৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস ও সমকালীন ভাবনা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০; সময়: ২:০১ pm |
খবর > মতামত

শহিদুল ইসলাম বেলাল : “কোভিড-১৯ পরবর্তি পুনর্বাসন চিকিৎসা” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা বিশ্বের ন্যায় আজ বাংলাদেশেও বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সফলতা কামনা করছি। ফিজিওথেরাপি হলো মাংশপেশী (Muscle), স্নায়ু (Nerve) এবং হাড় (Bone) এর সমন্বিত অংশকে অথবা আলাদা আলাদভাবে উদ্দীপনা (Stimulation) দিয়ে পূর্বের ন্যায় সে সকল অংশকে সক্রিয় করার পদ্ধতি। ব্যাথামুক্ত, সংবেদনশীল ভাবে দেহকে কার্যকর রাখার আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের নবতর সংস্করন হলো ফিজিক্যাল মেডিসিন।

বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণের সিংহভাগ অংশ ফিজিওথেরাপি সম্পর্কে অবগত নয়। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রায় পুরোটায় পক্ষাঘাত রোগে ( Paralysis) বৈদ্য, কবিরাজ ও তেল মালিশের উপর নির্ভর করে থাকে। স্ট্রোক কে মরণব্যাধি বলেই সমাজ প্রায় মেনে নিয়েছে।

বিকলাঙ্গ, প্রতিবন্ধী (Otistic) শিশু স্রষ্টার ইচ্ছা বলেই একরকম মেনে নেওয়া হয়েছে। অথচ খোদা প্রদত্ত জ্ঞান দিয়ে ফিজিওথেরাপি ব্যবহার করে এসকল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করা সম্ভব।
আমাদের দেশে ফিজিওথেরাপি শিক্ষার দ্বিমুখী ধারা চলমান। একদিকে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের আওতাধীন সরকারী-বেসরকারী আইএইচটি সমূহে ডিপ্লোমা কোর্স এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত আইএইটি সমূহে বিএসসি কোর্স চলমান।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত হয়ে NITOR, CRP তে শুধুমাত্র ইন্টারমিডিয়েট পাশ শিক্ষার্থীদের নিয়ে পৃথক বিএসসসি কোর্স চলছে। সরকারী চাকুরি ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও কিছু অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো ফিজিওথেরাপি টেকনোলজিস্ট এর পদ সৃষ্টি হয়নি। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে পদ রয়েছে তা দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে কিছুই নয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও চীফ থেরাপিষ্ট এর সংখ্যাও অতি নগন্য।

অন্যদিকে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন কনসালটেন্ট ফিজিওথেরাপিস্ট এর সংখ্যা যাহাই হোক না কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়াধীন ফিজিওথেরাপিস্ট এর সাথে মানমর্যাদা ও চাকুরি সুবিধাগত বিষয়ে কিছু অমিল পরিলক্ষিত হয়।

স্বাস্থ্য অর্থনীতিকে আরো বেগবান করতে হলে এসকল অসামঞ্জস্যতা সমন্বয় করে ফিজিওথেরাপিস্টদের এককাতারে আনতে হবে এবং একমুখী শিক্ষা চালু করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে টারশিয়ারি পর্যায়ে ফিজিওথেরাপি সেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে ফিজিওথেরাপিস্ট পদ সৃজন করা হলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী সুস্থ ও সবলভাবে সামষ্টিক ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে গভীরভাবে বিশ্বাস করি।

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস সফল হোক এবং কোভিড-১৯ পরবর্তি পুনর্বাসন চিকিৎসা জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাক.. এটাই হোক সকলের প্রত্যাশা। ফিজিওথেরাপি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি শুভ কামনা রইলো।

লেখক :

লেকচারার,
আইএইচটি, রাজশাহী।

  • 253
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • ধর্ষণকে ‘সামাজিক ব্যাধি’ বলা মারাত্মক ভুল
  • ধর্ষণ পীড়ন
  • ধর্ষণ: পুরাণ থেকে বর্তমানে
  • উপমহাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদীরা শক্তি সঞ্চার করছে
  • বঙ্গরত্ন শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ ॥ প্রাসঙ্গিক ভাবনা
  • মানসিক স্বাস্থ্য বলে আদৌ কিছু আছে, না সব পাগলামি?
  • ধর্ষণের প্রতিকার মৃত্যুদণ্ডে মিলবে কি?
  • সজীব ওয়াজেদ জয় ও ডিজিটাল বাংলাদেশ
  • পত্রিকা পড়ার গল্প
  • এইচএসসি পরীক্ষা: আর কোনো বিকল্প ছিল না?
  • বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ’৭৩-এর অধ্যাদেশ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে কি আমরা অক্ষম?
  • আমার সখের পেশা
  • অপরাধ এবং অপরাধের মাত্রা
  • কন্যা সন্তানকে অবহেলা কেন?
  • ছাত্রলীগের কপালে কেন কলঙ্কের তিলক?
  • উপরে