মূল মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব হচ্ছে সাম্প্রদায়িক “হিন্দুত্ববাদের” সাথে সেক্যুলার মতাদর্শের দ্বন্দ্ব।

এ দ্বন্দ্বে ক্ষমতাসীন পক্ষ চাচ্ছে হিন্দু ধর্মকে ব্যবহার করে ভারতকে ব্রাহ্মণ্যবাদী ভারতে রূপান্তর। অপরদিকে, বিরোধী পক্ষ চাচ্ছে সেক্যুলার মতাদর্শের উপর নির্ভর করে তাত্ত্বিকভাবে হলেও সব ধর্মের মানুষের সম-অধিকার নিশ্চিত করতে।

শাহের আমলে ইরানে রাজতান্ত্রিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে শিয়া “ইসলামপন্থার” আদর্শ হয়ে উঠেছিল প্রধান রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে ভারত, ইরানসহ দুনিয়ার কোনও দেশেই নাস্তিক্যবাদ নিজে একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ হয়ে উঠেনি। বিশ্বের কোনও দেশেই নাস্তিকদের প্রতিপক্ষ ধরে কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে উঠেনি। এমনকি যে সমস্ত দেশে ইসলামী, হিন্দু বা ইহুদী মৌলবাদ বিকশিত হয়েছে, সেগুলিও নানা রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েই বিকশিত হয়েছে।

বাংলাদেশ খুব সম্ভবত দুনিয়ার একমাত্র রাষ্ট্র যেখানে ধর্মীয় মৌলবাদীরা অস্তিত্ববিহীন, কাল্পনিক এক রাজনৈতিক মতবাদকে শত্রু ধরে, অনেকটা ছায়া শত্রুর মত এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাচ্ছেন। যাদের সাথে তাদের চিন্তাগত বনিবনা হচ্ছে না, তাদের প্রায় সকলকে নাস্তিক ট্যাগ লাগিয়ে, ধর্মভীরু মানুষের এই দেশের জনগণের এক উল্লেখযোগ্য অংশকে তারা “নাস্তিক” বানিয়ে ছাড়ছেন।

সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকেই হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ইত্যাদি ধর্ম বিকশিত হবার পাশাপাশি নাস্তিক্যবাদী চিন্তার একটা ক্ষীণধারা ভারতবর্ষে সব সময় অবস্থান করেছে। প্রাচীন ভারতে এ ধারা চার্বাক দর্শন নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু নাস্তিক্যবাদী ধারাটি ভারতীয় উপমহাদেশের কোন রাষ্ট্রেই সমাজ, রাজনীতি বা ধর্মীয় চিন্তার ক্ষেত্রে মূল্ধারা হয়ে উঠাতো দূরের কথা এমনকি অতীব প্রান্তীয় ধারাও হয়ে উঠতে পারেনি। হাতে গোণা কিছু মানুষ ব্যক্তি পর্যায়ে এ উপমহাদেশে সব সময়ই নাস্তিক ছিলেন, যাদের কোন অস্তিত্ব রাষ্ট্র বা সমাজে আছে বলে টের পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। পাবলিক ডিসকোর্স হিসেবে নাস্তিক্যবাদের কোনও উপস্থিতি এ দেশে কখনোই ছিল না। ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান আমলে সাপ্তাহিক ‘যায় যায় দিনের’ সম্পাদক শফিক রেহমানের বাবা, দর্শনের শিক্ষক অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান নাস্তিক্যবাদী চিন্তার ধারক ছিলেন। বাংলাদেশ আমলে ডক্টর আহমদ শরীফ এ ধারার চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তবে প্রান্তিক জনপদ থেকে উঠে আসা আরজ আলী মাতুব্বর অতটা পরিচিত ছিলেন না সর্ব সাধারণের কাছে।

আমজনতা বিশেষত মধ্য এবং উচ্চবিত্ত মাঝে সাঝে তাদের বৈঠকি আড্ডায় আহমদ শরীফের চিন্তাধারা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করত। সেসময় ইসলাম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল যারা করতেন, তারা সেক্যুলার ধারার কবি, বুদ্ধিজীবি, লেখকদের ‘মুরতাদ’ বলে আখ্যায়িত করতেন। এ শব্দটির মানে হচ্ছে যারা পিছনের দিকে ফিরে গিয়েছে, অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছে। এ ধরনের আখ্যা কবি শামসুর রহমানসহ অনেককেই দেওয়া হয়েছিল।

কেউ যদি নিজে ইসলাম ত্যাগ না করে তাকে ইসলামত্যাগী বলাটা ইসলামবিরুদ্ধ জেনেও “ইসলামপন্থার” দাবিদাররা সেসময় এ কাজটা করতেন। ইসলাম নিষিদ্ধ বিষয়কে তারা ইসলামের নাম দিয়ে এভাবে জায়েজ করতেন। সাধারণ আমজনতা ‘মুরতাদ’ অর্থ জানতেন না। তাদের অনেকে আবার তথাকথিত ‘ইসলামপন্থি’দের কথায় কথায় একে ওকে ‘মুরতাদ’ ঘোষণা করা নিয়ে হাসাহাসি করতেন। ২০০০ সাল পর্যন্ত বড় দাগে রাষ্ট্র এবং সমাজে নাস্তিক্যবাদের উপস্থিতি ছিল এটুকুই।

২০০০ সালের পর থেকে অনলাইন মাধ্যমের নানা ব্লগে কিছু তরুণ বয়সী নাস্তিকতার বিষয় নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। ধর্ম এবং দর্শন নিয়ে এদের প্রায় কারোরই তেমন গভীর জ্ঞান ছিল না। ধর্ম এবং দর্শন নিয়ে আলোচনার চেয়ে তাদের মূল আগ্রহ ছিল বাংলাদেশের দুইটি প্রধান ধর্ম, ইসলাম এবং সনাতন (হিন্দু) ধর্ম নিয়ে উপহাস, হাসি, ঠাট্টা, তামাশা ইত্যাদি করা।

এ ব্লগারদের কেউই মননশীলতার দিক থেকে অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান, ড. আহমেদ শরীফ বা আরজ আলী মাতুব্বরের ধারে কাছেও যেতে পারেননি। সাধারণ মানুষজনের প্রায় কেউই তাদের চিনতো না। এমনকি নানা ব্লগ সম্পর্কে যাদের ধারণা ছিল, তাদেরও প্রায় কেউই নাস্তিকতা নিয়া এসব লেখালিখির সাথে পরিচিত ছিলেন না।

এদের বাইরে এদিক-সেদিক দুই চারজন নাস্তিক ছিলেন। ধর্ম সম্পর্কে তাদের নাস্তিক্যবাদী অবস্থান একেবারেই ব্যক্তিগত পর্যায়ে ছিল। তাদের অতীব ঘনিষ্ঠ দুই/একজনই শুধু জানতেন যে তারা নাস্তিক। এদের প্রায় সবাই পেশাগত জীবনে শিক্ষাবিদ বা শিক্ষানুরাগী ছিলেন।

২০১৩ সাল পর্যন্ত এই ছিল বাংলাদেশের নাস্তিক্যবাদীদের অবস্থান। নাস্তিকতা বিষয়টা অনেকটা নিষিদ্ধ শব্দের মতই ছিল। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে ক্রমাগত প্রচারণার ফলে সেই নাস্তিকতাবাদ আজকে জাতীয়ভাবে পরিচিত একটি ডিসকোর্স হয়ে গেছে, যার সিংহভাগ কৃতিত্ব হেফাজতে ইসলামের। হেফাজতে পাশাপাশি জামায়াতসহ অন্যান্য ইসলামপন্থি” দলের নেতাকর্মী এবং বিএনপির কিছু ফেইসবুক অ্যাক্টিভিস্টের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য।

২০০৯ সালের “নারী উন্নয়ন নীতি” এবং ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতির বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে ২০১০ সালে ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের প্রায় একশটি কওমী মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে একটি প্রেসার গ্রুপ হিসেবে হেফাজত গঠন করা হয়। চট্টগ্রাম এবং ঢাকা কেন্দ্রিক মাদ্রাসার শিক্ষকরা এর নেতৃত্বে রয়েছেন। এ শিক্ষ্করা আবার একই সাথে বিভিন্ন মাদ্রাসা বোর্ডের শীর্ষ পদেও রয়েছেন। তারা বিভিন্ন মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতিরও নেতা। এদের মধ্যকার দুই-একজন বাদে প্রায় সবাই সরাসরি ইসলামী ঐক্যজোটের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট।

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৯৯০ সালের ২২ ডিসেম্বর ছয়টি “ইসলামপন্থি” দল নিয়ে এ জোট গঠন করা হয়। দলগুলো হচ্ছে- খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলামী পার্টি, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন (বর্তমান ইসলামী আন্দোলন), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও ফরায়েজী আন্দোলন। পরবর্তীতে ইসলামী আন্দোলন এ জোট থেকে বের হয়ে যায়।

১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে বিএনপি যে চারদলীয় জোট গঠন করেছিল তাতে এ ইসলামী ঐক্যজোট ছিল। সেসময় থেকে ইসলামী ঐক্যজোটের মূল অংশটি বিএনপি জামায়াত জোটের সাথেই আছে, যা এখন বিশ দলীয় জোট নামে পরিচিত। মূলত এ ইসলামী ঐক্যজোটের উদ্যোগেই হেফাজতে ইসলাম গঠন করা হয়, “ইসলামপন্থার” রাজনীতিকে সামনে এগিয়ে নেবার কৌশল হিসাবে।

বর্তমান আওয়ামী লীগ শাসনামলে অত্যন্ত কোণঠাসা জামায়াত মনে করে যে হেফাজতের রাজনীতি এ জটিল পরিস্থিতিতে তার রাজনীতিকে বাঁচিয়ে রাখবার জন্য একটা সহায়ক প্ল্যাটফর্ম। বস্তুত এ চিন্তা থেকেই হেফাজতের রাজনীতিকে জোরদার করবার জন্য নানাভাবে জামায়াত হেফাজতকে সহায়তা করে থাকে। বিষয়টা অনেকটা পাকিস্তান আমলে “চীনপন্থি” কমিউনিস্টদের ভাসানী-ন্যাপকে শক্তিশালী করবার কৌশল নেবার মত।

হেফাজতের মূল সমর্থন ভিত্তি হল কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা। এদেরকে ভিত্তি করে একটি রাজনৈতিক আন্দোলন বা সংগঠন যে দাঁড় করানো যায় এ চিন্তা খুব সম্ভবত প্রথম আসে ইসলামী ঐক্যজোটের অন্তর্গত খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দের মাথায়। নিবন্ধের লেখকের সাথে ১৯৯৫ সালে একটি গবেষণা কর্মের জন্য খেলাফত মজলিসের নেতা মরহুম মাওলানা আখতার ফারুকের তাদের দলীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ কথোপকথন হয়। এ দীর্ঘ আলাপে তিনি আমাকে জানান যে, রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা কতটা সম্ভাবনাময়।

সেসময় “ইসলামপন্থার” রাজনীতির মূল ভরকেন্দ্র ছিল জামায়াতের ছাত্র সংগঠন, ছাত্র শিবিরের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় নির্ভর সংগঠন। আলীয়া নয়, শুধু কওমী মাদ্রাসাকে ভিত্তি করেও যে রাজনৈতিক দল এবং আন্দোলন দাঁড় করানো যেতে পারে এ চিন্তা তখন প্রায় কারো মাথাতেই ছিল না।

১৯৯৫ সালে আখতার ফারুকের সামনে বসে বিষয়টা যখন অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল তখন তিনি আমাকে সারা দেশের মাদ্রাসার ছাত্র সংখ্যার হিসাব দেখিয়ে বলেন যে, এদেরকে সংগঠিত করতে পারলে এরা বড় রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠবে। তিনি একটি কর্মপরিকল্পনা আমার সামনে উপস্থাপন করে বলেন, “আগামী দশ/পনের বছরের মধ্যে এদের অনেককে খেলাফত মজলিসের ছাত্র সংগঠন, ইসলামি ছাত্র মজলিসের ব্যানারে সংগঠিত করা হবে। তারপর এদেরকে ঢাকা নিয়ে এসে একটা “ইসলামী বিপ্লব” ঘটান হবে এবং এ লক্ষ্যেই তার দল কাজ করছে।” দীর্ঘ আলাপ শেষে তিনি কৌতুকচ্ছলে বলেন, “ইসলামী বিপ্লবের কাফেলা যখন ঢাকা এসে পৌঁছাবে তখন আপনাকে ডাক দিলে আপনিও আইসা এ কাফেলায় শরীক হয়েন।”

আখতার ফারুক সহ তৎকালীন খেলাফত মজলিশ নেতৃত্ব যে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল বাস্তবে এসে দেখা গেল যে, মাদ্রাসা ছাত্ররা তাদের সে আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না। ফারুক আমাকে বলেছিলেন, তারা ছাত্র মজলিশকে ছাত্র শিবিরের চেয়ে বড় সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলবেন। কিন্তু বাস্তবে এর বিপরীতে এটি আজ একটি অস্তিত্বহীন সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

বস্তুত “ইসলামপন্থার” রাজনীতির ডাক দিয়ে এগিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়ে তারা তথাকথিত অরাজনৈতিক ব্যানার হেফাজতের ক্যামোফ্লাজের আশ্রয় নেন। তাদের এ ব্যর্থতা যে বিষয়টা তুলে ধরে সেটা হল ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করলেও “ইসলামপন্থা”র রাজনীতির প্রতি খোদ মাদ্রাসা ছাত্রদেরই রয়েছে অনাগ্রহ।

হেফাজতের অন্তর্গত কোনও রাজনৈতিক দলই সাংগঠনিক বা ভোটের হিসাবে উল্লেখ করবার মত দল নয়। জামায়াতসহ সমস্ত “ইসলামপন্থি” রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত ভোটের হিসাব কয়েক শতাংশ। এদের প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রয়েছে বিএনপির ভোট। কেননা, ইসলামী আন্দোলন ছাড়া উল্লেখ করার মত সব ধর্মভিত্তিক দল দীর্ঘসময় যাবত বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ। তারপরেও হেফাজতের মত সংগঠনকে রাজনীতিতে এত গুরুত্ব দেবার কারণ কী?

এর কারণ হল হেফাজতের রাজনৈতিক কৌশল। এ কৌশলের ফলে কিছু এলাকা এবং প্রতিষ্ঠান নির্ভর এ সংগঠনটিকে তারা একটি বড় রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছে। বাংলাদেশে জামায়াতসহ “ইসলামপন্থার” রাজনীতি যারা করেন তাদের একটা প্রবণতা বা কৌশল হল নানা পন্থায় তাদের দল এবং আন্দোলনকে অনেক বড় করে উপস্থাপন করবার চেষ্টা করা।

অপরদিকে, ৮০ এর দশকের শুরু থেকেই প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ “ইসলামপন্থার” রাজনীতির সকল ঘরানার বিরোধীদেরও মূল প্রবণতা হল এ ধারার রাজনীতি যে আসলে অনেক শক্তিশালী, সেভাবে তাদের তুলে ধরা। এ অতি মূল্যায়নের ফলে সাংগঠনিক শক্তি যত না তার চেয়ে বেশি তারা রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করতে পারছে। হেফাজতের উদাহারণ দিলেই বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয়ে উঠবে।

হেফাজত গঠিত হবার পর ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম তারা লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের ডাক দেয়। পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা সে সমাবেশ করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু ২০১৩ সালে সরকার তাদের ঢাকার শাপলা চত্বরে দুইবার জমায়েত করবার অনুমতি দেয়। আর এ দুইবারের জমায়েতকে তারা তাদের কৃত্রিম শক্তিমত্তা প্রদর্শনের কৌশল হিসেবে কাজে লাগায়। তারা হেফাজত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাজে লাগিয়ে মাদ্রাসা থেকে ছাত্রদের ঢাকা নিয়ে আসে।

এ সমস্ত ছাত্রদের বেশির ভাগই কোনও রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নয়। জিয়া এবং এরশাদ আমলে তারা যখন বিভিন্ন জেলাতে যেতেন তখন ছাত্র/ছাত্রীদের স্কুল শিক্ষদের তত্ত্বাবধানে রাস্তায় দাঁড় করানো হত তাদের স্বাগত জানাবার জন্য। হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে তাদের জনপ্রিয়তায় ছেলেমেয়েরা স্বাগত জানাবার জন্য রাস্তায় ছুটে এসেছে। হেফাজতের জমায়েতের ব্যাপারটা ছিল অনেকটা সেরকম। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের রাস্তায় দাঁড়াবার মতো বাধ্য হয়েই তাদের বেশির ভাগকে সেদিন ঢাকা আসতে হয়েছিল।

এখন প্রশ্ন আসে, সরকার কেন হেফাজতকে দুইবার ঢাকাতে সমাবেশ করার অনুমতি দিল, বিশেষত সেসময় যখন যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে কাছেই শাহবাগে নিয়মিত নানা অনুষ্ঠান হচ্ছে? সরকার না চাইলে হেফাজতের পক্ষে ঢাকাতে জমায়েত করা সম্ভব ছিল না।

একথা সুবিদিত যে, বিএনপি গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষে ছিল না। তারা এটাকে খুব সরলীকৃতভাবে আওয়ামী লীগের আরেকটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট ভেবে এর বিরোধিতায় নামে। বিএনপি সংশ্লিষ্ট সিভিল সমাজের সদস্য এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা গণজাগরণ মঞ্চের সাথে যারা আছে তারা যে “নাস্তিক”, এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। সাথে যোগ দেয় জামায়াত এবং পরবর্তীতে হেফাজত।

এদের মূল লক্ষ্য ছিল গণজাগরণ মঞ্চকে গণ বিচ্ছিন্ন করে ভেঙ্গে দেওয়া যাতে এটি আর সামনে এগোতে না পারে। কিন্তু তারা যে বিষয়টা বুঝতে ব্যর্থ হয় সেটি হল এতে সবচেয়ে লাভবান হবে আওয়ামী লীগ সরকার। দূরদর্শিতার অভাবে তারা সেদিন বুঝতে পারেনি যে, একটি সমান্তরাল সেক্যুলার রাজনীতি বাংলাদেশে দাঁড়ালে যে দলটি রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটি হল আওয়ামী লীগ। যেমন বর্তমানে এবি পার্টি যদি দাঁড়াতে পারে তাহলে এটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বিএনপির রাজনীতিকে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা কর্মী সেদিন ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তারা হেফাজতকে ঢাকা আসার সুযোগ করে দেয়। মহাজোটের শরীক এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি তাদের ঢাকাতে স্বাগত জানায়। ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের অবস্থান করবার হটকারি সিদ্ধান্তের পর পুরো পরিস্থিতি ঘুরে যায়। জনগণের দৃষ্টি গণজাগরণ মঞ্চ থেকে হেফাজতের দিকে চলে যায়। হেফাজতের নেতৃত্বের হটকারিতার বলি হন কয়েক জন নিরীহ মাদ্রাসার ছাত্র, যাদের রাজনীতির জটিলতা সম্পর্কে জ্ঞান ছিল খুবই সামান্য। গণজাগরণ মঞ্চ দুর্বল হয়ে পড়ে, যা আজ প্রায় অস্তিত্বহীন।

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে এতে লাভবান হয় আওয়ামী লীগ। শুধু তাই নয়, অর্থ, জমি ইত্যাদি নানাবিধ প্রলোভনের মাধ্যমে হেফাজতের মূল নেতৃত্বের অনেককে “কিনে” নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দেশে-বিদেশে সবাইকে আওয়ামী লীগ বোঝাতে সক্ষম হয় যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মূল সেক্যুলার ধারা তারাই—যদিও বাস্তব ক্ষেত্রে দলটি হচ্ছে ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার হাইব্রিড।

এ হাইব্রিড হবার ফলে এবং সুযোগ সন্ধানী সুবিধাবাদীরা দলের বিভিন্ন পদে আসীন হবার দরুন হেফাজতের পক্ষ থেকে যখন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধী বক্তব্য দেওয়া হয়, তখন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং তিন/চার জন সাংসদ ছাড়া বাকী মন্ত্রী সাংসদদের নীরব থাকতে দেখা যায়।

হেফাজত নেতৃত্বের এভাবে এত সহজে ‘বিক্রি’ হয়ে যাবার বিষয়টা অনেকের কাছে বিস্ময় তৈরি করে। কিন্তু বাংলাদেশের “ইসলামপন্থার” আন্দোলনের ইতিহাস যারা জানেন, তাদের কাছে বিষয়টা মোটেই বিস্ময়কর নয়। ইরান, আফগানিস্থান, মধ্যপ্রাচ্যে “ইসলামপন্থার” রাজনীতির বিকাশটা হয়েছে রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে। কিন্তু পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে এ রাজনীতি এগিয়েছে রাষ্ট্রশক্তির নানাবিধ আনুকূল্য এবং সুবিধা পেয়ে।

তাই ইংরেজিতে যেটাকে বলে “Comfort Zone,” বাংলাদেশের “ইসলামপন্থিরা” সব সময় সেখানে থাকতেই অভ্যস্ত। ফলে তারা যখন কোনও বিষয় নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করে, এটি আসলে ‘দেনাপাওনা নিয়ে দেনদরবারের অংশ’ বলেই অনেকে মনে করেন। সাম্প্রতিক ভাস্কর্য বিরোধী বক্তব্যও এ ধারাবাহিকতার অংশ বলেই অনেকের কাছে ইতিমধ্যে প্রতীয়মান।

হেফাজত যে একটি দুর্বল রাজনৈতিক সংগঠন ভাস্কর্য ইস্যুতে সেটিও সবার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে ক্রমাগত যে নানাবিধ রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে যেতে হয়, হেফাজতের সে সাংগঠনিক অবস্থা নেই। মাদ্রাসা থেকে ছাত্রদের নিয়ে এসে একদিন জমায়েত করা আর দলীয় কর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি দিয়ে যাওয়া ভিন্ন বিষয়। হেফাজত সাথে যুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো অত্যন্ত দুর্বল বলে তাদের পক্ষে এ ধরনের ধারাবাহিক কর্মসূচি দেওয়া সম্ভব নয়।

হেফাজতের নেতৃত্ব এটা জানেন বলেই আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনগুলি যখন দেরিতে হলেও এর বিরুদ্ধে দাঁড়ায় তারা তখন পিছু হটে যায়। বস্তুত মাদ্রাসা ছাত্রদের উপর নির্ভর করে দুনিয়ার কোথাও কোন রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ইরানসহ যেসমস্ত দেশে “ইসলামপন্থা” নির্ভর রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তার প্রায় সিংহভাগই গড়ে উঠেছিল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর নির্ভর করে।

অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অবকাঠামগতভাবে অত্যন্ত পশ্চাৎপদ আফগানিস্তান এর একমাত্র ব্যতিক্রম। সেখানে মুজেহেদীনদের থেকে বের হয়ে গিয়ে মোল্লা ওমরের নেতৃত্বে মাদ্রাসাভিত্তিক তালেবানরা মুজাহেদীনদের হটিয়ে সশস্ত্র পন্থায় ক্ষমতা দখল করে।

বাংলাদেশে কওমী মাদ্রাসাগুলোতে মূলত পড়াশোনা করেন সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক অংশের ছেলেমেয়েরা। এদেরকে রাজনৈতিকভাবে গড়ে তোলবার প্রয়োজনীয়তা ছাত্রলীগ, ছাত্রদল যেমন করেনি, তেমন করেনি বাম ধারার ছাত্র ইউনিয়ন বা ছাত্র ফ্রন্ট।

সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো মাদ্রাসার ছাত্র/ছাত্রীরা দরিদ্র বা প্রতিক্রিয়াশিল মনে করে তাদেরকে পরিহার করে চলেছে। কচিকাঁচার আসর, খেলাঘরের মত শিশু সংগঠন মূলধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়েই ব্যস্ত থেকেছে। কওমী মাদ্রাসার ইবতিদাইয়্যা (প্রাথমিক) এবং মুতাওয়াছসিতাহ (নিম্ন মাধ্যমিক) পর্যায়ের শিশুদেরকে এসব সংগঠনের সাথে যুক্ত করবার প্রয়োজনীয়তাই তারা কখনো বোধ করেনি।

২০১৫ সালের সরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে কওমী মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার এবং এর শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। বেসরকারি হিসাবে মাদ্রাসা এবং এর শিক্ষার্থী উভয়ের সংখ্যাই আরো অনেক বেশি। যদিও বেসরকারি পরিসংখ্যানের মূল বিষয়টা যতটা না পরিসংখ্যান, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক লক্ষ্য হাসিলের অনুমান।

মূলধারার প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবই মূলত এ বিপুল সংখ্যক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়ের মাদ্রাসাতে শিক্ষা নেবার কারণ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও কখনো এদেরকে মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ে আসবার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের কথা ভাবেনি।

কওমী মাদ্রাসার উপর নির্ভর করে শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন গঠন করতে সমর্থ না হওয়ায় পাশাপাশি হেফাজতের আরেকটি যে বড় দুর্বল দিক অধিকাংশ জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে সেটা হলো, হেফাজত নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্টদের তাদের নিজেদের ব্যাখ্যা করা ‘হারাম-হালালে’র সংজ্ঞা অনুযায়ী জীবনযাপনে অনীহা। এমনকি রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবে তারা যে ওয়াজ মাহফিল করে থাকেন, সেটিও তারা করে থাকেন অর্থের বিনিময়ে। অর্থের বিনিময়ে পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যেমন কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন দাঁড় করানো যায় নাই, তেমন করা যায় নাই কোনও ধর্মীয় বা সমাজ পরিবর্তনমূলক কাজ।

ওয়াজ বা অন্যান্য ধর্মীয় কাজের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ ইসলাম সম্মত কিনা সেটি যখন তাবলীগ জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলাভির প্রপৌত্র মাওলানা সাদ কান্দলাভি তুলেন, তখন তাকেই ঢাকা প্রবেশে বাধা দেন হেফাজত নেতৃত্ব। তেমনি হেফাজত নেতৃত্ব চুপ থাকেন এক শ্রেণির ওয়াজকারী যখন ওয়াজের মত একটি ধর্মীয় বিষয়কে ক্রমাগত হাসি, ঠাট্টা, তামাশা আর শান-শওকতের ব্যবসার বিষয়ে পরিণত করেন- তখনও। একইভাবে তারা নিশ্চুপ থাকেন বা চেপে যাবার চেষ্টা করেন মাদ্রাসাসমূহে যৌন নিগ্রহের বিষয়গুলোকেও।

“ইসলামপন্থার” রাজনীতি বাংলাদেশে একটি বহুল ব্যবহৃত, ব্যর্থ রাজনৈতিক হাতিয়ার। হাসান আল বান্না আর সাইয়্যেদ কুতব এর হাত ধরে যে সুন্নি ধর্মীয় মৌলবাদী আন্দোলনের জন্ম তা আজ পর্যন্ত দুনিয়ার কোথাও সফলতার মুখ দেখেনি। তদুপরি বাংলাদেশে “ইসলামপন্থার” রাজনীতি যারা করেন, তাদের প্রায় সবাই এক ধরনের দ্বিচারী জীবন-যাপন করেন বলে জনগণের অধিকাংশের কাছে প্রতীয়মান। এছাড়া “ইসলামপন্থীদের” বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিও আসক্ত। ফলে তারা আসলে কতটা ইসলামের প্রতি নিবেদিত, সে প্রশ্নও অনেক ট্রাডিশনাল ধর্মভীরু বাঙালি মুসলমানের মধ্যে রয়েছে।

বস্তুত এ সমস্ত কিছুর ফলে মূলধারার জনগোষ্ঠির কাছে “ইসলামপন্থার” রাজনীতি গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তাদের কাছে বরং মনে হয়েছে ইসলামকে ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি সুবিধা নিচ্ছে। ইসলাম কিছু মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে রাজনীতি আর ব্যবসার হাতিয়ার।

তদুপরি হেফাজতসহ “ইসলামপন্থার” রাজনীতির সবচেয়ে বড় সর্বনাশটা করে বসেছেন তাদের কল্পজগতের বর্তমান দুনিয়ার ইসলামের “সিপাহসালার” তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান। সেই তিনি এখন তুরস্কে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যই শুধু স্থাপন করতে যাচ্ছেন না, “ইসলামপন্থার” রাজনীতির সবচেয়ে বড় আদর্শিক শত্রু, চরম সেক্যুলার হিসেবে পরিচিত, তুর্কিদের জাতির জনক, মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের ভাস্কর্য বাংলাদেশে স্থাপনেরও উদ্যোগ নিয়েছেন।

নাস্তিক্যবাদের উপর ভর করে হেফাজতসহ অন্য “ইসলামপন্থী” দলগুলো যখন বক্তৃতা-বিবৃতি দিতে থাকে, তখন কেউ কেউ তাদের সমর্থক না হলেও উৎসাহিত হয়ে উঠেন এই ভেবে যে, এতে বোধহয় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিক ক্ষমতার যে ভারসাম্য, তাতে হয়ত পরিবর্তন ঘটবে।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, জাতীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমান যে সমীকরণ, তাতে হেফাজতসহ অন্য “ইসলামপন্থিদের” মাঝে সাঝে এ ধরনের নড়ন-চড়ন, জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা কাঠামো এবং এর সমর্থন ভিত্তিকে সুসংহত করবে আর আন্তর্জাতিক বিশ্বে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে। তবে উদার-গণতান্ত্রিক ধারার সেক্যুলার জাতীয়তাবাদ অথবা বাম গণতান্ত্রিক ধারা যদি বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, তাহলে বর্তমান ক্ষমতা-কেন্দ্রিক রাজনীতির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

 

সাঈদ ইফতেখার আহমেদ : শিক্ষক, স্কুল অব সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিস, আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেম, পশ্চিম ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

সূত্র : বিডিনিউজ

  • 18
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে