দূর্গাপুর ও পুঠিয়ার রাজনীতির সেকাল-একাল এবং যোগ্য নেতা নির্বাচন

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২০; সময়: ৮:৩৮ pm |
খবর > মতামত

শফি ডাক্তার : ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুর্বে রাজশাহী-৫ দুর্গাপুর-পুঠিয়া নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের অভিভাবক হয়ে নেতৃত্ব দিতেন সাবেক এমপি ও সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম তাজুল ইসলাম মোঃ ফারুক সাহেব।

সেই কারনে দুর্গাপুর-পুঠিয়া উপজেলার সকল নেতা-কর্মী ও ভোটার ছিল মরহুম তাজুল ইসলাম মোঃ ফারুক সাহেবের একনিষ্ঠ অনুসারী এবং ভক্ত। এক কথায় ফারুক সাহেবের লোক। ফারুক সাহেবও দলের দুঃসময় কাল থেকে দুর্গাপুর-পুঠিয়ার নেতা,কর্মি ভোটার ও সাধারণ জনগণকে মা মুরগীর মতোই সযত্নে তার বুকে আগলে রেখেছিলেন।

সেই নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়ে কিছু উচ্চাভিলাশী নেতাদের বাধার মুখে পড়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছিলেন মরহুম তাজুল ইসলাম মোঃ ফারুক সাহেব।

জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম কাজী আব্দুল আওয়াল এর সুযোগ্য সন্তান রাজপথের লড়াকু সৈনিক জননেতা আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাইকে।

আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাই সেই নির্বাচনে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দুর্গাপুর – পুঠিয়া উপজেলার গণমানুষের অভিভাবকের দ্বায়িত্ব পেলে মরহুম তাজুল ইসলাম মোঃ ফারুক সাহেবের সেই সমস্ত অনুসারী, ভক্ত এবং লোকজন ছুটে যান তাদের নতুন অভিভাবক জননেতা আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাইয়ের সুশীতল নেতৃত্বের ছাঁয়াতলে। এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাই তাদেরকে ফারুক সাহেবের লোক না ভেবে নিজের ভাই,চাচা,সন্তান ও আত্মার আত্মীয় মনে করে সাদরে তার বুকে টেনে নেন।

এক কথায় সর্বস্তরের নেতা, কর্মী, ভোটার ও সাধারণ জনগণ হয়ে যায় এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাইয়ের একনিষ্ঠ অনুসারী-ভক্ত ও তাঁর লোক।

দুর্গাপুর-পুঠিয়ার জনগণ বিচার বিশ্লেষন করার সুযোগ পায় ভাল মন্দ নেতা এবং নেতার চরিত্র, নেতৃত্ব, সততা এবং পাজ্ঞ, বিজ্ঞ, বিচক্ষনতাকে। সর্বস্তরের জনগণ নতুন অভিভাক জননেতা আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাইয়ের অহিংস নেতৃত্বে মুগ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে এবং তাঁর মিস্টি বাচনভঙ্গি, বন্ধুসুলভ আচরন, অসহায় রোগগ্রস্ত নেতা, কর্মিদের জন্য অর্থ অনুদান সহ সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে সত্যিকারের অভিভাবকের ভুমিকায় দাঁড়ানো দেখে সর্বস্তরের জনগণের হৃদয় ও মন ছুঁয়ে যেতে থাকে।

দীর্ঘ ৫টি বছর তিনি অত্যন্ত বিচক্ষনতার সাথে দলের সর্বস্তরের নেতা, কর্মি, ভোটার ও জনগণকে সাথে নিয়ে ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে দুর্গাপুর-পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যান। ঠিক সেই কারনেই পরবর্তি ৫ জানুয়ারী ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উক্ত আসনটিতে পুনরায় তাঁকেই নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

আবারও তিনি সংসদ সদস্য হয়ে অসমাপ্ত মহা-উন্নয়নমূলক কাজগুলো সমাপ্ত করার কাজে মনোনিবেশ করেন সর্বস্তরের নেতা,কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সাথে নিয়ে উন্নয়নের ধারাবহিকতায় সামনে এগিয়ে যেতে থাকেন।

দুর্গাপুর-পুঠিয়ার এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে জননেতা আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাইয়ের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। কিন্তু পরবর্তি ৩০ শে ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অজানা কারনে জননেতা আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাই মনোনয়ন বঞ্চিত হোন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেন নতুন মুখ, প্রফেসর ডাঃ মোঃ মুনসুর রহমানকে।

সেই নির্বাচনে প্রফেসর ডাঃ মোঃ মনসুর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে দুর্গাপুর-পুঠিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগ ও জনগণের নেতৃত্ব চলে যায় নতুন নেতা, নতুন মুখ, নতুন অভিভাবক প্রফেসর ডাঃ মনসুর রহমানের হাতে।

বরাবরের মতোই দুর্গাপুর-পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতা,কর্মি, ভোটার ও সাধারণ জনগণ ছুটে যান তাদের নতুন অভিভাবক, নতুন নেতা মাননীয় এমপি প্রফেসর ডাঃ মোঃ মনসুর রহমানের কাছে।

কিন্তু, মাননীয় এমপি প্রফেসর ডাঃ মোঃ মনসুর রহমান মহোদয় নির্বাচনের দেড় বছর অতিক্রান্ত হলেও দুর্গাপুর-পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতা, কর্মি, ভোটার ও সাধারণ জনগণকে আপন মনে করে তাঁর বুকে টেনে নিতে পারেননি এই ভেবে যে, তারা সকলেই সদ্য সাবেক এমপি জননেতা আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাইয়ের একনিষ্ঠ ভক্ত, অনুসারী এবং দারা ভাইয়ের লোক।

যখন যিনি দলীয় এম, পি হয়েছেন তখন তার কাছে তার আশ্রয়েই দলীয় নেতা, কর্মি, ভোটার ও সাধারণ জনগণ গিয়েছেন এবং যাবেন এটাই সাভাবিক। কিন্ত তিনি সবাইকে সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাইয়ের ভক্ত, অনুসারী এবং লোক এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে আওয়ামীলীগের নেতা, কর্মি, ভোটার ও সাধারণ জনগণকে তার থেকে আলাদা করে জগনগন এবং তার মাঝখানে অবেহালা আর ঘৃনার বৈষম্যের বিশাল এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরী করে একলা চল নীতি অবলম্বন করে চলেছেন বর্তমান এমপি মহোদয়।

এহেন আচরনে দুর্গাপুর-পুঠিয়ার সর্বস্তরের নেতা, কর্মি, ভোটার ও সাধারণ জনগণ দিশেহারা হয়ে বিচার বিশ্লেষন করতে থাকে প্রয়াত নেতা তাজুল ইসলাম ফারুক সাহেব থেকে শুরু করে আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাই ও সর্বশেষ বর্তমান এমপি প্রফেসর ডাঃ মনসুর রহমান মহোদয় অবধি-

কোন নেতা তাদের সত্যিকারের নেতা ও সত্যিকারের অভিভাবক ?
কোন নেতা তাদের আশা ও ভরসার স্থল ?
কোন নেতা তাদের ভালবাসার মূর্ত প্রতীক ?
কোন নেতা তাদের দুঃখ কষ্ট ও যাতনাগুলো বুঝেন ?
কোন নেতা তাদের দুঃখ কষ্টের অংশিদ্বারিত্ব হয়ে দুঃখ কষ্টগুলো ভাগ করে নেয় বা নেওয়ার চেষ্টা করেন ?
কোন নেতা তাদেরকে ভালবাসা ও শাসন দিয়ে সযত্নে বুকে আগলে রাখেন ?
কোন নেতা তাদেরকে প্রকৃত অর্থে মূল্যায়ন করেন ?
কোন নেতা রোগগ্রস্ত অসহায় নেতা,কর্মি ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠির মাঝে অর্থ অনুদান সহ সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে তাদের পাশে এসে দাঁড়ান বা দাঁড়িয়েছেন ?

কোন নেতা তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতা,কর্মি ও সাধারণ ভোটারের সাথে সদা সর্বদা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন ?
কোন নেতা তাদেরকে সত্যিকার অর্থে জানেন,বুঝেন এবং চেনেন ?
কোন নেতা তাদের সাথে বন্ধুর মত সহজ সরল ভাবে মিশেন,কথা বলেন ও সুসম্পর্ক রেখে চলেন ?
কোন নেতা এলাকার উন্নয়নের কথা ভাবেন?
কোন নেতা দুর্গাপুর-পুঠিয়ার উন্নয়নের রুপকার ?
কোন নেতার বিরুদ্ধে শত বিরোধীতা করা সর্তেও সব ভুলে গিয়ে সকল অপরাধ ক্ষমা করে দিয়ে হাঁসি মুখে বুকে টেনে নেন বা নিতে পারেন?

সব মিলিয়ে তাদের সার্বিক বিচার, বিশ্লেষন ও চিন্তা, চেতনায় উঠে এসেছে তাদের প্রাণের প্রিয় নেতা প্রিয় অভিভাবক সাবেক এমপি ও রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক জননেতা আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাই এর নাম।

৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই মহান জননেতা কে রাজশাহী-৫ দুর্গাপুর-পুঠিয়া সংসদীয় আসনে মনোনয়ন না দেওয়া রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বৃহৎ এক ভুল ছিল বলেই সর্বস্তরের নেতা, কর্মি, ভোটার ও সাধারণ জনগণ মনে করেন।

যোগ্য পিতা না হলে যেমন যোগ্য সন্তান তৈরী করে সংসার সুখময় করে সুচারুরুপে সাজানো যায় না, ঠিক তেমনি যোগ্য নেতার হাতে নেতৃত্ব না দিলে যোগ্য কর্মী তৈরী করে দেশকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও সম্ভব হয় না।

তাই দুর্গাপুর-পুঠিয়ার সর্বকালের সর্বসেরা সর্বশ্রেষ্ট সুযোগ্য নেতা কর্মীবান্ধব, জনবান্ধব, জননন্দিত জননেতা আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাইকে আগামী সম্ভাব্য ৩০ শে ডিসেম্বর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৫ দুর্গাপুর-পুঠিয়া সংসদীয় আসনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিয়ে যোগ্য নেতার হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে সত্যিকারের অভিভাবককে তাদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট আকুল আবেদন করে চলেছেন দুর্গাপুর-পুঠিয়ার সর্বস্তরের নেতা,কর্মী,ভোটার ও সাধারণ জনগণ।

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু,
জয় হোক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার,
জয় হোক জননেতা আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ দারা ভাইয়ের,
জয় হোক দুর্গাপুর-পুঠিয়া বাসীর।
বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।

লেখক- শফি ডাক্তার, তথ্য বিশ্লেষন, গবেষক।

  • 577
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • জ্ঞানের রাজ্যে চৌর্যবৃত্তি
  • গণতন্ত্রের গুরুতর অবক্ষয়ের কাল
  • ‘মার্শাল ল’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য জনসাধারণের দৃঢ় বিশ্বাসেরই প্রতিফলন
  • সমস্যা বোরকার না মগজের?
  • শিক্ষার ধস ঠেকাবেন কীভাবে
  • করোনা, আত্মহত্যা ও সামাজিক সংকট
  • বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ৬ মাস: সামনে এবং পেছনে ফিরে তাকানো
  • ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস ও সমকালীন ভাবনা
  • অনাচারের স্বীকৃতি শুদ্ধাচার পুরস্কার!
  • ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ‘খালেদার মুক্তি’
  • দূর্গাপুর ও পুঠিয়ার রাজনীতির সেকাল-একাল এবং যোগ্য নেতা নির্বাচন
  • প্রণব মুখোপাধ্যায়: রাজনীতি ও বিতর্ক
  • বাংলাদেশে বড়লোক হতে চাইলে
  • ‘রাষ্ট্র কি দায় নেবে?’
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রাকৃতিক সমাধান ও করণীয়
  • উপরে