গোদাগাড়ীতে জঙ্গি আস্তানা, সেই ভয়াল দিন আজ

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২০; সময়: ১২:৩৬ pm |
খবর > মতামত

এম. আব্দুল বাতেন, গোদাগাড়ী : আজ সেই ভায়াল দিন গত ২০১৭ সালের ১১ মে এইদিন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের হাবাসপুর বেনীপুরে জঙ্গি আস্তান খোঁজ মিললে একই পরিবারের ৫ জঙ্গিসহ একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী আব্দুল মতিন জঙ্গিদের হাসুয়ার এলাপাথারি কোপে মারা যায়।

সেই দিন নিজ চোখে সব কিছু দেখে অবাক হয়েছি জঙ্গিরা আসলেই কতটা বেপরোয়া হয় আর আত্মঘাতি হয় কতটা।

সেদিন গোদাগাড়ীতে জঙ্গি আস্তানা ঘিরে ‘সান ডেভিল’ নামে পরিচালিত অভিযানে এক পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছে, তাদের হামলায় নিহত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী।

সেদিন বৃহস্পতিবার সকালে গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের হাবাসপুর মাছমারা বেনীপুর গ্রামে এ ঘটনায় বোমার স্প্লিটার ও জঙ্গিদের হামলায় সাত পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছে।

সেদিন নিহত পাঁচ জঙ্গির লাশ বাড়ির সামনেই পড়ে থাকে । তাদের মধ্যে ওই বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেন, তার স্ত্রী বেলী, তাদের ছেলে আলামিন, মেয়ে কারিমা এবং আশরাফুল নামের এক জঙ্গি ।

পুলিশ ও জঙ্গিদের যুদ্ধে সাজ্জাদের মেয়ে সুমাইয়া মাত্র কয়েকমাসের শিশু কোলে নিয়ে ও ৮-১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে জমির উপরে দাঁড়ালে আল্লাহর অলৈকিক ক্ষমতায় বেঁচে যায়। সেই সুমাইয়া নাকি তার পিতা ও ভায়ের জঙ্গি কর্মকান্ডের ঘোর বিরোধিতা করতো। এজন্যই হয়তো আল্লাহ তাকে ও দুই নিষ্পাপ শিশুকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

সকাল পৌনে ৮টার দিকে ওই বাড়ি থেকে কয়েকজন বেরিয়ে আসে এবং বাইরে থাকা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

এসময় ধারালো অস্ত্র হাতে এক নারী জঙ্গিকে দেখা যায় এলোপাতাড়ি কোপাতে। আহতদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ফায়ারম্যান আবদুল মতিন পরে হাসপাতালে মারা যান।

আজ হতে তিন বছর আগে এই ঘটনা নিজের চোখে দেখেছিলাম বলে এই দিনটি প্রতিবছর আসলে গা শিউরে উঠে জঙ্গিরা কতটা নিঃসংশ হতে পারে।

আসুন আমরা ও আমাদের পরিবারের ছেলে মেয়েদের নৈতিক শিক্ষা দিয়ে মানুষ করি। নিয়মিত খোঁজ খবর রাখি তারা কখন কি করছে, কাদের সাথে মিশছে নাকি জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে। এগুলো আমাদেরই দায়িত্ব।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী, রাজশাহী।

  • 534
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে