রাষ্ট্রীয় খরচে তিন জন করে প্রতিনিধি হজে পাঠানোর সুপারিশ

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২২; সময়: ২:১৩ pm |
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তিন জন করে প্রতিনিধিকে রাষ্ট্রীয় খরচে পবিত্র হজে পাঠাতে চান। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কমিটি ধর্ম মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে। অবশ্য করোনা পরিস্থিতিতে আগের তুলনায় কম সংখ্যক মানুষ হজে যাচ্ছেন উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় তাদের দুজন করে প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ধর্ম মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কমিটি এর আগে তাদের প্রত্যেক সদস্যকে ৫ জন প্রতিনিধি হজে পাঠানোর সুপারিশ করেছিল। জবাবে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশ থেকে এ বছর আগের তুলনায় কম মানুষ হজে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তাই রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রী অনেক কমে যাবে। সেই অনুযায়ী সুপারিশের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের কমিটির বৈঠকে তাদের সুপারিশ থেকে কিছুটা সরে এসে তিন জন প্রতিনিধি পাঠানোর কথা বলেন। এক্ষেত্রে প্রত্যেক সদস্যকে দুজন প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ দেওয়া যেতে পারে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কতজন করে প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ পাবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এর আগে ২০১৯ সালে সংসদীয় কমিটির প্রত্যেক সদস্যের সুপারিশে পাঁচজন করে সরকারি খরচে হজে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত দুই বছর বাংলাদেশ থেকে কেউ হজে যাওয়ার সুযোগ পাননি।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য ১০ জন। প্রত্যেকের ৩ জন প্রতিনিধিকে হজে পাঠাতে হলে কমিটির সদস্যদের সুপারিশে মোট ৩০ জনকে হজে পাঠাতে হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে জনপ্রতি ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা থেকে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা খরচ হবে।

বৈঠক শেষে ধর্ম মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রুহুল আমীন মাদানী গণমাধ্যমকে বলেন, এ বছর আগের চেয়ে কম মানুষ হজে যাবেন। মন্ত্রী বলেছেন, সংসদীয় কমিটির সদস্যরা দুজন করে প্রতিনিধি পাঠাতে পারবেন। তবে কমিটির সদস্যরা তিন জন করে পাঠানোর সুযোগ দিতে বলেছেন। এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।

সংসদীয় কমিটির সদস্যরা কেন সরকারি খরচে তাঁদের প্রতিনিধিদের হজে পাঠাবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে রুহুল আমীন মাদানী বলেন, এটি আগে থেকেই হয়ে আসছে। যারা ধর্ম মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য তাদের ওপর নির্বাচনি এলাকার মানুষের দাবি থাকে হজে পাঠানোর। এই কমিটির সভাপতি হওয়ায় তার কাছে অনেকেই সরকারি খরচে হজে যাওয়ার দাবি নিয়ে আসছেন।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে আলেম নামধারী মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে আসন্ন হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না করার বিষয়ে লক্ষ্য রাখা, সারাদেশে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদগুলো বর্তমান সরকারের মেয়াদে দ্রুত শেষ করা, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের যাতায়াতে বিমান ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে আনার এবং সারা দেশের ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো জাতীয়করণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগের বৈঠকে কমিটি সুপারিশ করেছিল ‘আলেম নামধারী মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে আসন্ন হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না করার’। কমিটির সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই সুপারিশ করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এ বিষয় ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলেম নামধারী মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে হজের কাজে সম্পৃক্ত না করার বিষয়ে লক্ষ্য রাখা হবে।

কমিটির সভাপতি রুহুল আমীন মাদানীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, শওকত হাচানুর রহমান, মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, জিন্নাতুল বাকিয়া, তাহমিনা বেগম ও বেগম রত্না আহমেদ অংশ নেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে