ফুল ভালোবাসতেন প্রিয়নবী

প্রকাশিত: ১১-০১-২০২১, সময়: ১১:০৮ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : যুগ যুগ ধরে মানবসভ্যতায় ফুলকে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়। এজন্যই ফুল ভালোবাসার প্রতীক, পবিত্রতার প্রতীক। মহানবী (সা.) ফুলকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তিনি (সা.) ফুলকে অনেক বেশি ভালোবাসতেন বলেই তার আদরের প্রিয় দুই দৌহিত্রকে ফুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এছাড়া শিশুদের প্রতি মহানবীর (সা.) ভালোবাসা ছিল অগাধ। এজন্য শিশুদেরকেও তিনি ফুলের সঙ্গে উপমা দিয়েছেন।

হজরত হাসান (রা.) ও হজরত হুসাইনকে (রা.) মহানবী (সা.) সুগন্ধময় ফুলের সঙ্গে উপমা দিয়েছেন। এ থেকে বুঝা যায় মহানবী (সা.) তাদের কতটা ভালোবাসতেন। এ বিষয়ে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে মহানবী (সা.) বলেছেন, হাসান ও হুসাইন দু’জন এই পৃথিবীতে আমার দু’টি সুগন্ধময় ফুল। (তিরমিজি)

হজরত আবু উসমান আন নাহদি (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, যদি কাউকে ফুল উপহার দেয়া হয়, সে যেন তা ফিরিয়ে না দেয়। কেননা তা জান্নাত থেকে আনা হয়েছে। (তিরমিজি শরিফ) এর অর্থ এটা নয় যে ফুলকে ব্যবহার করে আমি নানা অপকর্মে নিজেকে জড়িয়ে ফেলব বরং ফুলের ভালো ব্যবহার আমাদেরকে করতে হবে। সম্ভব হলে আমাদের বাড়িঘরে চারপাশ ফুলের বাগান করে সাজিয়ে রাখতে পারি।

নিজেদের ঘর, অফিস সবকিছুই আমরা ফুল দিয়ে সুন্দর করে সাজাতে পারি। এতে পরিবেশ যেমন ভালো থাকবে আর মনও ভালো এবং সতেজ থাকবে। হাদিসের শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থ বোখারি শরিফে উল্লেখ রয়েছে, রাসুলুল্লাহর (সা.) অভ্যাস ছিল, কেউ তাকে ফুল উপহার দিলে তিনি তা ফিরিয়ে দিতেন না।

মহানবী (সা.) জান্নাতের রূপ-সৌন্দর্য, সবুজ-সতেজ বাগ-বাগিচার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, যখন উপযুক্ত ব্যক্তি জান্নাতের দরজার কাছে যাবে তখন মন জুড়ানো, চোখ ধাঁধানো একটি ফুল দেখতে পাবে। সেই ফুলের ঘ্রাণে বিমোহিত হবে। সে অপলক দৃষ্টিতে নীরব মনে চেয়ে থাকবে। (বোখারি)

আমরা লক্ষ্য করি যে, কোন ফুলের বাগার বা দোকানের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলেও মনের মাঝে কেমন জানি একটা অন্য ধরণের অনুভূতির উদয় হয়। যে অনুভূতিটা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এজন্যই মহানবী (সা.) তার প্রিয় জিনিসগুলোকে ফুলের সাথে উপমা দিয়েছেন। হজরত আবু সাইদ (রা.) বলেন রাসুল (সা.) বলেছেন, আমার খুব আশঙ্কা হচ্ছে আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য জমিনের বরকত বন্ধ করে দেবেন। উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন হুজুর জমিনের বরকত কী? হজুর (সা.) বললেন, জমিনের ফুল।

সাহাবায়ে কিরামের বাগানেও শোভা পেত ফুলগাছ। আবু খালদাহ (রহ.) বলেন, আবুল আলিয়াহ (রহ.)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, হজরত আনাস (রা.) কি নবী (সা.) থেকে হাদিস শুনেছেন?

আবুল আলিয়াহ (অবাক হয়ে) বলেন, তিনি তো একাধারে ১০ বছর তার সেবা করেছেন এবং তার জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছেন। তার একটি বাগান ছিল, যাতে বছরে দু’বার ফল ধরত। ওই বাগানে একটি ফুলগাছ ছিল, যা থেকে কস্তুরীর ঘ্রাণ আসত। (তিরমিজি)

এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)কে কেউ সুগন্ধিযুক্ত কোনো বস্তু হাদিয়া দিলে তিনি তা ফেরত দিতেন না। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো সুগন্ধি-আঁতর ফেরত দিতেন না।’ (তিরমিজি)

আসলে ফুলের সৌন্দর্য মানুষকে পবিত্র হতে প্রেরণা জোগায়। শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে আমাদেরও উচিত, নিজেদের আমল আখলাক ফুলের মত পবিত্র করা।

আমরা যদি আমাদের হৃদয়কে ফুলের মত পবিত্র করতে পারি তবেই না আমরা আল্লাহর প্রকৃত বান্দা হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করব। আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে সেই তৌফিক দান করুন, আমিন।

  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a comment

উপরে